চট্টগ্রাম সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

নাওজিশ মাহমুদ

’৭০ এর নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতির টার্নিং পয়েন্ট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যতগুলি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হযেছে, তার মধ্যে ১৯৩৭ সালের নির্বাচন, ১৯৪৬ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৩৭ সালে কৃষক-প্রজা পার্টি , মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে অখ- বাংলাদেশের তিনটি দলকে প্রায় সমসংখ্যাক আসনে নির্বাচিত করে একটি বার্তা দিয়েছে, বাংলাদেশে এই তিনটি শক্তির মধ্যে ক্রিয়ায় প্রতিক্রিয়ায় বাঙালি জাতির ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে। কৃষক-প্রজা পার্টির আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস কৃষক-প্রজা পার্টির সাথে সমঝোতা না করে দূরে থেকে যায়। ফলে কৃষক-প্রজা পার্টি বাধ্য হয়ে মুসলিম লীগের সাথে সমঝোতা করে বাংলায় ক্ষমতা যায়। অবিভক্ত বাংলা হিন্দু-মুসলিম বিভক্তির রাস্তা তৈরী হয়ে যায়। কংগ্রেস এবং হিন্দুদের প্রতিনিধিত্বকারী কোন দল আর কোনদিন অবিভক্ত বাংলায় রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করতে ব্যর্থ হয়। কংগ্রেস কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আর কোন দিন বাংলা থেকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় নি। অথচ এর পূর্বে চিত্তরঞ্জন দাশ এবং সুভাষ চন্দ্রের মোকাবিলা করতে গিয়ে তারা বার বার পিছুু হটতে বাধ্য হয়।

১৯৪৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তান সৃষ্টির অনিবার্যতার প্রমাণ দেয়। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে পাকিস্তান আন্দোলনের রায় হিসেবে দর কষাকষির সুযোগ পায়। বাংলাকে বলি দিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি করে।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের ফলে যে নতুন রাজনীতির প্রতি সমর্থন এবং পাকিস্তানের স্বৈরাচার, বাঙালিবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিল একটি সতর্ক বার্তা। এই রায়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের নবযাত্রা শুরু হয়। ১৯৭০ সালের র্নির্বাচন ছিলো একটি চূড়ান্ত বার্তা। এই বার্তাটি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী অদক্ষতার সাথে অহমিকা দিয়ে মোকাবিলা করতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অনিবার্য করে তুলে। ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম জাতীয়তাবাদের অসারতা প্রমাণ করে। এর ফলাফল হচ্ছে পাকিস্তানের নৈতিক পরাজয় এবং ভারতের মুসলিম জনসাধারণের ভবিষ্যতকে আরো অন্ধকারে ঠেলে দেয়া। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়কে অনিবার্য করে তোলে। বাঙালিকে নেতৃত্ব করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দিয়ে দেয়।

৬৯ এর গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। গোলটেবিল বৈঠক ডেকে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য যে উদ্যোগ প্রেসিডেন্ট আইউব খান নিয়েছিলেন, তা সফলতা পাই নি। প্রথম গোলটেবিল বৈঠক হয়েছিল ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ছাড়া। সেখানে বিরোধীদলের নেতাদের দাবীর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক হয়েছিল ১৯৬৯ সালের মার্চে। বৈঠকে রাজনৈতিক দলসমূহের নিজেদের মধ্যে দ্বিমত থাকায় রাজনৈতিক সমাধানে আসা সম্ভব হয় নি। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছয় দফার পক্ষে অনড় থাকেন। এর পূর্বে প্রেসিডেন্ট আইউব খান ঘোষণা দিয়েছিলেন পরবর্তী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরোধী দলের নেতারা ছয় দফার প্রশ্নে ছাড় দিতে রাজী হয় নি। মাওলানা ভাসানী গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান না করায় বঙ্গবন্ধু মূলত বাঙালিদের পক্ষে একক প্রতিনিধিত্ব করেন। পাকিস্তান ডেমোক্রিটিক পার্টির (পিডিপি) প্রেসিডেন্ট হিসেবে নুরুল আমীন গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করলেও তাঁর ভূমিকা সবসময় ছিল শক্তিশালী কেন্দ্রের পক্ষে। ভাষা আন্দোলেনের বিরোধী ভূমিকার কারণে বাঙালির কাছে তিনি ছিলেন সবসময় বিতর্কিত। ডানপন্থী জোট পাকিস্তান ডোমোক্রেটিক মুভমেন্টের সভাপতি হিসেবে আইউব বিরোধী ভূমিকা পালন করলেও বাঙালিদের আস্থা তিনি কোনদিন অর্জন করতে পারেন নি। আইউব-মোনায়েমের মতো তিনিও ছয় দফার বিরুদ্ধে ছিলেন। স্বাভাবিক ভাবে বাঙালি স্বার্থের একমাত্র প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধুর সাথে পাকিস্তান শাসক এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের সাথে চিন্তা-চেতনায় যেমন মৌলিক পার্থক্য ছিল। তেমনি পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের মধ্যেও প্রচুর মতপার্থক্য ছিল। গোলটেবিল বৈঠকে তা আরো প্রকট হয়ে উঠে। বৈঠকে প্রতিনিধিত্বকারীরা সকলে একমত না হওয়ায় শাসনতান্ত্রিক প্রশ্নে কোন ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় কোন সমাধান ছাড়াই গোলটেবিল বৈঠক শেষ হয়। গোলটেবিল বৈঠক কার্যত ব্যর্থ হয়। তবে সংসদীয় গণতন্ত্র এবং একব্যাক্তির একভোটের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যাপারে সকলে একমত হন। এতে পূর্ব পাকিস্তান সংখ্যানুপাতে বেশীসংখ্যক আসনের মালিক হবে। কিন্তু প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যাপারে পরবর্তী নির্বাচনের জনপ্রতিনিধির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর পরই আইউব খান পদত্যাগ করেন। ১৯৬৯ সালে ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবহিনীর পক্ষ থেকে প্রধান সেনাপতি এয়াহিয়া খান সামরিক আইন জারী করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সামরিক আইন জারির মাধ্যমে তিনি অবিলম্বে জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকার করেন। এক ব্যাক্তি এক ভোট ও পশ্চিম পাকিস্তানের এক ইউনিট বাতিল করে আবারও চারটি প্রদেশে বিভক্তের আদেশ দেন। নতুন প্রদেশসমূহ পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং বেলুচিস্থান। অথচ পূবর্ পাকিস্তানের নাম বদলে আর পূর্ব বাংলা বা বাংলা করা হয় নি। তবে পূর্বের সংখ্যাসাম্য বাতিল করে জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে পড়ে ১৬২ আসন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ভাগে ১৪৮টি আসন। যার দ্বারা পাকিস্তানের জনপ্রতিনিধিত্বে বাঙালিদের আধিক্য এই প্রথম স্বীকার করে নেয়া হলো। ভবিষ্যতে সংঘাতের রাস্তাও প্রস্তুত হয়ে গেল। কারণ যদি নির্বাচনে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তা হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্থায়ী অংশ প্রতিরক্ষা বাহিনী, আমলাতন্ত্র ও বিচার বিভাগে অবাঙালি তথা পশ্চিম পাকিস্তানীদের (মূলত পাঞ্জাবী) প্রাধান্য অপর দিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অস্থায়ী অংশ আইন প্রণয়নে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায় বাঙালিদের প্রাধান্য কিভাবে মিমাংসা হয় বা সমঝোতা হয় তার উপর পাকিস্তানের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়া হয়। এতোদিন উভয় ক্ষমতা অবাঙালি তথা পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঞ্জাবীরা ভোগ করতো।
১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারতের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানের যে দু’ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়। পশ্চিম পাকিস্তান নিজেদেরকে ভারতের কাছে পরাজয় হিসেবে দেখে একধরনের অস্থিরতা এবং দ্বিধাদ্বন্দ্ব জন্ম দেয়। সবকিছুর জন্য আইউব খান এবং মুসলিম লীগকে দায়ী করে জুলফিকার আলী ভুট্টো একটি প্রচ- ভারত বিরোধীতাকে পুঁজি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তানের ভবিষ্যত জনগণের রায়ের উপর ছেড়ে দেয়া হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২ আসনে আওয়ামী লীগ কতটি আসনে জয়লাভ করে তার উপর নির্ভর করে বাঙালিদের ভবিষ্যৎ। সেই সাথে পাকিস্তানেরও ভবিষ্যৎ। আগরতলা মামলা দায়েরের সময় সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী দল ছিল ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি। এর পরই মোজাফ্ফর ন্যাপ। আওয়ামী লীগের জনভিত্তি থাকলেও শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা থাকলেও সংগঠন ছিল দুর্বল এবং নড়বড়ে।
আইউব ও মোনায়েমের অত্যাচার ও নিপীড়নে অধিকাংশ জেলায় সাংঠনিক কাঠামো ছিল দুর্বল বা নিষ্ক্রিয়। থানা সংগঠন ধরতে গেলে ছিলই না। কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়নের প্রাধান্য। মেধাবী ছাত্রদের পছন্দ ছিল ছাত্র ইউনিয়ন। সারা পাকিস্তানে বাঙালি নেতৃত্ব বলতে শুধু আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ বাঙালি কাকে ম্যান্ডেট দেয়, এটাই ছিল বড় প্রশ্ন।

পূর্ব পাকিস্তানে তথা বাঙালিরা ৫৪ সালে নির্বাচনের পর আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং পাকিস্তানের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব করার একটি অপূর্ব সুযোগ হিসেবে উপলব্ধি করে। মাওলানা ভাসানীর প্রতি বাঙালির যে দুর্বলতা ছিল নির্বাচন বয়কটের মাধ্যমে ধরতে গেলে এককভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগকে ওয়াক ওভার দিয়ে দেয়। বাঙালিদের মহিলা আসন ছাড়া ১৪ সিটের আধিক্য কাজে লাগাতে বাঙালি বিন্দুমাত্র ভুল করেনি।

পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২ আসনের মধ্যে ১৬০ আসনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ১৪৮ আসনের মধ্যে ভূট্টো ৮৮ আসনে জয়লাভ করে। ফলে দুই অংশের জনগণের দুই ধরণের নির্বাচনী ফলাফল পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত পশ্চিম পাকিস্তানের আমলাতন্ত্র, প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থাকে যেমন কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেয়। তেমনি রাজনৈতিক নেতাদেরর সামনেও একই অগ্নিপরীক্ষায় ফেলে দেয়। অনিবার্য হয়ে পড়ে বাঙালিদের কাছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়া অথবা পাকিস্তানকে আলাদা করে দেয়া এই দুটির যে কোন একটিকে বেছে নেয়া। ভুট্টো এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী চেয়েছিল বাঙালিদের যে কোন প্রকারে দাবিয়ে রেখে পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে রাখা যায় কী-না? কিন্তু নির্বাচনে একটি বার্তা দিয়ে দেয়া হয় বাঙালিদের কাছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ক্ষমতা ছেড়ে দাও নতুবা পাকিস্তানকে আলাদা কর। অন্য কোন বিকল্প ছিল না। এই বাস্তবতা বুঝতে না পারার কারণে একটি গণহত্যা এবং অনিবার্য যুদ্ধকে এড়িয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। এখানেই বৃটিশ তথা ইংরজদের সাথে পাকিস্তানী শাসকদের পার্থক্য। বৃটিশরা যখন বুঝতে পারে ভারতীয়রা সশস্ত্র লড়াইয়ে নামলে ভারতে আর দখলে রাখা যাবে না।

ভারত ও বৃটিশদের আজীবন শত্রু হয়ে দাঁড়াবে। তখন তারা বৃটিশদের প্রতি অধিকতর নমনীয় শক্তির কাছে ক্ষমতা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হিন্দু-মুসলমানকে পরস্পরের শত্রু বানিয়ে নিজেদের আড়ালে নিয়ে যায় এবং এই শত্রুতার সালিশদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাই ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি ছিল এই উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে দান হিসেবে প্রাপ্য। বৃটিশ ভাবাদর্শের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে। ভারত উত্তারাধিকার সূত্রে পেয়েছে বৃটিশ আমলাতন্ত্র এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবিহিকতা। আর পাকিস্তান পেয়েছে সেনাপ্রাধান্য ও একক কর্তৃত্বের স্বৈরশাসন। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোর জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার চেয়ে ব্যাক্তির পছন্দ অনেকবেশী গুরত্বপূর্ণ। এই কারণে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের তুলনায় এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সেনাবাহিনী এবং আমলতন্ত্র সবসময় প্রাধ্যান্য পায়। এই সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্র কখনো চায় নি, কোন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসুক।

যদিও একান্তভাবেই আসে তাহলে কোন বাঙালি যেন পাকিস্তানের কর্তৃত্ব না পায়। এর মিমাংসার রাস্তা ছিল হয় পূর্ব পাকিস্তানকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আলাদা হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া অথবা না হয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে রাখা। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে সমঝোতার ভিত্তিতে এবং ভাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ পরস্পরের সম্মতি এবং সহযোগিতায় ভাগ হয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল।
কিন্তু অহমিকা এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ববোধ, বাঙালিদের প্রতি ঘৃণা এবং অবজ্ঞা তাঁদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। বলপ্রয়োগ করতে গিয়ে শুধু নিজেরাই ক্ষমতা হারায় নি ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লজ্জাজনক পরাজয়ের সম্মুখীনও হতে হয়েছে। এই লজ্জা মুছে ফেলার সুযোগ কোন দিন পাবে বলে মনে হয় না। আগামী রোববার সমাপ্য
নাওজিশ মাহমুদ রাজনীতি বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 535 People

সম্পর্কিত পোস্ট