চট্টগ্রাম রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:২৮ পূর্বাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ জরুরি

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাপকাঠি হচ্ছে শিক্ষা ও গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি বারবার। লন্ডনভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনে প্রকাশিত সর্বশেষ র‌্যাংকিঙে বিশ্বের সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়েরর তালিকায় জায়গা পায়নি বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যার মূল কারণ শিক্ষা ও গবেষণার উপর জোর না দেয়া এবং অনুকূল পরিবেশ না থাকা। শিক্ষকদের মধ্যে যখন গবেষণা আর শিক্ষা মুখ্য বিষয় না হয়ে বাণিজ্যকরণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয় তখন শিক্ষক হয় দুর্বৃত্ত, শিক্ষা হয় ভূলুণ্ঠিত আর শিক্ষার্থী হয় নির্যাতিত।

এর পেছনের কারণগুলো দেখি হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেট, শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিকূল পরিবেশ, জবাবদিহিতা না থাকা, দুর্নীতি, ছাত্র ও শিক্ষকদের অপরাজনীতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির আঁতুড়ঘর হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার চেয়ে রাজনীতি মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে পদমর্যাদা নির্ধারণ করা হয় রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর। বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি অপরাজনীতির প্রভাব দূর করা না যায় তাহলে আরো পিছিয়ে যেতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেটও এক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে, গবেষণা ও বিশেষ গবেষণা মিলিয়ে এই খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার বরাদ্দ করেছে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ২.১ শতাংশ। বাজেটের আকার বিগত বছরের চেয়ে ৯.৩৫ শতাংশ বাড়লেও গবেষণায় বরাদ্দ কমছে ২.৮৪ শতাংশ। অথচ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণার উপর বেশি জোর দেয়া উচিত ছিল।

তারপরও যদি গবেষণার যথাযথ পদক্ষেপ ও সুষ্ঠ পরিবেশ থাকতো তাহলে এক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া বাধা হয়ে দাঁড়াতো না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গবেষণার বাজেট ও পরিবেশ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। গবেষণার উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে না আসার কারণে গবেষণায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
বিশ্ববিদ্যালয় একটি দেশকে ধারণ করে। তাই দেশের সুনাম ও অগ্রগতির লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণার উপর জোর দেয়া এবং অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা।

আমজাদ হোসেন হৃদয়
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

The Post Viewed By: 26 People

সম্পর্কিত পোস্ট