চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৭ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:৫৪ পূর্বাহ্ন

মনিরুল ইসলাম রফিক

সর্বোৎকৃষ্ট বংশে সর্বোত্তম রাসূলের (স.) আবির্ভাব

ইসলামের আলোকধারা

ওয়াসিলা বিন আকসা থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ তায়ালা হযরত ইবরাহীম নবীর (আ.) সন্তানদের মধ্য হতে ইসমাঈল (আ.) কে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, (আর) হযরত ইসমাঈলের আওলাদ ফরজন্দ থেকে কিনানা গোত্রকে মনোনীত করেছেন, বনী কিনানা হতে কুরাইশ বংশকে বেছে নিয়েছেন, (এভাবে) কুরাইশ থেকে বনী হাশিম গোষ্ঠীকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বেছে নিয়েছেন আর বনী হাশিম গোষ্ঠী থেকে আমাকে (নবী হিসেবে, আপন শ্রেষ্ঠ বন্ধু হিসেবে) গ্রহণ করেছেন।

হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রাদি:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: ওহে আল্লাহর রাসূল (স.) ! কতিপয় কুরাইশ বসে নিজেদের মাঝে বংশগৌরব নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছিল। সেখানে আপনাকে এমন এক খেজুর গাছের সাথে উপমা দিয়েছে যা কিনা জমিনের একটি উঁচু টিলায় অবস্থিত। তখন মহানবী (স.) বললেন: আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকূল সৃষ্টি করলেন আর আমাকে সবচে’ উত্তম দলের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। তিনি সমস্ত গোত্রকে উত্তমভাবে তৈরী করেছেন আর আমার আবির্ভাব সর্বোত্তম গোত্র হতে। অত:পর উত্তম বানিয়েছেন সমূদয় ঘরগুলো, আর আমাকে সবচে’ উত্তম ঘরের (পরিবারের) অন্তর্গত করেছেন। সুতরাং আমি তাদের মাঝে উত্তম সকল পরিবারের দিক দিয়ে।’

সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজে হাদীস মহানবী (স.) এর ঘনিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা (রাদি:) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: কতিপয় লোকজন একবার আঁ হযরত (স.) এর কাছে জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! কখন আপনার নবুওয়তের সূচনা হয়েছিল? জবাবে তিনি বললেন: যখন হযরত আদম (আ:) দেহ এবং রূহ এর মাঝামাঝিতে-। অর্থাৎ যখন আদম (আ:) কে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দেহ ও আত্মার সংযোজনে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেননি, তখনও আমি নবী ছিলাম। আমার সৃষ্টি এবং পদমর্যাদা সর্বাগ্রে প্রদান করা হয় কিন্তু সমস্ত নবী-রাসূলগণের প্রেরণের পরে আখেরী ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান সহকারে আমি দুুনিয়ায় আসি।’ সাহাবী আনাস বিন মালিক (রাদি:) বলেন, রাসূলে মাকবুল (স.) ইরশাদ করেছেন: কিয়ামতের সময় যখন মানুষদের কবর থেকে উঠানো হবে তখন সবার আগে আমিই বের হবো, আমিই হবো (আল্লাহ তায়ালার সাথে) প্রথম সংলাপকারী যখন তারা (সবাই) আল্লাহর কাছে সমবেত হবে। তারা যখন নিরাশ হয়ে পড়বে আমি হবো তখন তাদের সুসংবাদদাতা এবং প্রশংসনীয় ঝান্ডাখানা থাকবে আমার হাতে। আমি সকল আদম সন্তানের চাইতে আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় ও প্রিয়তম হবো আর এটি আমি কোন গর্ব করে বলছি না।
সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদি:) থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (স.) কে বলতে শুনেছি: (হে মুসলমানগন !) যখন তোমরা কোন মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজান শুনতে পাও, তখন মুয়াজ্জিন যা উচ্চারণ করে তা তোমরাও বলে যাও। অত:পর আমার উপর দরূদ পাঠ কর কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ এ জন্য তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তারপর আমার উদ্দেশ্যে ‘ওয়াসিলা’ তালাশ কর (প্রার্থনা কর), নি:সন্দেহে ‘ওয়াসিলা’ বেহেেেস্তর একটি বড় উত্তম স্থানের (মর্যাদার) নাম। এ’টি আল্লাহ তায়ালার একজন মাত্র বান্দা ছাড়া আর কেউ পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে না। আমি প্রবল আশা রাখি যে, তা পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জনকারী ব্যক্তিটি হবো আমিই। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য এই ওয়াসিলা বা মাধ্যম প্রার্থনা করবে অর্থাৎ আজানের পর দোয়া/মুনাজাত করবে তার উদ্দেশ্যে পরকালে আমার সুপারিশ করা জরুরি হয়ে পড়বে।’

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ইরশাদ করেছেন নবীদের মধ্যে আমার উদাহরণ ঐ লোকের মত, যে একটি ইটের দালান তৈরী করেছে আর তা বহুত মজবুত, পূর্ণাঙ্গ এবং সুদৃশ্য বানিয়েছে। কিন্তু একটি মাত্র ইটের জায়গা সেখানে খালি রাখা হয়। ফলে লোকজন যখন প্রাসাদটি ঘুরে ফিরে দেখছিল এবং আশ্চার্যান্বিত হচ্ছিল । তখন বলাবলি করছিল যে, যদি এই ইটটির স্থানও পুরো হয়ে যায় তাহলে কতই না উত্তম হতো। বস্তুত: আমি নবী-রাসূলদের (আল্লাহ প্রদত্ত সিলসিলা ও প্রাসাদের মধ্যে) সেই ইটের মত সর্বশেষ ও আখেরী সংযোজন।’ অন্যত্র তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: -আনা খাতামুন্নাবীঈন আমি সবশেষ নবী, আমার পরে কোন নবী নেই…….।

আর একটি দীর্ঘ হাদীসে তিনি বলেছেন আমিই সর্ব প্রথম বেহেস্তের দরজায় করাঘাত করবো আর তা আমার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা খুলে দেবেন এবং তাতে প্রবেশ করাবেন আর তখন আমার সাথে থাকবে দরিদ্র মুমিনের দল, এ আমার কোন গর্ব নয়। এও আমি নিছক কোন গৌরব করে বলছি না যে বস্তুত: আমি পূর্বপর সকলের চাইতে সম্মানিত।’ (উপরোক্ত সব ক’টি হাদীসই বিখ্যাত হাদীস সংকলন জামি আত্ তিরমিজী হতে অনূদিত)

মনিরুল ইসলাম রফিক অধ্যাপক, কলামিস্ট, টিভি উপস্থাপক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খতীব।

The Post Viewed By: 28 People

সম্পর্কিত পোস্ট