চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:২০ পূর্বাহ্ণ

জিয়া হাবীব আহসান

স্মৃতিতে অমলিন চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আলহাজ ইউসুফ চৌধুরী

দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর চেয়ারম্যান শ্রদ্ধেয় খালুজান আলহাজ্ব মরহুম ইউসুফ চৌধুরী সম্পর্কে কিছু লিখতে বার বার বিবেকের তাগেদা পেয়ে আসছিলাম। এতো কাছের মানুষটি সম্পর্কে কিছু না লিখে পারা যায়না। এ লেখাটি তাঁর সম্পর্কে আমার একান্ত ভাবনা ও স্মৃতি থেকে উৎসারিত। তিনি আমার খালু (আমার মায়ের জেঠাতো বোনের স্বামী)। জোহরা খালাম্মা আমার আম্মাদের বড় বোন। নানার বাড়ির সমস্ত মা-খালাদের মধ্যে খালুজান সকলের বড় জামাই এবং তিনি সকলের প্রিয়জন ছিলেন। তাঁর বড় ছেলে দৈনিক পূর্বকোণের সুযোগ্য সম্পাদক তসলিম উদ্দিন চৌধুরী এবং তিনি পরপারে চলে গেলেও তাঁরা আমাদের হৃদয়ে এক বিশেষ শ্রদ্ধার আসন দখল করে আছেন।

রাউজান সুলতানপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী আমিনুল্লাহ কেরানীর বাড়ী আমাদের নানার বাড়ি । মরহুম তসলিম উদ্দিন চৌধুরীর নানাজান মরহুম মুন্সী আমিন উল্লাহ্ কেরানীর ৪র্থ পুত্র মরহুম বজলুল করিমের জ্যৈষ্ঠ কন্যা জোহরা খালাম্মাদের পৌত্রিক গৃহ আর আমার নানা মরহুম এডভোকেট এজাহার হোসেন বি.এল এর ঘর একেবারে লাগোয়া পাশাপাশি। আমার নানা ছিলেন মুন্সী শরীয়ত উল্লাহ্র একমাত্র পুত্র। তাঁর এবং আমার উভয় নানা পরস্পর আপন চাচাতো জেঠাতো ভাই ছিলেন। উভয় পরিবার একই বংশ একই গোষ্ঠি। আমার পিতা মরহুম আলহাজ্ব এডভোকেট আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্য়্যা ও মরহুম আলহাজ্ব ইউসুফ চৌধুরী পরস্পর ভায়েরা ভাই ছিলেন। বিশিষ্ট ‘বংশ শেজরা’ গবেষক আলহাজ্ব মোহাম্মদ দিদারুল আলম রচিত ‘আমার বংশ শেজরা’ গ্রন্থে তাঁদের জীবনী পাশাপাশি লিপি আছে। আমার ছোট খালাম্মা মালেকা পারভীনকে মরহুম ইউসুফ চৌধুরীর ভাতিজা বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক বাবুল বিয়ে করলে তাঁর সাথে আমাদের নতুন আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি হয় এবং তাঁদের বাড়িতে বহুবার যাওয়ার সুযোগ হয়। মরহুম ইউসুফ চৌধুরীর বাড়ি একই গ্রামের (সুলতানপুর) হাজী পাড়ায় অবস্থিত। এই সুন্দর গ্রামটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত বিধায় দেশে বিদেশে সুপরিচিত। নানার বাড়ির যে কোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধেয় জোহ্রা খালাম্মার সাথে তৎপুত্র তসলিম উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতাম । তিনি ছোটদের খুব ¯েœহ করতেন ও বড়দের শ্রদ্ধা করতেন।

আম্মার মুখে ছোটবেলা থেকে তাঁদের তিন ভাইয়ের প্রশংসা শুনতাম। তসলিম ভাই (তাঁকে আমরা ‘তসলিম বর্দ্দা’ বলে সম্বোধন করতাম)। সকল মামাতো খালাতো ভাইদের ¯েœহ মাখা কন্ঠে নাম ধরে ডাকতেন। বয়সে অনেক বড় হলেও তিনি আমাদের বন্ধুর মতো ব্যবহার করতেন। তাঁর প্রেরণায় আমি দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি শুরু করি। মায়ের মুখে ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি সফল ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব ইউসুফ চৌধুরীর নাম। ১৯৪৫ সালে সামান্য মূলধন নিয়ে বইয়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরুর মাধ্যমে সততা নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা সর্বোপরি আল্লাহর রহমত তাঁর জীবনকে সাফল্যের চরম শিখরে নিয়ে যান। শিক্ষার প্রতি অনুরাগ থেকেই তিনি বইয়ের ব্যবসায় জড়িত হন। চট্টগ্রামের প্রেস, প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পে তাঁর সুনাম দীর্ঘদিনের। আধুনিক প্যাকেজিং ইন্ডাষ্ট্রি, ঔষুধশিল্পসহ আরো বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেন। সিগনেট প্রেস, নিউজফ্রন্ট ও ইউসুফ চৌধুরী এ তিনটি নাম একেবারে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমার পিতা মরহুম আবু মোঃ য়্যাহ্য়্যা থেকে শুনেছি তাঁর ছাত্র জীবনে তিনি নিউজফ্রন্ট থেকে বই কিনতেন ও নোবেল বই ভাড়া আনতেন। রিডার্স ডাইজেস্টসহ পৃথিবীর বহু নামী দামী ম্যাগাজিন ইউসুফ চৌধুরীর নিউজ ফ্রন্টেই পাওয়া যেত। যেমন- পাকিস্তানের করাচী থেকে প্রকাশিত ডন গ্রুপের পত্রিকা ‘ইলাস্ট্রেড উইকলি’, ভারতের স্ট্যাটসমেন্ট পত্রিকা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘ডন’ গ্রুপের নিউজ, পাকিস্তানের অবজারভার প্রভৃতির তিনি এজেন্ট ছিলেন। তখনকার সময়ে নিউজফ্রন্ট ছিল বিজ্ঞজনদের মিলনমেলা। তিনি ১৯৫৪ সালের মুদ্রণশিল্প সিগনেট প্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পেইঙ্গুন ও পেলিকান পেপার ব্যাংক বই-পত্র আমদানী শুরু করেন । মুদ্রণশিল্প থেকে আধুনিক সংবাদপত্র শিল্পের সফল নায়ক ইউসুফ চৌধুরী। ১৯৩৩ সালে কবি নজরুল তৃতীয় বারের মতো চট্টগ্রাম এলে এ বাড়িতে অবস্থানপূর্বক ২ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এক সাহিত্যসম্মেলনে যোগদান করেন। সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কবিগান ও আবৃত্তি।

নজরুল স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী উক্ত হাজী বাড়িতে ১৯২২ সালে ইউসুফ চৌধুরীর জন্ম। তিনি ১৯৪৩ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। চল্লিশের দশকে বিশ্বযুদ্ধের তান্ডব চলাকালে সক্রিয়ভাবে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সাহিত্য-সংস্কৃতির পাদপীট রাউজানে আজাদী সম্পাদক আলহাজ্ব প্রফেসর মোঃ খালেদ, দৈনিক পূর্বকোণ এর আলহাজ মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরীর মতো বহু জাতীয় ব্যক্তিত্বের জন্মভূমি। সুপরিচিত সিগনেট প্রেসমুদ্রণ শিল্পে একটি অতি পরিচিত নাম। এর সাফল্য বয়ে আনে দৈনিক পূর্বকোণের মতো আধুনিকতম সংবাদপত্র শিল্পের উত্থান। ১৯৮৬ সালে দৈনিক পূর্বকোণের সূত্রপাত। ইউসুফ চৌধুরী প্রকৃত অর্থে একজন সফল ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সংবাদপত্রশিল্পের নায়ক ও সর্বোপরি মানবদরদী চট্টগ্রাম উন্নয়নের প্রবক্তা। তিনি দৈনিক পূর্বকোণসহ একাধিক শিল্পের প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করেছেন। ইউসুফ চৌধুরীকে বাংলাদেশের একজন সফল উদ্যোক্তা ও শিল্পপতি বলা হয়। তাঁর জীবন ও কর্ম, ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যবহারিক ব্যবস্থাপনাকে কেস স্টাডি হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত শিল্পোদ্যোক্তা পরিচিত বইয়ে ছাপানো হয়। আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও ধার কর্জে, যোগ্যতায় শ্রম সাধনায় কীভাবে একজন মানুষ অসাধারণ ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করতে পারে ইউসুফ চৌধুরী তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাউজানে ব্যবসা গুটিয়ে চট্টগ্রাম শহরের সমবায় সমিতি সদনের সামনে মাসিক ১৮/- টাকা ছনের তৈরি দোকান ভাড়া নিয়ে তথায় ২০০০/- টাকা পুঁজি বিনিয়োগে মনোহারী দোকান শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী পত্রিকার এজেন্সী নেয়া, মাসিক ৯/- টাকা ভাড়ায় পুরানো দোকানের পাশে নিউজ ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা, ২০ জন লোকের কর্মসংস্থানের সিগনেট প্রেস প্রতিষ্ঠা, ১৯৬০ সনে ৪ (চার) লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণে মেশিনারী আমদানী, জুবলী রোডে বুক সোসাইটি ভবন ভাড়ায় নিয়ে প্রেস প্রতিষ্ঠা, ১৯৬০ সালে বিদেশ থেকে এনে প্রিন্টিং ও কাটিং মেশিন প্রতিষ্ঠা, সম্ভাবনাময় লেখকদের বই ছাপানো ও প্রকাশনা ব্যবসা, ১৯৬৭ সালে প্যাকেজিং ব্যবসাকে সম্প্রসারণ, ১৯৬৯ সনে ৪ (চার) লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণে মেশিনারী আমদানী, বুক সোসাইটি ভবন ভাড়ায় নিয়ে প্রেস ও প্যাকেজিং ইউনিট প্রতিষ্ঠা, ১৯৮৪ সালে ১ কোটি টাকা বিনিয়োগে বিসিক শিল্প নগরীতে সিগনেট বক্স ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন, ১৯৮৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক পূর্বকোণ প্রকাশ তাঁর সাফল্যের চরম শিখরে উঠার নজির। সত্যিই তিনি একজন বিস্ময়কর সফল উদ্যোক্তা। শূন্য থেকে আরম্ভ করে তিনি একটি সম্প্রসারণশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

তাঁর জীবনের দীর্ঘ ও বিচিত্র অভিজ্ঞতা হতে তিনি উপলব্ধি করেন যে, সফল উদ্যোক্তার কয়েকটি গুণ অপরিহার্য। সেগুলো হল প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ট তত্ত্বাবধান, ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধা পূর্বানুমান করার ক্ষমতা, ভবিষ্যৎ কারবার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে কর্মচারী নিয়োগ এবং পণ্য বিপণনের জন্য সঠিক বন্টন প্রণালীর ব্যবহার ইত্যাদি, এসব গুণ তাঁর ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, সফল উদ্যোগের পথে অন্যতম অন্তরায় হলো সঠিক পরামর্শ ও নির্দেশনার অভাব। একাধারে বহুমুখী প্রতিভার এ দুর্লভ ব্যক্তিত্বের বর্ণাঢ়্য জীবনালেখ্য এ সামান্য পরিসরে লিখে শেষ করা যাবে না। মরহুম ইউসুফ চৌধুরীর মৃত্যুর বহু পূর্বেই তাঁর অপর বড় ভাই মরহুম ইউনুছ চৌধুরী, ছোট ভাই ইদ্রিছ চৌধুরী ও একমাত্র বোন ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতা মরহুম দুলা মিয়াঁও একজন সমাজকর্মী ও ধর্মানুরাগী ছিলেন। পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ, ঐক্য ও সংহতি প্রণিধানযোগ্য, যা তাঁর সাফল্য ও উন্নয়নকে পরিপূর্ণতা দান করে। তাঁর তিন পুত্র যথাক্রমে প্রকৌশলী তসলিম উদ্দিন চৌধুরী, জসীম উদ্দিন চৌধুরী এবং ডা. ম রমিজউদ্দিন চৌধুরী ভাইকে উচ্চশিক্ষিত করে আদর্শ যোগ্য মানুষ হিসাবে গড়ে তোলেন। ধন্যাঢ্য পরিবারের পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাদের সহজ সরল কর্মঠ জীবন যাপনে অভ্যস্ত করেন। তিনি তাঁর জীবনের সকল সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদান ও প্রেরণাকে সর্বদা স্বীকার করতেন। জোহরা খালাম্মা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে প্রায়ই প্রতিটি পারিবারিক অনুষ্ঠানেই খালু ইউসুফ চৌধুরীকে নিয়ে তাতে অংশগ্রহণ করতে দেখেছি। আত্মীয়-স্বজনের সাথে তিনি কুশল বিনিময় ও খোশ গল্প পছন্দ করতেন। সকলের সুখে-দুঃখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। বিভিন্ন আইনী বিষয়ে তিনি আমার মরহুম পিতার পরামর্শকে গুরুত্ব দিতেন। দি পূর্বকোণ লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামে সংবাদপত্রশিল্পে আধুনিকতার ছোঁয়া আনেন। এর মাধ্যমে এতদাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। মুদ্রণ ও সংবাদপত্রশিল্পে পাশাপাশি তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন, ভেটারিনারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলনসহ মৎস্য ও কৃষি সম্পদ উন্নয়ন খাতে ও কর্মকান্ডে তিনি ব্যাপক অবদান রাখেন। প্রাণোচ্ছল যুবক সড়ক দুর্ঘটনার নিহত আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রতিম শাহেদুল আলম কাদেরীকে তিনি ছায়ার মতো গড়ে তোলেন। তাঁর মৃত্যুতে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে পড়েন। বৃদ্ধ বয়সেও তিনি নিয়মিত অফিস করতেন, জনসংযোগ রক্ষা করতেন, উন্নয়ন কর্মকান্ডে সময় দিতেন। আলেম ওলামাদের শ্রদ্ধা করতেন। আরাম-আয়েশে দিন কাটানোর সুযোগ থাকলেও তিনি সময়ানুবর্তিতা ও কাজের মাঝে সময় কাটাতেন বেশী।

গ্রাম উন্নয়ন ও সমাজ সেবায় তিনি যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতেন এবং তাদের কাজে লাগাতেন। নিজ বাড়ীর উন্নয়ন কাজে তিনি জানে আলম (জামাল মামা) কে কাজে লাগাতেন। উল্লেখ্য, জামাল মামা আমার খালু ইউসুফ চৌধুরীর জেঠাতো ভাইপো মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হকের ছোট ভাই। তিনি সংবাদপত্রসেবীদের জন্য ছিলেন এক বিশাল বটবৃক্ষ। ইউসুফ সাহেব তাঁর প্রতিষ্ঠানসমূহে বহু মানুষের কর্মসংস্থান করেন। দরিদ্র মানুষের সেবায়, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় তিনি ব্যাপক দান খয়রাত করেন। জনাব ইউসুফ চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের উদ্যোগে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের রাউজান হাজী বাড়িতে আগমনের ৬৭তম বার্ষিকীতে উক্ত বাড়ীর সামনে রাস্তা ও স্কুলের পাশে স্থাপিত হয়েছে নজরুল স্মৃতি ফলক, যা তাঁর একটি মহৎ উদ্যোগ। তাছাড়া চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে তিনি ডেইরী ফার্ম ও ডেইরী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ছিলেন আধুনিক চট্টগ্রামের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি ওমরাহ্ পালন করতে গিয়ে পবিত্র মক্কায় ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। মসজিদুল হারামে ফজরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে মক্কায় জান্নাতুল মাওয়ায় দাফন করা হয়। তাঁর এ মৃত্যু সত্যিই একজন সৌভাগ্যবান মানুষের বৈশিষ্ট্যধন্য। এ শূন্যতা পূরণ হবার নয়। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। আমীন ।

লেখক : আইনজীবী, সুশাসন ও মানবাধিকারকর্মী।

The Post Viewed By: 107 People

সম্পর্কিত পোস্ট