চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

১০ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:৩৭ পূর্বাহ্ন

ভাসানচর প্রসঙ্গে

পূর্বে নাম ছিল ন্যায়ামস্তি এরপর ঠেঙ্গারচর বর্তমানে ভাসানচর। ১ লক্ষ রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর নিয়ে বহুল আলোচিত এই চরটি হাতিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় প্রায় ২০ বছর আগে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন ও জনমানবশূন্য ভাসানচর। কিন্তু এই চর নিয়ে নোয়াখালী জেলা ও সন্দ্বীপ উপজেলার মাঝে চলছে দীর্ঘদিনের বিরোধ। একদিকে নোয়াখালীর দাবি এটা তাদের হাতিয়ার অংশ, অন্যদিকে সন্দ্বীপবাসীর দাবি এটা তাদের নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া পৈতৃকভূমি ন্যায়ামস্তি। এদিকে নতুন করে জেগে ওঠা ভাসানচরকে সন্দ্বীপের সাবেক ন্যায়ামস্তি ইউনিয়ন হিসেবে সন্দ্বীপ রেঞ্জের আওতায় বনায়ন করা হয়। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লাগানো ১ হাজার ৫০ একর জমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন এখন দৃশ্যমান। সন্দ্বীপের ভেঙে যাওয়া বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত মানুষ এখানে ওখানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। আবার অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে বেড়িবাঁধে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাগরে চর জেগে ওঠা দেখে তারা আশায় বুক বেঁধেছে পুরনো ভিটায় আবার নতুন করে বসবাস করার। নদী ভাঙা মানুষগুলো যেখানে আশ্রয় পেতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে নিজেদের ফিরে পাওয়া বাপ দাদার ভিটেমাটি অন্য কেউ দখল করবে তা সন্দ্বীপবাসী মেনে নেবে না। ন্যায়ামস্তি সমুদ্রের মুখে অবস্থানের কারণে এর ভাঙন যেমনি দ্রুত ও স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটে, তেমনি মেঘনার অববাহিকার প্রবল স্রােতের সাথে আসা প্রচুর পলিমাটি জমে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ন্যায়ামস্তি গ্রামটি আবার জেগে ওঠে। এই নির্মম বাস্তবতার আলোকে তদন্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষে প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল।

জিসান মাহমুদ
সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম

The Post Viewed By: 73 People

সম্পর্কিত পোস্ট