চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ জুন, ২০১৯ | ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

বছরব্যাপী চলুক ভেজালবিরোধী অভিযান

দেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভেজালবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ভেজাল পণ্যে নাকাল পুরো দেশ। বর্তমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিশুদের খাদ্যে চলছে ভেজাল দেওয়ার প্রতিযোগিতা। রূপচর্চার জন্য কসমেটিক্স, মানুষের শরীরের শারীরিক বৃদ্ধি কিংবা শক্তিবর্ধক ভিটামিন ওষুধ, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রধানতম মাধ্যম পানিতেও দেওয়া হচ্ছে ভেজাল, যা খেয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবন আজ হুমকির মুখে। আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান, তাই এদেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীই কৃষিকে নিয়ে তাদের জীবন সাজাচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধে চলছে ভেজাল দেওয়ার রমরমা ব্যবসা। ভেজালযুক্ত পণ্য দিয়ে কোম্পানিগুলো তৈরি করছে নিম্নমানের পণ্য। সম্প্রতি বিএসটিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে খোলা বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা ক্রয় করে বিএসটিআইর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৩টি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫২টি পণ্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
গরিব থেকে ধনীর সন্তান, ভেজালের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ নয় কেউ। যেন ভেজালেই জন্ম, ভেজালেই বেড়ে ওঠা, ভেজালের রাজ্যেই বসবাস। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বোঝা যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে খাদ্যে ভেজাল দিয়ে জনগণকে প্রতারণা করে চলছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু তারা একবারের জন্যও কি ভেবে দেখেছে এই খাদ্যই শেষ পর্যন্ত তাদের বাড়িতে আসছে তাদের নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য? সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাদ্য। আর এ বিশুদ্ধ খাদ্য সুস্থ ও সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনে একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে ভেজালমুক্ত খাবার প্রাপ্তি কঠিন করে ফেলেছে বিবেকহীন অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের জন্য। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত হিমশিম খাচ্ছে এদের নিয়ন্ত্রণের জন্য। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড নেমে পড়েছে নিয়মনীতিবহির্ভূত এ অসাধু প্রতিযোগিতায়। যার ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। সরকার তাদের দমনের জন্য জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে পবিত্র রমজান মাসে অসংখ্য কোম্পানিকে সিলগালা করে দেয়। নিয়মনীতি না মানায় তাদের বিরুদ্ধে অর্থদ-সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রমজান মাস শেষ হওয়ার পর আবারও নেমেছেন সেই রমরমা ভেজালের প্রতিযোগিতায়। কাজেই সরকারকে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সারা বছরই নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং রাখা দরকার। এ ক্ষেত্রে আইনের কার্যকারিতা খুবই কম। দেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভেজালবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ভেজাল প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে অতি মুনাফালোভী, অসাধু খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে পারলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার জনগণ ভেজালমুক্ত পণ্য পাবে। সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। আগামী প্রজন্ম পাবে ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ।

মোজাম্মেল হক
সংস্কৃতিকর্মী।

The Post Viewed By: 148 People

সম্পর্কিত পোস্ট