চট্টগ্রাম সোমবার, ০৮ মার্চ, ২০২১

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সাইমুম চৌধুরী

শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

আজ যে শিশু জন্ম নিয়েছে আগামিতে সেই শিশু দেশ পরিচালনায় নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে যাবে। কেউ দেশ পরিচালনায় সরাসরি ভূমিকা রাখবে। কেউ বা পরোক্ষভাবে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কাজে জড়িয়ে দেশ ও দেশের মানুষের নানাবিধ কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যাঁরা রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন বা রাষ্ট্রক্ষমতার-বাইরে আছেন তাঁরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। বলতে দ্বিধা নেই আমরা প্রায় প্রত্যেকে নিজেদের নিয়ে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে আমাদের কন্যা শিশুরা যে নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে তা বন্ধে কেউ তেমন এগিয়ে আসছি না। সবার ভেতরে একটি অনুভূতি, আমার ছেলেমেয়ের তো কিছু হচ্ছে না। অনর্থক বাড়তি ঝামেলায় জাড়নো ঠিক হবে না। কিন্তু এটা ঠিক নয়। অন্যের শিশু আর আপনার শিশু সন্তানদের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়? একজনের বিপদে অন্যজন এগিয়ে আসা সবার নৈতিক দায়িত্ব। অতি সম্প্রতি (১২ নভেম্বর/১৯) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ চট্টগ্রামের সীতাকু-ের সলিমপুর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে তিন বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে বিশ বছরের এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ রকম অসংখ্য ধর্ষণের অভিযোগ প্রায় পত্রিকার পাতায় আসছে।

ইদানিং শিশু ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী শ্রদ্ধেয় সুলতানা কামালের একটি বক্তব্য নজরে এলো “রাষ্ট্রের দায়িত্ব শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া, কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ। ধর্ষকদের বিচার না হওয়ায় অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের উচিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে সহযোগী হওয়া।” ওই জাতীয় দৈনিকে শিশু ধর্ষণ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে দেখতে পেলাম এ বছরের (২০১৯ জানুয়ারি থেকে আগষ্ট মাস এই আট মাসে ওয়ান স্টাপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ৯৬৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে সেবা নিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশীদের হাতে ও প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ৬২ শতাংশ শিশু-ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ১০টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বি এস এ এফ শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন ২৬৯টি বেসরকারি সংগঠন (এনজিওর) জাতীয় নেটওয়ার্কের হিসাব অনুযায়ী ২০১৮, ২০১৭ ও ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৭১, ৫৯৩, ৪৪৬। উপরোক্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে প্রতিবছর শিশু ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শুনলে অবাক হতে হয় গত ২২ জুলাই/২০১৯ নোয়াখালী সদর উপজেলায় সাত বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয় ২১ বছরের এক প্রতিবেশী তরুণের হাতে। কি মর্মান্তিক খবরটি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগে আছেন এমন একজন উপকমিশনার ফরিদা পারভিনের মতে কম বয়সী শিশুরা পরিচতজন বা স্বজনের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়। ওসিসি’র তথ্য মতে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে, ধর্ষণের ঘটনা ২৯ শতাংশের বেশি। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগি অধ্যাপক আহমেদ হেলালের মতে কম বয়সী শিশুরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

তারাই পরিচিতজনদের হাতের নাগালের মধ্যেই থাকে। তাই তারাই সহজে ধর্ষকদের শিকার হয়। ধর্ষণ বিষয়টি এমনই নাজুক যে অপ্রাপ্ত বা শিশু সন্তানদের সাথে বাবা-মা বা গুরুজনেরা আলাপ করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে সন্তানদের সাথে আলাপ করাটাই বিব্রতকর। সন্তানেরা কাদের সাথে মেলামেশা করে তা মা বাবাদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এ বিষয়ে মনোরোগ চিকিৎসক আহমেদ হেলাল বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতার সাথে সন্তানকে ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শের পার্থক্য বোঝাতে হবে। আক্রান্ত শিশুরা যাতে নির্ভয়ে বিষয়টি মা বাবার কাছে বলে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সাথে সাথে ধর্ষক যাতে নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে, তার ব্যবস্থা নিতে হবে। তা হলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম এই শিশুরা ধর্ষকদের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং নিজেরাও সুন্দর ভবিষ্যত নিজেরাই গড়ে তুলবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 134 People

সম্পর্কিত পোস্ট