চট্টগ্রাম বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

আহমদুল ইসলাম চৌধুরী

কালান্তরে দৃষ্টিপাত হজ¦স্মৃতি : রাস্তায় পানির প্রবল স্রােত অতিক্রম করে রমি করা

১১ যিলহজ্ব সোমবার মিনায় জমরাতের (শয়তানের) দিকে যাচ্ছিলাম ৩ শয়তানের প্রতি ২১ টি পাথর নিক্ষেপ করতে। আল-হেরা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এজেন্সীর মালিক তথা এম.ডি ¯েœহের মোর্শেদ আমাকে ৫ দিনব্যাপী হজ্ব করতে একটি গাড়ি দেয়। ১০/১২ জন বসতে পারে। বেলা ১১ টার পর পর নির্দিষ্ট সহযাত্রীগণকে নিয়ে রওনা হই। রওনা হতে না হতে প্রবল বৃষ্টি। ১০/১৫ মিনিটের ব্যবধানে রাস্তায় প্রবল স্রােত। আরকানের সৌদি প্রবাসী ড্্রাইভারকে চিল্লায়ে বলতে থাকি গাড়ি যাতে না থামায়।

থামলেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে আমরা আটকে যেতে পারি। আমরা যাচ্ছিলাম পবিত্র মক্কা থেকে আজিজিয়া দিয়ে পবিত্র মক্কা থেকে যারা রমি করবে তাদের পথ বা রাস্তা দিয়ে। মোষলধারে ২০/২৫ মিনিট বৃষ্টির পর কমে যায়। আমরা আজিজিয়ায় অভিষ্ট স্থানে গাড়ি পার্ক করাই। মহিলা ও অসুস্থজন গাড়িতে থেকে যায়। আমরা ৫ জন গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে পার হয়ে শুরু করি। দেখি আজিজিয়া উত্তর-দক্ষিণ ডিভাইডেড প্রধান সড়কের দুই দিকে প্রবল স্রােত। আমাদেরকে এ রাস্তা হেঁটে রমি করতে যেতে হবে। রাস্তায় অসংখ্য গাড়ি আটকে যাচ্ছে প্রবল ¯্র্োতের কারণে। আমি হালকা পাতলা, দুর্বল, শরীরের লোক। পানির গভীরতা ২ ফুট বা কম বেশি হলেও প্রবল স্রােতের কারণে রাস্তায় পা স্থির রাখা সম্ভব হবে না। ভাগ্য ভাল সহযাত্রী স্ব-পরিবারে হজ্ব করতে আসা কক্সবাজারের বলিষ্ঠ দেহের ৪০ এর কোটার মিন্টু আমাকে শক্তভাবে ধরে রাস্তা পার করিয়ে দেয়।
এদিন ১১ যিলহজ্ব ২০/২৫ মিনিটের প্রবল বৃষ্টিতে মিনার তাঁবুগুলোতে অবস্থানের সমস্যা সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় মিনার অভ্যন্তরে রাস্তাগুলোতে পানির স্রােত পড়ে শুনতে পাই। ফলে দুপুরের দিকে লাখ লাখ হজ্বযাত্রী মিনার তাঁবু থেকে উত্তর দিকে রমি করতে আসতে পানির স্রােত অতিক্রম করতে হচ্ছিল।

মূল হজ্বের দিন তথা ৯ যিলহজ্ব আরাফাতে বিকালের দিকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। ২ তাঁবুর মধ্যখানে পানি পড়ে কার্পেট ভিজে যায়। তাঁবুগুলোর গলি পথে পানির স্রােত পড়ে। সেই এক ব্যতিক্রমধর্মী দৃশ্য।
মরুভূমির দেশ সৌদি আরব তথা জজিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপ। বর্ষাকাল নেই, বৃষ্টিও তেমন হত না। ফলে আমাদের দেশের মত রাস্তা সংলগ্ন ড্রেনের ব্যবস্থা নেই। ফলশ্রুতিতে রাস্তা দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে নিচের দিকে চলে যায়। গত কয়েক বছরে সৌদি আরবে প্রবল বৃষ্টি,পানির স্রােতে মানুষ মারা যাচ্ছে। ঘরবাড়ি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসংখ্য গাড়ি পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়।

পবিত্র মক্কা কেন্দ্রীক হজ্ব বাৎসরিক উৎসব। হজ্ব সীজনের পর লাখ লাখ ওমরাকারী পবিত্র মক্কায় যাওয়া আসা করতে থাকে। তারা যেয়ারতের উদ্দেশ্য পবিত্র মদিনায় যাবে। ৮/১০ দিন অবস্থান করবে স্বাভাবিক।
কাজেই সৌদি সরকারকে বৃষ্টির পানিতে যাতে দেশের জনগণের ক্ষতি না হয় সে লক্ষ্যে পর্যাপ্ত ড্রেনের ব্যবস্থার কাজ শুরু করে দিতে হবে।

উল্লেখ্য হজ্বের সময় জমরাতে তথা শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে লক্ষ লক্ষ হাজীর এক সাথে চাপ পড়ে। এতে অনেক হাজী মারা যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে। ফলে সৌদি সরকার গত ১০ বছরের ব্যবধানে শয়তানের অবকাঠামো ভেঙ্গে নতুনভাবে নির্মাণ করে। এতে মিনা থেকে নিচতলা,প্রথমতলা ও তৃতীয়তলা দিয়ে এবং পবিত্র মক্কা থেকে যারা আসবে তারা আজিজিয়া হয়ে দ্বিতীয়তলা দিয়ে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের ব্যবস্থা করে। তা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে পাথর নিক্ষেপে যাওয়া এবং ফিরে আসার মধ্যে মুখোমুখি না হয়। ফলে জমরাতের এরিয়ায় নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক ভাল বলা যায়।
বস্তুতঃ তিন শয়তানের অবস্থান মিনার একদম উত্তরপ্রান্তে। পাহাড় বেষ্টিত মিনা যা উত্তর দিকে কিছুটা পূর্বে দক্ষিণ দিক কিছুটা পশ্চিমে।

মিনার দিক থেকে প্রথমে ছোট শয়তান এরপর ১০০ মিটার উত্তরে মেঝ শয়তান অতঃপর প্রায় ১৫০/২০০ মিটার আরও উত্তরে বড় শয়তান। বড় শয়তান থেকে উত্তর দিকে মাত্র ৩০০/৪০০ মিটার এর মধ্যে মিনার উত্তর সীমান্ত শেষ। তিন শয়তানের সোজা পশ্চিমে সামান্য উত্তরে পবিত্র কাবা। রমি করে হাজীরা যাতে হেঁটে আসতে পারে সে লক্ষ্যে সমতলে উপরে সেট,পাহাড়ে সুড়ঙ্গ করে রাস্তাকে সহজ করা হয়েছে।

মিনার দক্ষিণ সংলগ্ন গজবের স্থান। ইয়ামেনের আব্রাহা বাদশাহ পবিত্র মক্কায় এসে হজ্ব না করে সেখানে তার নির্মিত ঘরকে নিয়ে হজ্ব করার জন্য পবিত্র মক্কার কাবা শরীফকে ধ্বংস করতে এসে এ স্থানে নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যায়। সেই এক বর্ণনা। জায়গাটির অবস্থান উত্তর- দক্ষিণ কয়েক ‘শ’ মিটার মাত্র। অতঃপর মুজদলফা শুরু।

মুজদলফার উপর দিয়ে হজ্বযাত্রীগণের কল্যাণে একটি ফ্লাইওভার ব্রীজ রয়েছে। আরবীতে ব্রীজকে খুবরী বলে। ইহা বাদশাহ ফয়সালের নামে খুবরী ফয়সাল। এ খুবরী ফয়সাল থেকে মিনার দিকে মুজদলফা তিন ভাগের এক ভাগ প্রায়। সৌদি সরকার গরীব দেশের হাজীদের জন্য এখানে মিনা হিসেবে হাজীরা অবস্থানের জন্য তাঁবুর ব্যবস্থা করে থাকে। আরও তাঁবুর ব্যবস্থা করে থাকে মিনার পূর্ব সংলগ্ন পাহাড়ের পূর্ব দিকে।

The Post Viewed By: 124 People

সম্পর্কিত পোস্ট