চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২১ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:১৪ পূর্বাহ্ন

দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন গুজবে লবণের বাজারে অস্থিরতা

পেঁয়াজের পরে এবার আলোচনায় এসেছে লবণের বাজার। মুনাফাশিকারিদের লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে মাসদুয়েক ধরে চলেছে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা।

নানা কৌশলে অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে ভোক্তাসাধারণের পকেট থেকে লুঠ করেছে প্রায় দু’হাজার কোটে টাকা। বাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপের পর পেঁয়াজের বাজার কিছুটা শান্ত হলে মুনাফাশিকারিরা হঠাৎ সংকটের গুজব ছড়িয়ে লবণের বাজারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। লবণের দাম দুইশ টাকা হবে-এমন গুজবের পর খুচরা বাজারে লবণ কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। একেকজন ক্রেতা ৭/৮ কেজি লবণ কিনে নিয়ে যান। এ অবস্থায় মঙ্গলবার অনেক খুচরা বিক্রেতার মজুদও শেষ হয়ে যায়। আর এই সুযোগ অসাধু বিক্রেতা হাতিয়ে নেয় প্রতি কেজি লবণে ১০-১৫ টাকার বেশি মুনাফা। তবে আশার কথা হ”ে, সরকারের ত্বরিৎ পদক্ষেপ এবং গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে লবণের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার সুযোগ পায়নি মুনাফাশিকারিরা।

গণমাধ্যমের খবর বলছে, সোমবার বিকালের পর গুজবের শুরুটা হয়েছিল সিলেট থেকে। এরপর সেখানকার এক শ্রেণির অসাধু চক্র অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। দাম উঠিয়ে ছাড়ে প্রতিকেজি ১২০ টাকা পর্যন্ত। এরপর মঙ্গলবার কোথাও ৫০ কোথাও ১০০ আবার কোথাও ১২০ টাকা দরে বিক্রি হতে থাকে মাত্র ৩৫ টাকার লবণ। তবে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে অনেক স্থানেই দুুপুরের পর দোকানিরা ৩৫ টাকায় লবণ বিক্রি করেন। প্যাকেটের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, বেশি মুনাফা করার অসৎ উদ্দেশে লবণ মজুত ইত্যাদি অভিযোগে দেশজুড়ে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও দোকানদারের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোনো কোনো দোকানদার মওকা বুঝে বেশি দামে মাত্র দুয়েক কেজি বিক্রি করার পরই ধরা পড়ে যান মোবাইল কোর্টের হাতে। অনেককেই ৫০০ টাকা লাভ করে জরিমানা গুনতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অনেক কে আটকও করা হয়। আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। এভাবে সারাদেশে অভিযান পরিচালিত হলে মুনাফাশিকারির দল ক্ষান্ত হয়। তারা বুঝতে পারে ‘অতি লোভে তাতি নষ্ট’। গণমাধ্যমও সাধারণ মানুষকে গুজবে কান দিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার না হতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। সরকার ও গণমাধ্যমের এমন তৎপরতায় জনগণ আরো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, দেশের চাহিদার ছয় গুণ বেশি লবণ মজুদ আছে। শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা কম-বেশি ১ লাখ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে লবণের মজুদ আছে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন। মজুদ লবণের মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণ চাষিদের কাছে ৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে বিভিন্ন লবণ কোম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মওসুম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় লবণ সংকটের প্রশ্নই উঠে না।

সরকারের উচিত হবে লবণ সংকটের গুজব ছড়িয়ে যারা ভোক্তাদের পকেট কাটার অপচেষ্টা করেছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা। একইসঙ্গে আগামিতে যাতে কেউ বা কোনো অপচক্র এমন গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুঠতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

The Post Viewed By: 28 People

সম্পর্কিত পোস্ট