চট্টগ্রাম সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১২:৪৫ এএম

কঠোর পদক্ষেপ নিন রোহিঙ্গাদের হাতে ভুয়া এনআইডি

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যে মিয়ানমারের নাগরিক সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় তাদের আশ্রয় দিয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশে তাদের অবস্থান ক্ষণিকের। এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মানবিকতা ও উদারতার সুযোগে যখন রোহিঙ্গারা ইয়াবাব্যবসাসহ নানা অপরাধকর্ম সংগঠিত করে, সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করে; এমনকি অবৈধ উপায়ে জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ করার মতো গর্হিত কর্মে লিপ্ত হয়, তখন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প থাকে না। কারণ এতে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত। এটি খুবই উদ্বেগকর।

বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামসহ সারাদেশেই রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে বসবাস করছে। যদিও পরিসংখ্যন ব্যুরো ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে রোহিঙ্গা শুমারি করেছে। কিন্তু সেই শুমারির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যা কম নয়। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এ দেশে নতুন নয়। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দেও ২ লাখের মতো রোহিঙ্গা এসেছিল শরণার্থী হয়ে। পরবর্তী সময়ে তাদের একটি অংশকে ফেরত পাঠানো হলেও অনেকেই নানা কৌশলে থেকে গেছে এদেশে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দেও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটে। তাদেরও একটি অংশ ফেরত যায়নি। এরপর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দুই বছরে এদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখেরও বেশি। গত দুই বছরে কেবল আশ্রয় শিবিরগুলোতে জন্ম নিয়েছে প্রায় ৬০ হাজার নবজাতক।

কক্সবাজারেরর রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়াদের মধ্যেও অনেকেই দালালদের সহায়তায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

দৈনিক পূর্বকোণে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে, পুরোনো রোহিঙ্গারা আত্মীয়তা সূত্র ধরে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের ঠাঁই করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। নগরীর সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে হালিশহর, বায়েজিদ এবং বাকলিয়ায়। বাকলিয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেড়েছে মূলত সেখানকার বাস্তুহারা সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রকাশ বার্মাইয়া জসিমের মাধ্যমেই। সেখানে নতুন-পুরোনো মিলে শতাধিক পরিবারের বসবাস রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ভোটার হয়ে গেছে। বার্মাইয়া জসিম গত চসিক নির্বাচনে ৩৫নং বক্সিরহাট ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। এভাবে প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে নানাজনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন স্থান ও বস্তিতে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন চলছে। তবে শুধু চট্টগ্রাম মহানগর নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় রোহিঙ্গাদের বসবাস রয়েছে। চন্দনাইশের দোহাজারীতে শঙ্খ নদীর তীরে রোহিঙ্গাদের বসবাস বেশি। সেখানে বার্মাইয়া কলোনি নামে বিশাল কলোনি রয়েছে। তারা ইয়াবাব্যবসা, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এদের অনেকেই স্থানীয়দের সাথে বিয়ে-শাদীর বন্ধনেও আবদ্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই অবৈধ উপায়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে, জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রও করে নিয়েছে অনেকে। দিনকয়েক আগেও চট্টগ্রামে ৪৭টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সন্ধান পাওয়া গেছে। এভাবে রোহিঙ্গারা এদেশের মূলধারার জনগোষ্ঠীর সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অপচেষ্টা রুখতে হবে। যারা অবৈধ উপায়ে ভোটার হচ্ছে, জন্মসনদ ও এনআইডি নিচ্ছে তাদের এবং যাদের মাধ্যমে এই অপকর্ম হচ্ছে তাদের সবাইকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। এখনই এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমাবেশের পর থেকে চট্টগ্রামে তাদের গতিবিধির ওপর সরকারি নজরদারী অরোপ হলে অনেকেই ঢাকা, সিলেট এবং উত্তরবঙ্গে পাড়ি জমাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা রোহিঙ্গারা এখন এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার কৌশল খুঁজছে। এ ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা দিচ্ছে বিভিন্ন এনজিও। সেজন্যেই তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা দেওয়াই শুধু নয়, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং অবাধ চলাফেরার সুযোগসহ এ দেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছে। দেশস্বার্থে এ বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান দরকার। ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, কোনো অপরাধকর্মে যুক্ত না হতে পারে, সে ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার পাশাপাশি দেশে আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের শণাক্ত করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়াও জরুরি। তারা যাতে ভোটার না হতে পারে, এনআইডি না নিতে পারে, তাও নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে মিয়ানমার সরকার যাতে অবিলম্ভে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয়, সে জন্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারসহ সব ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করতে হবে।

The Post Viewed By: 87 People

সম্পর্কিত পোস্ট