চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৮ আগস্ট, ২০১৯ | ১২:৩৯ এএম

নাওজিশ মাহমুদ

বাঙালির জাতি গঠনে প্রাচীন যুগের প্রভাব

একটি জাতি গঠনে ভৌগোলিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক প্রভাব যেমন পড়ে, তেমনি প্রভাব পড়ে রাষ্ট্রীয় জীবনাচার এবং পরিবেশের প্রভাব। বেঁচে থাকার জন্য মানুষ প্রতিনিয়ত বদলায়। নিজেকে ক্রমাগত পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনে যেমন তাঁর অভ্যন্তরের তাগিদ থাকে, তেমনি বাহিরের পরিবেশেরও ভূমিকা থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশে ভারত ছাড়াও আরো দুটি দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। ভারতীয়রা এক জাতিতত্ত্বের বিপরীতে দ্বিজাতিত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ভারত বিভক্ত হয়। পাকিস্তানের ভিত্তি হলো মুসলিম জাতীয়তাবাদ। কারণ প্রতিবেশী দেশসমূহ ধর্মের দিক থকে মুসলিম হওয়ায় পাকিস্তান মুসলিম পরিচিতি নিয়ে আত্মপ্রকাশ ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। ভারতের ভিত্তি হলো ভারতীয় জাতীয়তাবাদ। যা মূলত হিন্দু জাতীয়তাবাদ। হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির বিপুল ভোটে ক্ষমতাসীন হয়ে এই সত্যটাকে নিশ্চিত করছে। শুধু ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। বাঙালি জাতি ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে আলাদা হলেও বাঙালি জাতিসত্তার ভিত্তিতে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে উত্থান বিস্ময়কর এবং অভাবনীয়। যদিও বাংলাদেশে মুসলিম জাতীয়তাবাদের চোরা স্রােত এখনও বিদ্যমান।
ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশ একমাত্র জাতিসত্তার ভিত্তিতে গড়ে উঠা রাষ্ট্র। আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠার জন্য যে জাতিগত আকাক্সক্ষা এবং বৈশিষ্ট্য সে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ধীরে ধীরে অর্জন করেছে। প্রথমে নৃতাত্ত্বিক ভাবে আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়েছে। পশ্চিম ভারত ও উত্তরভারত আর্য নরডিক, দক্ষিণ ভারত দ্রাবিড় এবং পূর্ব ভারতে মঙ্গোলীয় থাকলেও প্রটো অস্ট্রোলাইড বা অস্ট্রিক নৃগোষ্ঠীর প্রাধান্য বেশী। এরপর আসে খাদ্যভ্যাস। পশ্চিম ভারত রুটি-মাংস বা রুটি ডাল হলেও সেই সাথে নিরামিষ। দক্ষিণ ভারতে ভাত প্রচলন থাকলেও নিরামিষ এবং দোসার প্রাধান্য বেশী। পূর্ব ভারতে পাহাড় সমুদ্র ও নদীর প্রভাবে মাছ ও ভাতের সাথে শাকের প্রাধান্য। এরপর গঙ্গারাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সে সর্বপ্রথম নিজেদের আলাদা স্বকীয়তা প্রকাশ করে। যা ৩২৫ খৃস্টপূর্ব থেকে খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত বজায় ছিল বলে ধারণা করা হয়। মৌর্য শাসকদের রাজধানী পাটালিপুত্র সন্নিকটে থাকায় উত্তরবঙ্গে এবং পশ্চিমবঙ্গে বৈদিক সভ্যতার প্রভাব যেমন পড়েছে, তেমনি জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মেরও প্রভাব পড়েছে। অশোকের আমলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব ব্যাপকভাবে বাংলায় প্রবেশ করেছে। তবে মৌর্যোত্তর যুগে বহিরাগত শক্তি কুষান আমলে রাজধানী মথুরায়/পেশোয়ারে থাকায় বাংলা নিজস্ব শাসন ছিল বলে ধারণা করা হয়। গাঙ্গেয় নামক বন্দর/রাজধানীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বৈদেশিক বাণিজ্য-ব্যবসা ঐ বন্দর দিয়ে চলতো। মিশর গ্রীক প্রভৃতি দেশে এই অঞ্চলের উপনিবেশ এবং ঐ সকল দেশের উপনিবেশ বাংলা অঞ্চলে ছিল। সমুদ্রের কারণে বিদেশী সংস্কৃতির সাথে বাংলার সংষ্কৃতি ও জীবনাচারে পরস্পরের বিনিময়ের ফলে একটি আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে এই অঞ্চলের অধিবাসীদের। যা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভারতীয় সমাজ থেকে ভিন্ন। গুপ্ত আমলে ব্রাহ্মণ প্রভাবিত হিন্দু ধর্ম একটি সুসংহত রূপ নেয়ায় উত্তর বাংলা ও পশ্চিম বাংলায় ব্যাপকহারে বর্ণপ্রথা সম্বলিত হিন্দুধর্মের প্রভাব পড়ে। বাংলা অঞ্চলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের আলোকে হিন্দু ধর্মের শৈব ধারা ও বৈষ্ণব ধারা প্রবেশ করে। গুপ্তোত্তর যুগে শশাংকের উত্থানের ফলে শৈব ধারা ব্যাপকভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে। নালন্দায় বৌদ্ধ বিশ^বিদ্যালয় গড়ে উঠায়, উত্তর ভারতের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু পাটালিপুত্র থেকে কনৌজে স্থানান্তর হওয়ায়, এই বৌদ্ধ বিশ^বদ্যিালয়ের প্রভাবে বাংলায় বৌদ্ধ শাসনের ভিত্তি রচিত হয়। শশাংকের উত্তারিধকারীর অভাবে এই শাসন পতনের শতবছর ধরে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সংস্কৃতিতে হিন্দু ও বৌদ্ধ লড়াইয়ে বৌদ্ধ অনুসারী পালদের উত্থান ঘটে। সমগ্র ভারতও প্রাচীনযুগ কাটিয়ে সামন্তযুগ তথা মধ্যযুগে প্রবেশ করে। একটি কৌম সমাজ ও পশুপালন সমাজ থেকে সামন্ত যুগে প্রবেশের প্রধান ভূমিকা রাখে ভূমির উপর নির্ভরতা এবং কৃষি সমাজের প্রাধান্য। বাংলা অঞ্চলে ব্যাপক কৃষিজমির কর্ষণের ফলে স্বল্প পরিশ্রমে খাদ্য উৎপাদনে গ্রামীণ সমাজ ক্রমশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠে। ভারতীয় সমাজের একটি লক্ষণীয় দিক হলে উপজাতীয় প্রাধান্য বা কৌম সমাজ থেকে বৃহৎ সা¤্রাজ্য গড়ে উঠায়, সেখানে পশুপালন সমাজ থেকে কৃষি সমাজে উত্তরণ না হয়ে, মুদ্রার প্রচলনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যভিত্তিক অর্থনীতি বিকাশ ঘটেছিল। বাণিজ্যিক ভিত্তিক অর্থনীতির প্রভাবে নগরকেন্দ্রীক সমাজ গড়ে উঠে। এই অর্থনীতি বিকাশের অন্যতম কারণ ছিল রোম সা¤্রাজ্যের সাথে ভারতীয়দের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার। ফলে ঐতিহ্যগতভাবে দাসব্যবস্থা গড়ে না উঠে কৌমভিত্তিক সমাজ থেকে বৃহৎ সা¤্রাজ্য গড়ে উঠে। যা ছিল কৌম এবং বৈদিক সভ্যতার বর্ণপ্রথার সংমিশ্রণ। রোম সাম্রাজ্যের সাথে এবং ইরানের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশীয় বাণিজ্যের ভাটা পড়ে। চীনের সাথে বাণিজ্য অব্যাহত থাকলেও তা আরবদের মাধ্যমে (ইসলাম অভ্যূত্থানের পুর্বে) এই ব্যবসা পরিচালিত হওয়ায় লাভের অংশে টান পড়ে। ফলে ভারতীয় সমাজে বাণিজ্য হ্রাস পায়। কর ঘাটতি দেখা দেয়। লোহা ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় জমির উপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। জমির ব্যাক্তিগত মালিকানা বেড়ে যাওয়ায় কৌমসমাজের যৌথমালিকানা অবসান ঘটে। জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানাভিত্তিক সামন্তপ্রথার উত্থান ঘটে। সেখান থেকে সামন্তসমাজে রূপান্তরিত হয়। ভারতীয় সমাজ ছিল বর্ণপ্রথাভিত্তিক। যা ছিল মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপীয় দাস ব্যবস্থার তুলনায় অনেকটা ভিন্ন ও নমনীয়। কৃষি উৎপাদনে ভূমি দাসের বদলে কৃষিশ্রমিকদের দ্বারা এই কাজ সম্পন্ন হতো। কৃষিশ্রমিকেরা ছিল শুদ্র বর্ণের। কৃষিব্যবস্থার প্রচলনের পরও যে সামন্তব্যবস্থা গড়ে উঠে তা ছিল ভুমি দাস ও সামন্তপ্রভু সম্পর্কের ইউরোপীয় স্টাইলের বদলে ভারতীয় বৈশিষ্ট্যের সামন্তপ্রথার। যেখানে ভুমিদাসের বদলে কৃষিশ্রমিক বা কৃষকদের দিয়ে পূরণ হয়। পশুপালন সমাজকে কেন্দ্র করে যে বৈদিক সভ্যতা গড়ে উঠে তার ভিত্তি ছিল ব্রাহ্মণ্য প্রাধাণ্য বর্ণভিত্তিক হিন্দু ধর্ম। বর্ণপ্রথার প্রতিক্রিয়ায় উত্থান হয় বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের। বৈদিক সভ্যতা ও কৌম সমাজকে ভিত্তি করে মৌর্য সা¤্রাজ্যের উত্থান হলেও অশোকের বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণের ফলে বর্ণভিত্তিক হিন্দু সমাজ পিছিয়ে পড়ে। দাস ও ভূমিদাস প্রথা বিস্তার রোধ করে। গুপ্ত আমলে হিন্দু ধর্ম বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিক্রিয়া ও মিথিস্ক্রিয়ায় কৃষিসমাজের সাথে সমন্বিত করে হিন্দু ধর্ম নতুন করে পুনর্জীবিত হয়। বর্ণপ্রথারও পুনর্বিন্যাস ঘটে। হিন্দু ধর্ম ভারতীয় সমাজে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে। বর্ণপ্রথার নতুন বিন্যাসে কারনে শুদ্র ও বৈশ্যরা কৃষিশ্রমিক ও কৃষক হিসেবে পরিগণিত হয়। বাংলার উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিম বঙ্গ এই ভারতীয় সমাজের প্রভাবে নতুন বিন্যাসকৃত বর্ণপ্রথাভিত্তিক ব্রাহ্মণ্য প্রাধান্য সমাজ গড়ে উঠে। শশাংকের উত্থানের এটাও একটা কারণ। তেমনি শশাংকের উত্থানে এই সমাজ একটি সুসংহত রূপ নেয়। যা পরবর্তীকালে এই অঞ্চল ভারতীয় প্রভাবকে এড়িয়ে যেতে পারে নি। বাঙালির ঐক্যে বাধাগ্রস্ত হয়।
পূর্ব বঙ্গ ও দক্ষিণ বঙ্গ নদীর মোহনা ও সমুদ্রের প্রভাবে ভারতীয় ধর্ম সমাজ ও সংস্কৃতির প্রভাব শিথিলভাবে বিস্তার করে। প্রভাব ফেলে তাদের জীবনাচারে। দূরপ্রাচ্যের মঙ্গেলীয় জনগোষ্ঠীর সংস্পর্শে এবং ভিন্ন শাসকদের অধীনে থাকার কারণে। সমুদ্রবাণিজ্যের কারণেও সেখানে ভূমির উপর নির্ভরতা তুলনামূলক কম ছিল। মাছ উৎপাদনে প্রাচুর্যের কারণে পশু সমাজ বিকশিত হতে পারে নি। পশু সমাজ বিকশিত না হওয়ায় পশু সমাজ থেকে উৎসারিত ধর্মের প্রভাবও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। মাছ উৎপাদনের জন্য প্রকৃতির উপর নির্ভরশীলতা তাঁদের ঐক্যবদ্ধ রাখলেও পশুসমাজের মত কৌম সমাজের চরিত্র ছিল ভিন্ন। এই অঞ্চলে আরেকটি আলদা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের বাহন হিসেবে ঘোড়ার প্রচলন থাকলেও পুর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গে বাহন ছিল নৌকা এবং হাতি। পাহাড় সংলগ্ন অঞ্চলে হাতির ব্যবহার হতো। যুদ্ধেও হস্তি বাহিনী গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। সাধারণ জনগণের বাহন ছিল নৌকা। ফলে নদীবহুল এলাকায় ঘোড়ার যাতায়ত সহজ ছিল না। এই কারণে ভারতীয় শাসকেরা এই অঞ্চলে পারত পক্ষে এড়িয়ে চলতো।
উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিম বঙ্গে সংস্কৃত ভাষার ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। বিশেষ করে শশাংকের আমলে রাজভাষা হিসেবে স্বীকৃতি একে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যায়। বৌদ্ধ ধর্মের ভাষা পালির সংস্পর্শে প্রাকৃত ভাষা হিসেবে গড়ে উঠলেও ধর্মীয় কারণে সংস্কৃতি ভাষা ব্রাহ্মণদের মধ্যে চর্চা অব্যাহত থাকে। এর বাইরে দর্শন চর্চাও হয়। সাংখ্য, যোগ, ন্যায়, বৈশেষিক, মিমাংসা এবং বেদান্ত প্রভৃতি দর্শনের উদ্ভব ঘটে। এই গুলি কিছু ভাববাদী, কিছু বস্তুবাদী হলেও প্রত্যেকটি দর্শনের লক্ষ্য ছিল মানবমুক্তি। এই সকল দর্শন চর্চার মধ্যে জীবনের বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিখ্যাত ছিল নিরীশ^রবাদী চার্বাক দর্শন। ভাববাদী দর্শনের প্রভাবে বস্তুবাদী দর্শন টিকতে পারে নি। এর ফলে বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা এবং যুক্তিবাদীচিন্তার বদলে পুরোহিত ও বর্ণভিত্তিক সামাজিক ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রশক্তির সৃষ্ট আচার-অনুষ্ঠান এই অঞ্চলে মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখে।
এই অঞ্চলের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক হলেও আর্যদের ভাষা সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক ভাষা ও তার অপভ্রংশ থেকে নতুন ভাষা গড়ে তুলে। তা হলো বাংলা। এই আধুনিক বাংলা ভাষা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পশ্চিম বঙ্গ ও উত্তর বঙ্গের অবদান বেশী থাকায়, সংস্কৃতির প্রভাব এড়িয়ে যেতে পারেনি। এ ভাষার প্রভাব নগরজীবনে প্রাধান্য পেলেও আরকানএবং চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে যে পুঁথিসাহিত্য গড়ে উঠে তারই প্রভাবে গ্রামীণ সমাজে প্যারালাল সাহিত্য ও ভাষা গড়ে তোলে। যা বাংলাদেশ গঠনে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রধান ভূমিকা রাখে। এভাবে প্রাচীন যুগ থেকে বাঙালির দুটি সমান্তরাল ধারার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীকালে ধর্মপরিচিতি এই সমান্তরাল ধারা বাঙালিকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করে ফেলে। অধিকাংশ বাঙালির মনোজগতে জাতি ও ধর্মের মধ্যে কোনটি প্রাধান্য পাবে, এখনও এই দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল।

লেখক : রাজনীতি বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

The Post Viewed By: 107 People