চট্টগ্রাম সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ | ৬:১৬ পূর্বাহ্ন

শব্দদূষণের দুর্ভোগ সিএমপির উদ্যোগ

উন্নয়ন-আধুনিকায়নের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং জনঅসচেতনতা ও প্রশাসনিক নির্লিপ্ততার সুযোগে বর্তমানে শব্দদূষণ একটি মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি শব্দদূষণের কবলে পড়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দরনগরী চট্টগ্রাসসহ সারাদেশ। এখন নগরবাসীর জীবনের সামনে শব্দদূষণ নীরব ঘাতক হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধি-বিধান থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগ না থাকায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে শব্দদূষণের মাত্রা দিনদিন বাড়ছে। আইন প্রয়োগের দুর্বলতা এবং জনসচেতনতার অভাবে শব্দদূষণ মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে চরম হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। বিশেষ করে শব্দদূষণের কারণে আগামী প্রজন্ম মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বিঘিœত হওয়া এবং ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সন্দেহ নেই, শব্দদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে নাগরিকজীবন চরম বিপদে পড়বে। তবে দেরীতে হলেও শব্দদূষণ প্রতিরোধে সিএমপির তৎপরতা নগরবাসীকে আশার বার্তা দিচ্ছে।

শব্দদূষণ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম নগরে উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রের ব্যবহার, বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে গান-বাজনা, শব্দের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য মাইক্রোফোন, লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তবে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার ও রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে সাইরেনের ব্যবহার এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। সোমবার সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান সিএমপি অধ্যাদেশের ৩৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়, উচ্চমাত্রার শব্দ কানের ক্ষতি সাধন করে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করে। উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও কতিপয় রোগের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার শব্দ ভীষণ ক্ষতিকর। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার শব্দ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এর দ্বারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। উচ্চমাত্রার শব্দ একদিকে যেমন দূষণ তেমনি জনদুর্ভোগের কারণ। তাই শব্দদূষণ প্রতিরোধে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই। পরিবেশবাদী নানা সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে সোচ্চারকণ্ঠ। সচেতন নাগরিকসমাজও শব্দদূষণ প্রতিরোধে মানববন্ধন, সভা-সেমিনারসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সময়ে। সে বিবেচনায় সিএমপির এই উদ্যোগ সাধুবাদযোগ্য বলতে হবে। তবে শব্দদূষণ প্রতিরোধে সিএমপির আইনি ক্ষমতা থাকলেও নানা কারণে সে ক্ষমতার প্রয়োগ তেমন দেখা যায় নি। এবার বিজ্ঞপ্তি জারির পর বাস্তবায়ন কতটুকু হয় তা দেখার বিষয়।

সন্দেহ নেই পুলিশ প্রশাসন আইনের নৈর্ব্যক্তিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিলে নগরবাসী শব্দদূষণের ছোবল থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন। তবে কাক্সিক্ষত সাফল্য পেতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতেও বলিষ্ঠ কর্মসূচি থাকতে হবে। শব্দদূষণের মারাত্মক কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষ সচেতন হলে, একইসঙ্গে সমাজনেতা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় পুরোহিতসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা গেলে শব্দদূষণমুক্ত জনস্বাস্থ্যবান্ধব নগর গড়ার কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। সিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার ও রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে সাইরেনের ব্যবহারকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। হয়তো ধর্মীয় স্পর্শকাতর ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় তা করা হয়েছে। তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও যাতে মাইকের অপব্যবহার না হয়, অপ্রয়োজনে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে উচ্চমাত্রার শব্দ ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত এবং রোগীর ঘুমে বিঘœ সৃষ্টিসহ জনজীবনে কোনো ধরনের অস্বস্থি তৈরি না হতে পারে, সে বিষয়েও নজরদারী দরকার। একইসঙ্গে রোগী বহনের সময় ছাড়া অন্য কোনো অবস্থাতে যাতে অ্যাম্বুলেন্সে সাইরেনের ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থান থাকতে হবে। আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষকে শব্দদূষণের ভয়ঙ্কর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে কাক্সিক্ষত সুফল মিলবে।

The Post Viewed By: 15 People

সম্পর্কিত পোস্ট