চট্টগ্রাম রবিবার, ০৭ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

নারীকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে

নারী, মা, তনয়া, ভগিণী, স্ত্রী শব্দগুলোর ভাবার্থ ভিন্ন ভিন্ন হলেও শব্দগুলো যে সমগোত্রীয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। নারী হলো এ ধরণীর সৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক। অথচ নারীকে বরাবরই পুরুষের চেয়ে ছোট করে দেখা হয়। সমাজের ধারণা বিদ্যা, বুদ্ধি, শক্তিতে পুরুষ নারীর চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে। অথচ তারা ভাবে না পুরুষের মতো নারীরা যদি সমান সুযোগ সুবিধা পেয়ে বেড়ে উঠে তবে নারীও পুরুষের মতো সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জন্মের পর শিশুটি জানে না সে ছেলে না মেয়ে, তার পোশাক কেমন হবে, সে কতটা হাসবে কাঁদবে, কই যাবে, থাকবে, কম খাবে না বেশী খাবে, তার চলাফেরা জীবনবোধ আর্দশ, ধর্ম কেমন হবে। এমনকি তার খেলনা নির্বাচন আমাদের সমাজব্যবস্থা করে দেয়। তাই একটি মেয়েশিশুর বেড়ে উঠা ও ছেলেশিশুর বেড়ে উঠার পিছনে ভিন্ন প্রেক্ষাপট পরিলক্ষিত হয়। মেয়ে শিশুকে পুতুল কিনে ঘরে বসিয়ে ঘরকন্যার কাজ শেখানোর মাধ্যমে পাত্রী হিসেবে গড়ে তোলা হয়। আর বার বার মনে করানো হয় শ^শুর বাড়ি মেয়েদের আসল বাড়ি, মেয়েদের একটু রয়ে-শয়ে চলতে হয়। অপরদিকে পুরুষকে রাজ্য শাসনের ভার বহনের জন্য খেলনা বন্ধুক, ব্যাট, ফুটবল, তলোয়ার, দেয়া হয়।

আজকের পৃথিবীর যত উন্নয়ন তা এককভাবে পুরুষের অবদানের ফসল নয়, নারীরা সবসময় পুরুষের পাশে থেকে সাহায্য করেছে। তাই নারীকে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে নারীদের অবস্থা আগের থেকে উন্নত হলে সার্বিকভাবে নারীদের তেমন অগ্রগতি সাধিত হয়নি। নারীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েমানসিক ভাবে দৃঢ় ও যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ হয়ে গড়ে উঠার জন্য নিজেদের অনেক কৌশলী হতে হবে। নারীদের বুঝতে হবে শুধুমাত্র বিয়ের পাত্রী হয়ে বেঁচে থাকা নারী জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। নারীকে যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ হয়ে নিজের পরিচয় তৈরিকরতে হবে।নারীর পরিচয় শুধুমাএ কারো মেয়ে,বউ বা মা হিসেবেই নয়, নারীর নিজস্ব পরিচয় তৈরী করতে হবে। নিজের জীবনের উন্নয়ন নিজেকেই করতে হবে।

সোনিয়া আক্তার পুষ্প
মনোবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 165 People

সম্পর্কিত পোস্ট