চট্টগ্রাম সোমবার, ০৮ মার্চ, ২০২১

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

অধ্যক্ষ ডা. রতন কুমার নাথ

চোখের ছানি রোগে করণীয়

আমাদের চোখের সামনের অংশে গোলাকার কারবর্ণ কিংবা ঈষৎ সবুজ অথবা নীলবর্ণস্থানকে চোখের তারকা বা ইংরেজিতে আইরিস বলা হয়। এটার ঠিক মধ্যস্থলে যে একটি স্বচ্ছ ক্ষুদ্র গোলাকার অংশ আছে এবং যাতে প্রতিবিম্ব পড়ার জন্য আমাদের দৃষ্টিজ্ঞান হয়, সে স্বচ্ছ তরল পদার্থ একটি পাতলাস্বচ্ছ আবরণ এর মধ্যে থাকে, উক্ত আবরণ ও তার মধ্যস্থ ও তরল পদার্থ উভয়েই ক্রমশ অস্বচ্ছ হয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করে এবং স্বচ্ছ পদার্থ অস্বচ্ছ হওয়ার নিমিত্তে এটাতে আর প্রতিবিম্ব পড়ে না এবং আস্তে আস্তে দৃষ্টিশক্তির ব্যাঘাত ঘটে এবং লেনসের এ অস্বচ্ছ অবস্থাকেই প্রকৃত ছানি বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়। লেনস পিউপিলের পিছনদিকে এমনভাবে থাকে যে, সেখানে কোন বস্তু আছে বলে মনে হয় না: কিন্তু ছানি হলেই পিউপিলের উপর হতে এটাকে এক টুকরা অতিক্ষুদ্র সরিষা পরিমাণ মুক্তার আকৃতির মত দেখায়। ছানি সাধারণত দু’প্রকারের হয়ে থাকে। ১) কোমল ছানি (ঝঙঋঞ ঈঅজঞঅঈঞ) ও ২) কঠিন ছানি (ঐঅজউ ঈঅঞজঅঈঞ) কোমল কঠিন ছানি ছোটবেলা থেকে ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে এবং কঠিন ছানি বৃদ্ধদের মধ্যেই বেশী হয়ে থাকে। তারপরও ৩৫ বছরের পূর্বে সংখ্যায় কম হয়ে থাকে। এছাড়াও উৎপত্তির কারণ অনুসারে ছানি কতকগুলি ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত হয়ে থাকে। ১) কনজিনেন্টাল (ঈঙঘএঊঘওঞঅখ):-যে শিশু জন্মকাল থেকেই এ পীড়ায় ভোগে। ২) ট্রমাটিক (ঞজঅটগঅঞওঈ);- চোখে কোন প্রকার আঘাত, কোনও ক্ষত কোনও প্রকার উত্তেজক বাস্পাটিওকোন প্রকার তীব্র রশ্মিলাগা ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। ৩) সেকেন্ডারি (ঝঊঈঙঘউঅজণ);- এটাতে চোখের ভিট্রিয়স (ঠঊঞজওঙটঝ) কোরাইড (ঈঐঙজঙওউ) কিংবা রেটিনার (জঊঞওঘঅ) কোনও পীড়া হতে পিউপিল বা লেনস আক্রান্ত হয়েই এটা হয়। ৪) সিনাইল (ঝঊঘওখঊ) বৃদ্ধ বয়সের ছানি :- বৃদ্ধাবস্থায় শরীরের ক্ষয় ও পোষণ অভাবে অনেকের ছানি হয়ে থাকে।

৫) ডায়াবেটিক (উওঅইঊঞওঈ) বা বহুমূত্র পীড়ায় আক্রান্ত রোগী দুর্বল হয়ে এ পীড়া হয়ে থাকে। বহুমূত্র পীড়া আরম্ভ হওয়ার প্রায় দু’বছর পরে এটা হয়ে থাকে। কখনও কখনও এর কম সময়েও আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এ জাতীয় পীড়ার গতি দ্রুত, কখনও মৃদু হয়। এটাতে দু’টি চক্ষুই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এছাড়াও অতিরিক্ত কুইনাইন সেবন, বহুদিন যাবৎ অম্ল, অজীর্ণ ইত্যাদি পীড়ায় ভোগে, অশের্^র রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে, চক্ষুর কোন প্রদাহ, হাত পা হতে নিঃসৃত ঘর্ম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেও এ পীড়া হতে পারে। এ পীড়ায় বেশীর ভাগ যে সমস্ত লক্ষণ দেখা যায় তার মধ্যে আইরিসের মধ্যে যে স্বচ্ছ স্থান আছে এটার কোন একস্থান হতে আরম্ভ হয়ে ক্রমশ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে সমস্ত স্থান অধিকার করে নেয়। পীড়া কখনও এক চোখে থেকে উভয় চোখে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। পীড়া প্রথম আরম্ভের সময় চক্ষুর সামনে যেন দৃষ্টি ঝাপসা মনে হয়, ক্রমশ পীড়া বৃদ্ধির সাথে সাথে দৃষ্টিশক্তির একেবারেই লোপ পায়। প্রাতে কিংবা যখন অধিক আলো না থাকে তখন পিউপিল বিস্তৃত হয় এবং তাতে রোগী অল্প কিছু দেখতে পায়।

হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান :
চোখের ছানি-চিকিৎসার হোমিওপ্যাথিক ওষুধের আরোগ্যসংকেত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন অস্ত্র চিকিৎসা ভিন্ন এ ছানি আরোগ্য হয় না।

আবার অনেক সময় দেখা গেছে অস্ত্র-চিকিৎসার পর চোখের দৃষ্টিশক্তি একেবারেই হারিয়ে গেছে। লক্ষণ সৌসাদৃশ্য ধারাবাহিক চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিতে পীড়ার সূত্রপাত হতেই চিকিৎসা করলে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন সম্ভব। আঘাতজনিত চোখের ছানিতে আর্টিমেসিয়া-ভালগারিস, কোনিয়াম, রুটা বিশেষ কার্যকরী। কোমল ছানিতে কলচিকম এবং কঠিন প্রকারের ছানিতে ক্যালকেরিয়া, ফসফরাস, গ্র্যানুলার ক্যাটার‌্যাক্টটে-সাইলিসিয়া,
সিনেরিয়া-মেরিটিমা সহ কষ্টিকাম, প্লাম্বম লক্ষণভেদে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তারপরেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ খেতে নেই। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

অধ্যক্ষ ডা. রতন কুমার নাথ
সাবেক অধ্যক্ষ, ডা. জাকির হোসেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 204 People

সম্পর্কিত পোস্ট