চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:০৯ পূর্বাহ্ন

শিশুরা বেড়ে উঠুক ভালবাসা-মমতায়

শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের মধ্যে নিহিত আছে একটি দেশ, একটি সমাজ, একটি পরিবারের স্বপ্ন। মেধা আর মননে, চিন্তা আর চেতনায় শিশুগুলোকে আদর্শবান হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। যুগের প্রয়োজনে মানুষের কর্মব্যস্ততা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন পরিবারে দেখা যায় মা-বাবা উভয়ে চাকুরি করেন। তাদের শিশুরা বড় হচ্ছে গৃহকর্মীদের হাতে অথবা ডে-কেয়ার সেন্টারে। সারাদিন মা-বাবা দুজনে কর্মব্যস্ত থাকেন। রাতে যখন তারা আসেন কর্মক্লান্ত শরীর নিয়ে অনেক সময় শিশুদের সাথে খুব বেশি সময় দিতে পারেন না। তাদের মমতার ঘাটতিজনিত কারণে এই সব শিশু মানসিক যন্ত্রণায় ভোগে। চাকুরিজীবী মা বাবাদের উচিত তাদের শিশুদের সাথে সময় কাটানো। ইন্টারনেটের যুগ।

আমরা সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করছি। শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। শিশুরা দেখতে চায়, জানতে চায় তার মা-বাবা কীভাবে চলাফেরা করছে। অনেক মা-বাবা আছেন যারা অফিস থেকে আসার সাথে সাথে মোবাইল নিয়ে বসে থাকেন। ছেলে-মেয়ের খোঁজখবর নেওয়ার থেকেও ইন্টারনেটের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের দিকে বেশি সময় ব্যয় করেন। মা-বাবার অতি মোবাইল ব্যবহার শিশুটির মাথায় একটি চাপ পড়ে। সেও চায় তার সময়টুকু মোবাইল নিয়ে কাটুক। মোবাইল না পেলে শিশুটি কান্না করে, ভাত খেতে চায় না, আনমনা হয়ে বসে থাকে। ছেলের কান্না থামানোর জন্য মা-বাবা দামি মোবাইলটি শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছেন। যার ফলে শিশু আস্তে আস্তে মোবাইল গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়। আর অন্যদিকে শিশুদের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হা-ডু-ডু, বৌচি, দাড়িয়াবান্ধা, সাতচাড়া, পুতুলখেলা আরো কত নাম না জানা আঞ্চলিক খেলা। গ্রামীণ খেলাগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের ভাল ভাল শিশুতোষ বইগুলো পড়াতে হবে। যাতে তারা মানবিক হতে পারে। শিশুগুলো বেড়ে উঠুক আমাদের ভালবাসা আর মমতায়। স্নেহের পরশে বেড়ে ওঠা শিশুগুলোর মানবিক মূল্যবোধের উপর দেশ ও জাতির আশা আর আকাক্সক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটুক।

রূপম চক্রবর্ত্তী
পূর্ব নলুয়া, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম

The Post Viewed By: 32 People

সম্পর্কিত পোস্ট