চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০২ মার্চ, ২০২১

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে জঙ্গিবাদে নতুন ঝুঁকি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণে জঙ্গিরা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে থাকলেও তারা যে নির্মূল হয়নি ফের তার ইঙ্গিত পাওয়া গেল পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে পরিচালিত এ হামলায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)সহ দায়িত্বরত এক ট্রাফিক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পুলিশকে লক্ষ করে নিক্ষিপ্ত বোমার ধরন ছিল আইইডি বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস টাইপের। এর আগেও পুলিশকে লক্ষ্য করে এ জাতীয় বোমা ছোড়া হয়েছিল দু’বার। যদিও পুলিশের দাবি স্থানীয়ভাবে সংঘটিত ছোট কোন দলই এ হামলা চালিয়েছে, কিন্তু তিনটি হামলারই দায় স্বীকার করেছে আইএস জঙ্গী গোষ্ঠী। তবে এসব সন্ত্রাসী হামলার সাথে আইএস জড়িত না থাকলেও বিষয়টি খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চয়ই উদ্বেগকর।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে জঙ্গিতৎপরতা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষও জঙ্গি আতংক থেকে স্বস্থি লাভ করেছিল। বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের নানা ঘটনা জঙ্গিরা ফের মাথাচারা দেয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত পাঁচ মাসে শুধু রাজধানীতেই ৫টি জঙ্গি ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি রাজধানীর গুলিস্তান ও মালিবাগে পুলিশকে টার্গেট করে আইইডি বিস্ফোরণ এবং এরপর ফার্মগেট ও পল্টনে ট্রাফিক পুলিশবক্সের পাশে আইইডি রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশ্লেষকদের ধারণা এসব ঘটনা একইসূত্রে গাঁথা। পুলিশকে টার্গেট করার পেছনে জঙ্গিদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু সন্দেহভাজনরা অধরা রয়ে গেছে। ফলে পরবর্তীতে বড় ধরনের নাশকতার ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনতে পারলে ঝুঁকি হ্র্রাস করা সম্ভব।

পত্রপত্রিকার নানা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে, বেশ কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ফের সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গিরা। তাদের আস্তানায় বোমা, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রের মজুদ গড়ে নাশকতার প্রস্তুতির পাশাপাশি সদস্যসংগ্রহ ও প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করছে। গ্রামের বেকার যুবকরাই এখন তাদের সদস্যসংগ্রহের তালিকায় প্রধান টার্গেট। থাকছে নারীও। যোগাযোগসহ নানাবিধ সুবিধার কারণে তারা শহরের তুলনায় প্রাধান্য দিচ্ছে মহাসড়কের পাশে গ্রামীণ জনপদ ও পাহাড়ি এলাকাকে। তারা এখন ভিন্ন কৌশল ও রূপে হাজির হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ বিষয়ে আত্মতৃপ্তি ও খামখেয়ালির কোনো সুযোগ নেই। সব বিষয় আমলে নিয়ে সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে ছোট-বড় সব জঙ্গি সংগঠনকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে। অন্যথায় তারা জাতির জন্যে কাল হয়ে দাঁড়াবে। আমরা মনে করি, দমনঅভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকলে নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার সাহস পাবে না জঙ্গিরা। জঙ্গিবাদ দমনে যে সাফল্য আমাদের এসেছে তা যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। আবার যেহেতু জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা প্রযুক্তি ব্যবহারেও অত্যন্ত পারদর্শী, সেহেতু তাদের সঙ্গে টেক্কা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। তবে চূড়ান্ত সাফল্য পেতে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনজাগরণ সৃষ্টির বলিষ্ঠ কর্মসূচিও থাকতে হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 215 People

সম্পর্কিত পোস্ট