চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ মে, ২০১৯ | ২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নাওজিশ মাহমুদ

প্রায়-ঐতিহাসিক যুগ ঃ সিন্ধু সভ্যতা ও বাঙালি

তামার আবিষ্কারের পরই মানুষ পাথরের যুগ থেকে তামা-পাথর যুগে প্রবেশ করে। গ্রামীণ সমাজ থেকে নগর সভ্যতার উত্থান ঘটে। এই যুগে পাথরের পাশাপাশি তামা ব্যবহার করতো বলে তামাশ^ বা তা¤্রপ্রস্তর বা তামা-পাথর যুগ বলা হয়। মানুষ এই তামা খনিজ থেকে আহরণ করা তখনও শিখে নি। পাহাড়ী অঞ্চলে বা পাদদেশ থেকে সংগৃহীত তামা সম্বলিত পাথরকে আগুনে তাপ দিলে অক্সিজেন অপসারিত হলে খাঁটি তামা বেরিয়ে আসতো, যা পাথরের মত শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর নয়। সহজে গরম করে বিভিন্ন রূপ দেয়া যায়।
তামা ঢালায় করে মানুষ হাতিয়ার বানানো শিখে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ বছর পূর্বে। ছাঁচ তৈরী করাও তখন শিখেছে। পাথরের হাতিয়ারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বৃক্ষ কাটা বা কাঠ চেরাই সহজ হয়ে পড়ে। ফলে, উন্নতমানের নৌকা এবং লাঙল তৈরী করা শিখে ফেলে। কৃষিকাজে আরো উৎকর্ষতা অর্জন করে। তামার তৈরী ধাতুর পাত্রে রান্নার উৎকর্ষতা খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব ফেলে। সভ্যতার প্রস্তুতি হিসেবে তামা-পাথর যুগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষিকাজে তামারের যন্ত্র ব্যবহারের কারণে খ্যাদ্য উদ্বৃত্ত থেকে যাওয়ায় মানুষ নগর সভ্যতার দিকে একধাপ এগিয়ে যায়। এই সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ঘটে, তা হচ্ছে চাকা আবিষ্কার। এর পুর্বে চাকা ছাড়া বরফের উপর কুকুর এবং হরিণ দিয়ে স্লেজ গাড়ী টানা হতো।
চাকা আবিষ্কারের পর পশুর মাংস খাওয়ার পাশাপশি চাকার সাহায্যে গাড়ি টানাতে পশুর ব্যবহার শুরু হয়। এরপর মানুষ আবিষ্কার করে তামার সাথে টিন মিশালে আরো উন্নত এবং শক্ত হাতিয়ার বানানো যায়। তামার এবং টিনের সমন্বয়ে ব্রোঞ্জ ব্যবহার শুরু হয়। এই যুগকে বলা হয় তামা-ব্রোঞ্জ যুগ। ব্রোঞ্জ ব্যবহারের ফলেই বিশে^ নতুন সভ্যতা গড়ে উঠে। মিশরীয় সভ্যতায় মেসোপটেমীয় সভ্যতা, পারস্য সভ্যতা, হীব্রু সভ্যতা, হিট্টাইট – ফ্রিজীয় সভ্যতা, লিডীয় সভ্যতা, ফিনিশীয় সভ্যতা, মাইনোসী-মাইসনিও সভ্যতা, গ্রীসিও সভ্যতা, হেলেনিস্টিক সভ্যতা, রোমক সভ্যতা এবং ভারতে বুকে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠে। এই সভ্যতার ভিত্তিই হলো নগরের উত্থান ও মৌখিক ভাষার লিখিত রূপ। সিন্ধু সভ্যতার লিখিত রূপ পাওয়া গেলেও পাঠোদ্ধার সম্ভব হয় নি। তাই একে প্রায়-ঐতিহাসিক যুগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
লিপির ভিত্তিতে ইতিহাসকে তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। একটি প্রাগৈতিহাসিক যুগ। যে পর্বে লিপির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। যেমন পাথরের যুগ। আরেকটি হলো প্রায়-ইতিহাস যুগ। লিপির অস্তিÍত্ব পাওয়া গেলেও পাঠ উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। ভারতবর্ষেও তা¤্রযুগ ও সিন্ধু সভ্যতা। আর, যে সময় থেকে লিখিত আকারে ইতিহাস পাওয়া গিয়েছে তাঁকে বলা হয় ঐতিহাসিক যুগ। ভারতে বৈদিক আর্য সভ্যতা থেকে আজ পর্যন্ত। ইতিহাসের সাথে আরেকটি জিনিষ খুবই প্রাসঙ্গিক হলো খ্রিস্টপুর্ব এবং খ্রিস্টাব্দ। ইতিহাসের সময়কাল নির্ধারণের জন্য যিশু খ্রিস্ট বা হযরত ইসা (আঃ) জন্ম তারিখকে শূন্য একক ধরে ইতিহাসের সাল গণনা করা হয়। এর পূর্বের বছরকে খ্রিস্টপূর্ব এবং এর পরের বছরকে খ্রিস্টাব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ভারতের প্রায়-ঐতিহাসিক যুগ মূলত তা¤্রযুগ। মুখের ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। বর্ণমালার মাধ্যমে ভাষাকে লিখিত রূপও পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস জানা যাচ্ছে না, পাঠ উদ্ধার করতে না পারায় । ভাষার লিখিত রূপ দেয়ার আগে মৌখিক ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে। ভারতবর্ষে মৌখিক ভাষার উৎপত্তি হয়েছে ৫০,০০০ হাজার পূর্বে। ভাষার উৎপত্তি হলেও লিখিত রূপ পাওয়া গিয়েছে সিন্ধু সভ্যতায় ৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বে। সিন্ধু সভ্যতার ব্যাপ্তি ছিল আয়তনে প্রায় ১৩ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। সময়কাল ছিল ৮০০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ১০০০ খ্রিস্ট পূর্ব পর্যন্ত। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বছর ধরে টিকে ছিল। যা ছিল পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতার তুলনায় অর্থাৎ পাথরের নতুন যুগ থেকে শুরু তা¤্র যুগ ও লৌহ যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত।
আরেকটি বৈশিষ্ট্য লক্ষনীয়, সিন্ধু সভ্যতার বড় দুটি নগর হরপ্পা ও মহেঞ্জদারো পরীক্ষা করে দেখা যায়, নগরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুর আক্রমণের বদলে বন্যা থেকে রক্ষার জন্য করা হয়েছিল। যুদ্ধের কোন হাতিয়ার পাওয়া যায় নি। কোন রাজপ্রাসাদ, রাজার সমাধি বা মন্দির পাওয়া যায় নি। তেমনি কেন্দ্রীভূত কোন রাজধানীরও অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। নগরের বিন্যাস থেকে প্রশাসন স্বৈরাচারী শাসনের বদলে সকলের প্রতি সাম্য বজায় ছিল। কর্তৃত্বধারী একক না হয়ে যৌথ ছিল এবং বণিক শ্রেণীর আধিপত্য ছিল। নগরের অন্যান্যরা সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো।
সিন্ধু সভ্যতা ছিল ভারতবর্ষের গৌরবময় প্রাচীন সভ্যতা, যা বিশে^র সমসমায়িক সভ্যতার সাথে তুলনীয়। এটা ছিল তাম্র যুগে নদীকে কেন্দ্র করে বিকশিত উন্নত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। এই সভ্যতার ব্যাপ্তি প্রথমে শুধু সিন্ধু অঞ্চলে মনে করা হতো। পরবর্তীকালে বেলুচিস্তান ও আফগানিস্থানসহ ভারতের ব্যাপক অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত বলে জানা যায়। ধর্মীয় কর্তৃত্ব এবং প্রশাসনিক কর্তত্ব একক হাতে ছিল বলে মনে করা হয়। খ্যদ্য ছিল প্রধানত গম বা রুটি। নানা ধরণের তরকারী, মাংস, দুধ এবং বিভিন্ন পশুর মাংস। ভাতেরও প্রচলন ছিল। তার সাথে তাজা মাছ ও শুটকি। নারী পুরুষ একই ধরনের তুলো ও পশমের পোষাক পরতো।। অলংকার হিসেবে সোনা রূপা তামা ও দামী পাথর ব্যবহার করতো। পায়ের নূপুরেরও চল ছিল। বিস্ময়কর হলেও ভ্যানিটি ব্যাগও ব্যবহার করতো।
অর্থনীতি ছিল কৃষি ভিত্তিক। লিপির পঠোদ্ধার করতে না পারায় অনেক তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের ধর্মীয় বিশ^াস সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। তবে অগ্নিপূজা, বৃক্ষ জলের পূজা, মাতৃপূজার চল ছিল অনুমান করা হয়। তবে, তাঁদের নগরবিন্যাস ছিল সমসাময়িক বিশে^র মধ্যে শ্রেষ্ঠ। প্রশস্ত রাস্তা, পরিকল্পিত গৃহনির্মাণ, উন্নত পয়ঃপ্রণালী বড় বড় ¯œানাগার এবং মজবুত শস্যাগার ছিল তাঁর নগরসমূহের বৈশিষ্ট্য। সুরাটের নিকটবর্তী ক্যাম্বে উপসাগরের ৩০/ ৪০ মিটার গভীরে আরেকটি নগর পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় আছে, মহেঞ্জদারোর মতই বিশাল নগর, যাতে বড় বড় গোসলখানা ও শস্যাগার এবং বাঁধের অস্তিত্বও পাওয়া গিয়েছে।
তবে, এই সভ্যতা কারা গড়ে তুলেছে তা নিয়ে বিতর্ক আছে। একাধিক গোষ্ঠী এই সভ্যতা গড়ে তোলার ব্যাপারে অবদান রেখেছে বলে মনে করা হয় । তাদের মধ্যে অষ্ট্রিক, দ্রাবিড় এবং আলপাইনদের ভূমিকাই বেশী। বাঙালির গ্রামীণ সমাজে অভিজাতরা বিভিন্ন অলংকারাদি, গৃহস্থলীর উপকরণ তৈরীতে, রান্নাবান্নার কাজে, ফুলদানীতে টেবিল ল্যাম্প ও ঝাড়বাতিতে পিতল এবং কাঁসার ব্যবহারের একচেটিয়া প্রাধান্য সিন্ধু সভ্যতাকে স্মরণ করিয়ে দেয় । এই পিতল হচ্ছে তামা ও দস্তার সংমিশ্রণ। আর তামা ও টিনের মিশ্রণে কাঁসা হচ্ছে ব্রোঞ্জের স্থানীয় নাম। তেমনি এটা দাবী করা অসংগত হবে না , এই বাঙালিদের পূর্ব পুরুষ অষ্ট্রিকরা সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম কারিগর নয়তো? কারণ বাংলা থেকে সরবরাহকৃত তামার মাধ্যমেই সিন্ধু সভ্যতার ভিত্তি।
ভারতে বিভিন্ন অঞ্চলে পাথরের যুগ, তামা-পাথরের যুগ, তামা-ব্রোঞ্জ পাশাপশি অবস্থান করেছিল। তাই, মিশ্রিত ভাবে এর সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। বাংলাদেশে প্রায়-ইতিহাস যুগের উদাহারণ বীরভুমের পা-ু রাজার ঢিবি, যা শান্তিনিকেতনের পাশে। এখানে মানুষ বাস করতো খ্রিস্টপুর্ব ২০০০ বছর পূর্বে। অর্থাৎ প্রায়-ঐতিহাসিক যুগে। এই ঢিবির চারটি যুগের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। প্রথম যুগে বন্যার কারণে পরিত্যাগ করার পর দ্বিতীয় যুগে তামা সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়। পা-ু রাজার ঢিবির দ্বিতীয় যুগে স্বর্ণ শিখরে পৌঁছেছিল। বাণিজ্যই ছিল প্রধান যার অবলম্বন। এই বাণিজ্য ছিল সমুদ্র পথে বিদেশের সাথে। তার সূত্র ধরে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে দ্রাবিড়রা এই অঞ্চলে এসেছিল। বিশেষ করে তামা সংগ্রহ করতে। দ্রাবিড়দের বিরাট অংশ বাংলায় আগমন করে এবং বসতি স্থাপন করে।
মহাভারতের ঘটনা তাম্রযুগের বলে প-িতদের একটি অংশ দাবী করেন। পঞ্চ-পা-বেরা দ্রৌপদীকে এই বাংলা অঞ্চল থেকে স্বয়ংবর সভায় জয় করে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে অনেকে মতপ্রকাশ করেন। সেই হিসেবে দ্রৌপদী আদি বাঙালি বা অস্ট্রিক। পা-ু রাজার ঢিবির সাথে মেসোপটিমিয়ার সুমেরু সভ্যতা ও ভূমধ্যসাগরের অবস্থিত গ্রীস সংলগ্ন ক্রিটদের সাথেও যোগাযোগ ছিল। এই সকল সভ্যতার সাথে সিন্ধু সভ্যতার অনেক কিছুর সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। পা-ুরাজার ঢিবিতে মাতৃপূজার যেমন প্রচলন ছিল তেমনি বাংলার রাজমহিষীরা দেহের উপরে অংশ অনাবৃত রাখতো যা সুমেরু ও ক্রিট সভ্যতার সাথে মিলে যায়। দেহের উপরে অংশ অনাবৃত রাখা সুমেরু থেকে বাংলাদেশে এসেছে না বাংলাদেশ থেকে সুমেরুতে গিয়েছে তা নিশ্চিত নয়। শুধু তাই নয় সিন্ধু সভ্যতার মাছ ও ভাতের সংস্কৃতি বাংলা থেকে গিয়েছিল। তাজা মাছের অভাব পূরণের জন্য বাংলা থেকে শুঁটকি যেত। তামার বড় ভা-ার ছিল বাংলার পাহাড়ের পাদদেশে এবং তামার ব্যবহার বাংলায় প্রথম চালু হয়েছিল । ভারতের প্রধান তামার খনি বাংলার ধলপুরে। এই জন্য ঐ সময় বাংলার প্রধান বন্দরের নাম ছিল মেদিনী পুরের তা¤্রলিপ্ত। বাংলা থেকে এই তামার সভ্যতা ভারতে বিশেষ করে সি›ন্ধু সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। বাংলার ঘরে ঘরে তামা এবং কাঁসার প্রচলন দেখে মনে হয় এখনও সিন্ধু সভ্যতার ঐতিহ্যকে এই বাঙালি ধারণ করে আছে।
বাংলাদেশে হিন্দু সমাজের মধ্যে এখনও মাতৃপূজা সবচেয়ে বেশী। বাংলার মাতৃপ্রাধান্য দুর্গা পূজা এবং সরস্বতী পূজা অন্যতম প্রধান পূজা উৎসব। সুমেরু সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা এবং পা-ু রাজার ঢিবি সভ্যতার ভিত্তি ছিল মাতৃপূজা। সমুদ্রের বাণিজ্য এবং যোগাযোগের মাধ্যমে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, পরস্পরের সহযোগিতায় তা বিকশিত হয়েছিল। যেখানে মাতৃত্বের প্রাধান্য ছিল বেশী।
তামার ব্যবহার আবিষ্কারের ফলে তামা-পাথরের ও তামা-ব্রোঞ্জকে ভিত্তি করে নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। বাংলায় তামার আধিক্য এখানে নগর সভ্যতা বিকাশের জন্য ছিল সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ। বাংলার গ্রামীণ সমাজ থেকে নগর সভ্যতার উত্তরণে বীরভূমের পা-ু রাজা উত্থান এবং তা¤্রলিপ্ত বন্দরের অবস্থান জানা গেলেও নদীর গতি পরিবর্তন এবং বন্যার স্রােতের কারণে ভাঙন প্রবণ এই বাংলাদেশে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গিয়েছে বা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অনেক সময় প্রতিকুল আবহাওয়ায় পরিত্যক্ত হয়েছে। নরসিংদীর উয়ারী বটেশ^রের খননকৃত নিদর্শন প্রায়-ঐতিহাসিক যুগের কিনা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে বর্ধমানের ভরতপুর ঢিবি, বীরভূমের যখরডাঙ্গায়, মেদিনীপুরের তামজুড়ি গ্রামে, পুরুলিয়ার হারা ও চাতলা গ্রামে প্রত্নখননের ফলে প্রায়-ঐতিহাসিক যুগের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। খ- খ- আবিষ্কারের ফলে হরপ্পা-মহেঞ্জদারোর মত বড় নগরের সন্ধান না পেলেও বাংলার স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামসমূহ তামা সভ্যতার পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল। প্রধান নগর পা-ু রাজার ঢিবি এবং বাণিজ্যের কেন্দ্রভূমি তা¤্রলিপ্তকে কেন্দ্র করে প্রায়-ঐতিহাসিক যুগের পুরুলিয়া-মেদিনীপুর-বাঁকুড়া এবং বর্ধমান অঞ্চল জুড়ে তামা-পাথর ও তামা- ব্রোঞ্জ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে অনুমান করা যায়। শুধু মাত্র সঠিক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের মাধ্যমে এই বাঙালি যে একটি প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে এই অঞ্চলে দাপটে বিরাজ করেছিল, তা প্রমাণিত হবে। “বাঙালির প্রাচীন ইতিহাস নাই” – এই অপবাদ থেকে মুক্তি পাবে।

লেখক : রাজনীতি বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

The Post Viewed By: 340 People

সম্পর্কিত পোস্ট