চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ অক্টোবর, ২০১৯ | ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

আবছার উদ্দিন অলি

সড়কদুর্ঘটনা প্রতিরোধে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

সড়ক দুর্ঘটনার দায় কার? এই প্রশ্নটি এখন সবার মুখে মুখে। কে দায়িত্ব নেবেন? কিংবা এর দায়িত্ব কার? এভাবেই চলবে দুর্ঘটনা? দুর্ঘটনার মৃত্যুর মিছিল আর কত দীর্ঘ হবে? চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশে অন্যতম জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইসেন্স বিহীন গাড়ির দৌরাত্বে বুঝা যায় দুর্ঘটনার দায় কার? গাড়ির চেয়ে ড্রাইভারের সংখ্যা কম হওয়াতে পরিস্কার ভাবে বুঝা যায়, কিভাবে চলছে এতো গাড়ি। গাড়ির লাইসেন্স, ড্রাইভারের লাইসেন্স না থাকলে সে গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটাবে এটাইতো স্বাভাবিক। প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রাণহানি হচ্ছে, আবার কেউবা পঙ্গুত্ব বরণ করছে। একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না। কোন ভাবেই দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। এভাবে সড়ক দুর্ঘটনা মৃত্যুর মিছিল আর কত দীর্ঘ হবে, তা আমরা কেউ বলতে পারি না। দ্রুত গতি পরিহার করি-সড়ক মুক্ত দেশ গড়ি। আমি আপনি সচেতন হলে সড়ক দুর্ঘটনা যাবে কমে। কখনো কখনো মধ্যসত্ত্বভোগীর কারণে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও আহত ব্যক্তির এ টাকা পান না। দূর্ঘটনা এড়াতে সরকার মহাসড়কে টেক্সী চলাচল বন্ধ করলে অন্যদিকে গণপরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে মহাসড়কে গাড়ী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারী করা প্রয়োজন ছিল।

সবকিছুতেই সমন্বয়হীনতা বাস্তব চিত্র ফুটে উঠছে। অনভিজ্ঞ ড্রাইভার, এক ড্রাইভার দিয়ে দৈনিক ১৮ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ী চালানো, হেলপার দিয়ে গাড়ী চালানো, ফিটনেস বিহীন গাড়ী চলাচল এবং রাস্তার বেহাল দশা, মহাসড়কে দূরপার্লার গাড়ীর সাথে নসিমন, করিমন, ভটভটি, ভ্যানগাড়ী, ঠেলাগাড়ী ইত্যাদি চলাচলের কারণে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছয়টি নির্দেশনা (১) গাড়ির চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কর। (২) লং ড্রাইভের সময় বিকল্প চালক রাখা, যাতে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কোনো চালকেক একটানা দূরপাল্লায় গাড়ি চালাতে না হয়। (৩) নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর সড়কের পাশে সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরি। (৪) অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাস্তা পারাপার বন্ধ করা। (৫) সড়কে যাতে সবাই সিগন্যাল মেনে চলে-তা নিশ্চিত করা। পথচারী পারাপারে জেব্রাক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা। (৬) চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
সড়কে নিরীহ পথচারী, সবচেয়ে অরক্ষিত সড়ক ব্যবহারকারী, তাকে কোনো গাড়ি আঘাত করলেই পরিণতি খুব খারাপ হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ৫৮ শতাংশ পথচারীই রাস্তায় মারা যাচ্ছে। মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ শতাংশ। পশ্চাতে যে সংঘর্ষটা হয়, সে ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ এবং গাড়ি উল্টে রাস্তা থেকে পড়ে গিয়ে আরও ৯শতাংশ মারা যায়। পথচারীর স্বভাবতই সুরক্ষা থাকে, যখন সে হাঁটে, তখন কিন্তু একটা যানবাহন এসে তাকে আঘাত করতে পারে না। এটাই রীতি। পথচারীর জন্য যে পথটা বরাদ্দ থাকে, সেটা হলো একটা ফুটপাত এবং রাস্তা পারাপার করার জন্য নি¤œতম পর্যায়ে হচ্ছে জেব্রা ক্রসিং এবং উচ্চমানের নিরাপদ হচ্ছে ওভারপাস অথবা আন্ডারপাস। আমরা দেখি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাস্তা পার হতে গিয়ে লোকজন মারা যাচ্ছে এবং বাকি প্রায় ৪০ শতাংশ মারা যাচ্ছে হাঁটতে গিয়ে।

আমরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা বা ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের ব্যবস্থা করতে পারলে এদের হয়তো বাঁচানো সম্ভব। দরকার কিছু ফার্ষ্ট

রেসপন্ডার তৈরি করা। অর্থাৎ দুর্ঘটনা যে জায়গায় ঘটবে, সে জায়গায় যদি চিকিৎসা দেওয়ার একটা ব্যবস্থা করতে পারা যায়, তাহলে হয়তো অনেক লোককে বাঁচানো যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মী তৈরি করতে পেট্টোল পাম্প, সিএনজি ষ্টেশন বা স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোতে যারা কাজ করে, তাদের প্রশিক্ষিত করে ফার্ষ্ট রেসপন্ডার করতে পারি। অথবা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। দুর্ঘটনা রোধের জন্য আলাদা একটি সংস্থা করা প্রয়োজন।

সবার আগে ড্রাইভারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে বাস্তব ধারণা দিতে হবে। মহাসড়কে গাড়ী চলাচলের নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। হঠাৎ হঠাৎ নতুন নতুন সিদ্ধান্ত দিয়ে জনসাধারণকে ভোগান্তিতে না ফেলে বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সম্মিলিত উদ্যোগে প্রয়োজন।

The Post Viewed By: 59 People

সম্পর্কিত পোস্ট