চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

১৭ মে, ২০১৯ | ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

সাইমুম চৌধুরী

ইফতার ও সাহারি

রমজানে সবচেয়ে বেশি আনন্দঘন পরিবেশ হলো ইফতারের সময়টা। পুরোদিন একজন রোজাদার কিছু না খেয়ে এমনকি প্রচন্ড রোদ গরমে পিপাসায় কাতর হয়ে গেলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে তাই এক ঢোক পানি পর্যন্ত গ্রহণ করে না।
ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ইফতার সামগ্রী সামনে নিয়ে বসে থাকেন নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষায় কখন সাইরেন পড়বে বা মুয়াজ্জিন আজান দেবেন। এটিই হলো ধর্মীয় অনুভূতি এবং বিশ^াসের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও শ্রদ্ধাবোধ। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তের এই সময়টা একজন রোজাদার ব্যক্তির জন্য বড় মূল্যবান।
মহানবী (সা.) বলেছেন, “রোজাদার ব্যক্তির জন্য দুটো খুশি। একটি ইফতারের সময় অপরটি আল্লাহপাকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।” হাদিসে বর্ণিত, ইফতার সামনে নিয়ে যে দোয়া করা হয় সেই দোয়া আল্লাহ পাক কবুল করেন।
রমজানের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত সমূহের মধ্যে অন্যতম হলো ইফতার। হযরত আবুহুরায়রা বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, আমার বান্দাদের মধ্যে তারাই আমার বেশি প্রিয় যারা দ্রুত ইফতার করে। (তিরমিজ, আল ফিয়াতুল হাদিস ৫৬০)। ইফতার শুধু খাদ্যগ্রহণ নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুল (সা.) বলেন, “ যতদিন লোকেরা ওয়াক্ত হওয়া মাত্র ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। (বুখারি সওম অধ্যায় হাদিস ১৮৩৩)।
খুবই দুঃখজনক হলো আমরা অনেকেই বাসা বাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক সংগঠনের ইফতার পার্টিতে ইফতার সামনে রেখে নানাবিধ আলাপ আলোচনায় জড়িয়ে পড়ি। বরং তা না করে ইফতার সামনে রেখে যদি আল্লাহ আল্লাহ জিকির করি এতে আমরা আল্লাহর দরবারে বেসুমার সওয়াব লাভ করবো।
রোজা বা সিয়াম পালনের উদ্দেশ্যে শেষ রাতে পানাহার করার নামই হলো সাহারি। সাহারি খাওয়া সুন্নত। রোজা পালন করতে হলে সারাদিন কোন প্রকার খাদ্য গ্রহণ এমন কি পানি পর্যন্ত পান করা যায় না। তাই, আল্লাহ পাকের বিধান মতে নিশিরাতের পর থেকে সুবেহ সাদেক তথা ফজর ওয়াক্তের পূর্বের সময় পর্যন্ত সাহারি গ্রহণের সময়।
হযরত আবু সাইদ খুদবী (রা.) এর বর্ণনায় জানা যায় রাসুলে করিম (সা.) বলেন “তোমরা সাহারি খাও যদি তা এক ঢোঁক পানিও হয়। তিনি অন্যতম এও বলেছেন, “ তোমরা সাহারি খাও যদি এক লোকমা খাদ্যও হয়।” এতেই বুঝা যায়, যত সামান্য খাদ্য বা একটু পানি হলেও সাহারি হিসেবে গ্রহণ করলে তাতে সাহারির সুন্নত পূর্ণ হবে।
একজন রোজাদার ব্যক্তির সাহারি খাওয়া খুবই প্রয়োজন। তাছাড়া রোজাপালনের নিমিত্তে ও মানসিকতায় সাহারির সময়ে ঘুম থেকে উঠে সাহারি গ্রহণ করা ইবাদতের প্রতি আনুগত্য। তাছাড়া, এ সময়ে উঠে সাহারি গ্রহণ করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের একটি সুবর্ণ সুযোগ। এভাবে পুরো রমজানের একটা মাস তাহাজ্জুদ নামাজ পড়লে একসময় তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যাবে। এই সময়টা আল্লাহ প্রেমিক মানুষের দোয়া কবুলের সময়।
একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, নিজেরা সাহরি খাওয়ার সাথে সাথে প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন বা অভাবীদের বিষয়েও খবরা খবর রাখতে হবে। পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ প্রত্যেক রোজাদার ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য। আদর্শম-িত রমজান মাস হোক সবার জন্য আনন্দের ও সুখের।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 349 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট