চট্টগ্রাম বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

২২ জানুয়ারি, ২০২০ | ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বিমানবন্দরগুলোতে রেমিটেন্স দাতাদের সম্মান চাই

যদি প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদানটি কার? এক কথায় উত্তর আসবে রেমিটেন্স দাতাদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীদের রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে যতটা শক্তিশালী করে তুলছে তার সমকক্ষ কিছুই হতে পারে না। অথচ সেই চরম দুর্ভাগা প্রবাসীদের বিদেশ যাওয়া এবং ফেরত আসার সময় কতিপয় কর্মকর্তাদের অসদাচরণ ও দুনীতির মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিমানবন্দরে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় তা এককথায় খুবই তিক্ত, অসম্মানজনক, সর্বোপরি অমানবিক। বিদেশে থাকা শ্রমিকরা প্রতিবছর প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার পাঠায়। প্রতিবছর এ মুদ্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। (২০০৫-২০০৬) অর্থবছরে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯ অর্থবছরে তা ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতির গতি প্রতিনিয়ত সচল রয়েছে তাদের সাথে এমন অসদাচরণের শেষ কোথায়? সংশ্লিষ্টরা দেখেও না দেখার ভান করে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় অনেক প্রবাসী মিডিয়ার কাছেও হয়রানির নানা অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। নিরাপত্তার নামে বিমানবন্দরে রেমিটেন্স দাতাদের হয়রানি আর কতকাল ধরে চলবে?

বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে যেভাবে বিপুল সংখ্যক যাত্রীদের সেবা দেয়া হয় এখানেও সেরকম আধুনিক সেবার ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে- বিমানবন্দরের শৃংখলা, স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও গতিশীলতা নিশ্চিত ছাড়া রেমিটেন্স, বিনিয়োগ, পর্যটন ও দেশের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগই সফল হবে না। তাই বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য গতিশীল, ঝামেলা মুক্ত ও সম্মানজনক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

জিসান মাহমুদ
কুয়েত।

The Post Viewed By: 69 People

সম্পর্কিত পোস্ট