চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ২:৩০ পূর্বাহ্ণ

আত্মসমালোচনা : কিছু প্রসঙ্গকথা

আত্মসমালোচনা হলো নিজের সম্পর্কে সমালোচনা করা। আত্মসমালোচনা বলতে বুঝায় সচেতনভাবে কোন কাজ সম্পন্ন করা বা পরিত্যাগ করা। যাতে কৃতকর্ম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকে। আত্মসমালোচনা শুধু ব্যক্তি নিজেকে নিয়ে সমালোচনা করবে এমনটিও নয়। বরঞ্চ নিজের পরিবার, সমাজ এবং জাতি নিয়েও হতে পারে আত্মসমালোচনা।

এই বিশ্বেলোকে কোন মানুষই ত্রুটিবিচ্যুতির ঊর্ধ্বে নয়। যেহেতু মানুষের সামষ্টিক পরিচয় বহন করে ‘জাতি’ শব্দটি দ্বারা, সেহেতু কোন জাতিও দোষত্রুটির ঊর্ধ্বে হতে পারে না। ভুল কিংবা অপরাধ করলে কোন জাতির জন্য বিরাট ক্ষতি হয়ে যায় না। বিরাট ক্ষতি তখনই হয়- যখন অপরাধকে অপরাধ মনে না করে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। আর সেই অপরাধ পুনরাবৃত্তি ঘটার পেছনে আত্মসমালোচনার অভাবই হলো মুখ্য কারণ।

জাতীয় সমস্যার সমালোচনা করতে পারেন উক্ত জাতির লেখক ও সাহিত্যিকবর্গ। লেখকগণ লেখনীর মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিতে পারে। অন্যদিকে শাসকশ্রেণী যদি সমালোচনা সহিষ্ণু হয় তাতে জাতির উন্নতি নিশ্চিত। জাতি হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোর খুব নামডাক যদিও আমরা করি- তবে এটি সত্য যে, তাদের দেশের শাসকবর্গ কেমন তা জানার চেষ্টা খুব কমই করে থাকি। সেই দেশগুলোর শাসকশ্রেণী সমালোচনা-সহিষ্ণু। সমালোচনার মুখেমুখি হয়ে সরকার প্রধানও ক্ষমতা থেকে সরে গেছে এরকম উদাহরণ অসংখ্য। নিজেকে চেনার ফলে দেশ ও স্বজাতিকে নির্মাণ করা যাবে। নিজের দোষের বিষয়ে কোন জাতি যতদিন অন্ধ থাকবে ততদিন পর্যন্ত গুণের আলো পলাতক থাকবে। সুতরাং, আত্মসমালোচনা দেশ বা জাতির উন্নতির দুয়ার খুলে দিতে পারে।

ফায়াজ শাহেদ
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

The Post Viewed By: 28 People

সম্পর্কিত পোস্ট