চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ মে, ২০১৯ | ২:০৪ পূর্বাহ্ণ

এস এম সুলতান

(১৯২৪-১৯৯৪) জন্ম. মাসিমদিয়া গ্রাম, নড়াইল, ১৯২৪। চিত্রশিল্পী। পিতা-মেছের ধাউড়িয়া। পিতৃদত্ত নাম লাল মিয়া। এক নি¤œবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্ম। পিতার পেশা ছিল রাজমিস্ত্রিগিরি। পাঁচ বছর বয়সে স্থানীয় বিদ্যালয়ে ভর্তি। দারিদ্র্যের কারণে কৈশোরে স্কুলের পাঠ ত্যাগ করে পিতার রাজ মিস্ত্রি কাজের জোগানদার হিসেবে নিয়োজিত। এ সময়ে নিজে নিজেই ছবি আঁকতে শেখেন। কাঠ-কয়লা, কাঁচা হলুদ ও পুঁই গাছের ফলের রস দিয়ে ছবি আঁকতেন। এ সকল ছবি স্থানীয় জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের দৃষ্টিতে পড়ে। পুরস্কারস্বরূপ তিনি লালমিয়াকে ছবি আঁকার কিছু রং কিনে দেন এবং স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। স্কুলের ছাত্র থাকাকালে বিখ্যাত রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদ শ্যাম প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি এঁকে খ্যাতি লাভ। স্কুলের শেষ পরীক্ষায় পাস করার পূর্বে লালমিয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। ধীরেন্দ্রনাথের পত্র নিয়ে তিনি কলকাতায় শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখা করেন। শাহেদ সোহরওয়ার্দী লাল মিয়াকে নিজ গৃহে আ শ্রয় দেন এবং তাঁর নাম রাখেন শেখ মুহম্মদ সুলতান (এস এম সুলতান)। মাত্র তিন বছর পরেই আর্ট স্কুল ত্যাগ করে ভবঘুরে জীবন শুরু। তখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) কাল। পাঁচ-দশ টাকার বিনিময়ে গোরা সৈন্যদের ছবি আঁকতেন, আর ভারতের শহর থেকে শহরে ঘুরে বেড়াতেন। ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর কলকাতা ত্যাগ করে পাকিস্তানে আগমন (১৯৫১)। লাহোরে বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক মাওলানা মাশরেকীর ¯েœহ লাভ এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় খাকসার পার্টির সদস্য হন। বেশ কিছুকাল লাহোরের খাকসার ক্যাম্পে অবস্থান। করাচি আর্ট স্কুলে দুই বছর শিক্ষকতা। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন শহর ভ্রমণ। সে সব স্থানে ছবি এঁকে খ্যাতি অর্জন। ১৯৫৫-তে দেশে ফিরে এসে চিত্রা নদীর তীরে জন্মভূমি নড়াইলের মাসিমদিয়া গ্রামে স্থায়ী আবাস স্থাপন। যুগ প্রবর্তক চিত্রশিল্পী। কৃষক, জেলে, কামার, কুমোর তথা পল্লীর শ্রমজীবী মানুষের জীবন জীবিকা সংগ্রাম, সমস্যাসংকট তাঁর চিত্রের ক্যনভাসে উদ্ভাসিত। চিত্রের অনুষঙ্গ হিসেবে এসেছে খড়ের ঘর, খালবিল, গাছপালা, সনাতন চাষের উপকরণ, মাছ ধরার গ্রামীণ সরঞ্জাম, সংগ্রামের প্রতীকা ঢাল, সড়কি, রামদা, বল্লম লাঠি। সুলতানের তুলিতে বাংলার কৃষক-কৃষাণী অঙ্কিত হয়েছে বীর হিসেবে। তাঁদের এঁকেছেন পেশিবহুল শক্তিশালী নর নারী রূপে। কৃষক সমাজকে বলবান হিসেবে অঙ্কন করে চিত্রকলায় এক নতুন মাত্রা সংযোজন। অকৃতদার এস এম সুলতান ছিলেন আত্মপ্রচারবিমুখ, সংসার বিরাগী ও কৃষ্ণ-অনুরাগী। মৃত্যু. ১০ অক্টোবর ১৯৯৪।

The Post Viewed By: 106 People

সম্পর্কিত পোস্ট