চট্টগ্রাম রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

২৬ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১:০৭ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না কেজি স্কুল

অন্যান্য বছরের এই সময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতো কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুলগুলো। কিন্তু করোনার কারণে ভর্তির মৌসুমেও শিক্ষার্থী পাচ্ছে না নগরী ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা এসব বেসরকারি স্কুল।

অন্যদিকে, মার্চের পর থেকে অভিভাবকদের কাছ থেকে বেতন না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ স্কুলের ভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না। মাসের পর মাস স্কুল বন্ধ থাকা এবং ভবিষ্যতে কখন স্কুল চালু হবে তার নিশ্চয়তা না থাকায় কেজি স্কুলে ভর্তির প্রতি অভিভাবকদের এমন অনীহা রয়েছে বলে জানা যায়। এভাবে চলতে থাকলে স্কুল বন্ধ করার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন

বাকলিয়ার মিয়াখান নগর এলাকার ট্যালেন্ট কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক ও বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট কবিরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছরের এই সময়ে পুরনো শিক্ষার্থী ছাড়াও নতুন ২০০-৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হতো। এবছর এখনো মাত্র সাত থেকে আটজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। অভিভাবকদের সাথে কথা বলে যেটি জানতে পারলাম। তাদের বক্তব্য হচ্ছে- এখন তো স্কুল খুলছে না, তাহলে ভর্তি করিয়ে কি হবে। স্কুল যখন খুলবে, তখন ভর্তি করাবো। তিনি আরো বলেন, অনেক অভিভাবক বেতন দেয়ার ভয়ে স্কুলে আসছে না। ফোন করলেও তারা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে বলে জানায়। কিন্তু খবর নিয়ে জানতে পারি, তারা শহরেই আছে। শুধুমাত্র বেতন না দেয়ার জন্য তারা গ্রামে চলে গেছে বলছে। অন্যান্য বছরগুলোতে, প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় একবার বেতন নেয়া হতো। একইভাবে দ্বিতীয় সাময়িক ও  বার্ষিক পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন নেয়া হতো। কিন্তু এবার করোনার কারণে কোন বেতন দেয়নি। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, অর্ধেক বেতন দিতে পারলে বাকি অর্ধেক মাফ করে দিব। এরপরও বেতন দিচ্ছে না কেউ।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডিআইএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, অন্যান্য বছরের এই সময়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য এক প্রকারের চাপ থাকে। পুরনো শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নতুন কিছু শিক্ষার্থীও ভর্তি হতো। কিন্তু এবারের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিক্ষার্থী ভর্তির কোন নিশ্চয়তা দেখছি না। অন্যদিকে, ২০২০ সালের কোন বেতনও পরিশোধ করেনি কোন শিক্ষার্থী। বর্তমানে সবকিছু মিলে হয়তো ২০-২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার ডন ভিউ কেজি স্কুলের পরিচালক ও বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম নুরুল বশর ভুইয়া বলেন, করোনার কারণে সরকার অনেক খাতে প্রণোদনা দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষাখাতের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে এখনো কোন প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। এটি আসলেই দুঃখজনক। এই বছর স্কুল ভাড়া দিতে না পেরে অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে এতে, কোন সন্দেহ নেই। যদি সরকার থেকে সামান্য সাহায্য পেত, তাহলে এসব স্কুল টিকে থাকতে পারতো।

তিনি আরো বলেন, আমার স্কুলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক স্কুল বন্ধের পর থেকে এক মাসেরও বেতন দেয়নি। আমরা অভিভাবকদের একাধিকবার অনুরোধ করেছি, আপনারা ২-৩ মাসের হলেও বেতন দেন। কিন্তু কেউ দিচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে, স্কুল বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোন বিকল্প থাকবে না। দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধি করার পিছনে এই কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো বিরাট একটি ভূমিকা রয়েছে। এটাতো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1110 People