চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৬ আগস্ট, ২০১৯ | ১২:১৭ এএম

প্রভাবশালীদের লোভের আগুনে পুড়ছে কী বস্তি?

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বস্তিতে প্রায় সময়ে ঘটছে ভয়াবহ অগ্নিকা-। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রূপনগর এলাকার একটি বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে গেছে প্রায় দুই হাজার ঘর-বাড়ি। গত (১৬ আগস্ট’১৯) শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার পর এ আগুন লাগে মিরপুর ৭ নম্বর সড়কের আরামবাগের ঝিলপাড় চলন্তিকা বস্তিতে। এই বস্তিতে বসবাসকারী অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের চোখের সামনেই পুড়ে ছাই হয়ে গেল আপন ঠিকানা। আগুন সর্বস্বান্ত করে দিলো তিন সহস্রাধিক পরিবারকে। এ আগুনে নিঃস্ব হওয়া মানুষদের শুধু কান্না, আর্তনাদ-আহাজারি ছিল না, সেই সাথে ছিল ক্ষোভ, ক্রোধ, নিন্দা, অবিশ্বাস। বর্ষা পেরিয়ে শরৎকাল এলেও প্রকৃতিতে এখনও বর্ষার আমেজ রয়েছে। তাই এটি আগুন লাগার সময়ও নয়। কিন্তু তারপরও চলন্তিকা বস্তিতে আগুন লাগল কেন? আগুনের উৎস কী? আবারো প্রশ্ন উঠেছে বস্তিতে কেন এত আগুন লাগে? বস্তিবাসীর ধারণা ও বিশ্বাস, ক্ষমতাশালীদের দখলদারিত্ব ও লোভের আগুনে পুড়ে তারা নিঃস্ব হয়েছে। যদিও পূর্বে বিভিন্ন সময় অগ্নিকা-ের পর গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এধরণের সত্যতা প্রমাণিত হয় নি। তবুও রূপনগর বস্তির ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকা- বলে উড়িয়ে দেয়া যায় না। বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিটে আগুন লাগলে কেরোসিনের গন্ধ কেন পাওয়া গেছে? কারণ, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন- আগুন লাগার সময় তারা কেরোসিনের গন্ধ পেয়েছেন এবং বস্তির উত্তর-দক্ষিণ দুদিক থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন।

বস্তিতে বেশির ভাগ সময়ই আগুন লাগার নেপথ্যে নানা ধরনের হিসাবনিকাশ থাকে। জমিদখল ও বহুতল বাণিজ্যিক ভবন তৈরির বিষয়টি এর মধ্যে অন্যতম। অধিকাংশ নি¤œ আয়ের ও ভূমিহীন অসহায়-নিরাপরাধ ব্যক্তিরা সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এসব বস্তিতে বসবাস করেন। এসব মানুষরা দিনে আনে দিনে খায়, অনেকে প্রতিবেলায় খাবার খেতে পারে না। অসয়হায় এসব বস্তিবাসীর সন্তানদের লোভের ফাঁদে ফেলে চিহ্নিত অপরাধীরা বিভিন্ন সময় মাদকাসক্তি, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণের মত অপরাধে জড়িয়ে ফেলে। দখলবাজদের থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময় অপরাধীরা বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এভাবে প্রভাবশালীদের লোভের আগুনে পড়ে বিভিন্ন সময় নিরপরাধ-অসহায় বস্তিবাসীদের মাথাগোঁজার আশ্রয়টুকু ছাই হয়ে যায়। প্রশাসনের কার্যকরি পদক্ষেপ তা রোধ করতে পারে। প্রশাসন অপরাধ নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বস্তিতে দখলদারিত্বের কারণ হিসেবে আগুন লাগার ঘটনাও অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হবে এবং রক্ষা পাবে নি¤œবিত্ত গরিব অসহায় মানুষেরা। দেশের নাগরিক হিসেবে বস্তিবাসীদের যথাযথ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা অর্থাৎ যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম
আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।

The Post Viewed By: 74 People

সম্পর্কিত পোস্ট