চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২১ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

হকার্স ও জালালাবাদ মার্কেটে অগ্নিকা-

নগরীতে পাশাপাশি দুটি পোশাক মার্কেটে আগুন লেগে অন্তত ১৩২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যাওয়ার খবর খুবই উদ্বেগকর। দৈনিক পূর্বকোণে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শনিবার ভোররাতে জুবিলী রোডে পাশাপাশি জহুর হকার্স মার্কেট ও জালালাবাদ মার্কেটে আগুন লাগে। রাত সাড়ে তিনটায় প্রথমে আগুন লাগে জালালাবাদ মার্কেটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে জহুর হকার্স মার্কেটেও। অগ্নিকা-ের খবর পেয়ে ১৯টি অগ্নিনির্বাপক গাড়িসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অক্লান্ত চেষ্টার পর ভোর পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে সকাল সাড়ে নয়টার সময়। কিন্তু এর আগেই জালালাবাদ মার্কেটের ৮৫টি এবং হকার্স মার্কেটের ৪৭টি দোকান পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোতে ছিল কম্বল, বেডশিট, আয়রন, অ্যামব্রয়ডারি, তৈরি পোশাক, টিশার্ট, শার্ট, জিন্স প্যান্টসহ নানা পণ্য। এছাড়া দ্বিতল দোকানগুলোর ছাদের টিন, তক্তা এবং অন্যান্য দোকানের ফ্যানসহ ব্যবহৃত আসবাবপত্রও পুড়ে যায়। আগুনের উৎসের ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হতে না পারলেও ফায়ার সার্ভিসের ধারনা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
আগুনে দুই মার্কেটের নিচের তলার দোকানগুলোর বেশি ক্ষতি হলেও দ্বিতল দোকানগুলোর ছাদের টিন, তক্তা এবং অন্যান্য দোকানের ফ্যানসহ ব্যবহৃত আসবাবপত্রও পুড়ে যায়। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা। জানা গেছে, পানি সংকট থাকায় এবং মার্কেটটির প্রবেশ পথ সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি ঘটনাস্থলে। পাইপ দিয়ে পানি নিতেও েেবগ পেতে হয়। ফলে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। অগ্নিনির্বাপণের সময় ফায়ার সার্ভিসের দুইজন কর্মী আহত হয়েছেন। যদিও ফায়ার সার্ভিসের ধারনা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তবে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারটি তখন স্পষ্ট হবে।

তবে আগুন লাগার কারণ যা-ই হোক, সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল হলে আগুনের বিস্তার ঠেকানো যেতো। আর বিস্তার ঠেকানো গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হতো। পূর্বকোণে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, এই দুই বিপণিকেন্দ্রে অগ্নিনির্বাপণের কোনো সরঞ্জাম নেই, এমনকি ফায়ার লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা এবং অপ্রশস্ত সড়কের কারণে শাহ জালালাবাদ মার্কেট ও জহুর হকার মার্কেটে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ঢোকার সুযোগ না থাকায় পার্শ্ববর্তী দোকানের ছাদে দাঁড়িয়ে পানি ছিটাতে হয়েছে। মার্কেটগুলোর স্থাপনাগুলোর কাঠামোও অননুমোদিত। এসব স্থাপনার নিচে সেমিপাকা হলেও, ওপরে টিনের দোতলা। কোথাও কোথাও কাঠের কাঠামোও আছে। দেয়ালে কোনো আস্তরণ নেই। বৈদ্যুতিক লাইন এলোমেলোভাবে টানা। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ ছিল না। আবার শীতমৌসুমকে সামনে রেখে বিভিন্ন দোকান ও গোডাউন ছিল কম্বলসহ শীতের কাপড়ে পরিপূর্ণ। ফলে আগুন সহজেই সর্বগ্রাসী হয়ে উঠে। উল্লেখ্য, আগেও একবার জহুর হকার্স মার্কেটে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে ছিল। তখন তদন্ত কমিটি অগ্নিকা- প্রতিরোধে কিছু সুপারিশ দিয়েছিল। কিন্তু সেব সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। যদি মার্কেট দুটিকে অগ্নিঝুঁকি মুক্ত করার পদক্ষেপ থাকতো তাহলে এবার নিশ্চয়ই এতো ব্যাপক আকারে ক্ষয়ক্ষতি হতো না।

বলার অপেক্ষা রাখে না, অগ্নিকা- একই সঙ্গে জীবন ও সম্পদবিনাশী। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ, উদ্ধার প্রক্রিয়া ও জনসচেতনতা যতটুকু থাকা দরকার, তা নেই। বলতে গেলে জরুরি অবস্থা ও ব্যবস্থার কোন ধারণাই গড়ে ওঠেনি অগ্নি নির্বাপণ কিংবা অন্যবিধ দুর্ঘটনা মোকাবেলায়। এ বিষয়ে কারও কোন প্রশিক্ষণও নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় অগ্নিকা-সহ অন্যান্য দুর্যোগের সম্ভাব্য বিপদ ও ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। বিশ্বের অনেক দেশে অগ্নিকা-সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে। বাংলাদেশেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। এ ছাড়া বিপদ মোকাবেলায় সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং নিয়মিত মহড়া ও স্বেচ্ছাসেবক তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। জহুর হকার্স ও জালালাবাদ মার্কেটে অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের পুনর্বাসনে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগও প্রত্যাশিত।

The Post Viewed By: 68 People

সম্পর্কিত পোস্ট