চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

২৪ জানুয়ারী, ২০২০ | ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

ইফতেখারুল ইসলাম

নতুন আরাকান সড়ক পরিত্যক্ত ভাঙা ইটে!

এলাকাবাসীর প্রশ্ন : চার বছর ধরে কাজ চলছে, কবে শেষ হবে হ বহদ্দারহাট-কালুরঘাট যেন ধূলার সড়ক, দুর্ভোগের শেষ নেই

পরিত্যক্ত পুরনো ভবনের ভাঙা ইট দিয়ে আরাকান সড়কের বহদ্দারহাট-কালুরঘাট পর্যন্ত ছয়লেনের কাজ চলছে। কার্পেটিংয়ের সময় ভালভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে না সড়ক। নির্মাণকাজ চলার কারণে গত চার বছর ধরে একপাশ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শেষ নেই। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা নিম্নমানের কাজের কারণে এই সড়কটি নির্মাণের পর আবার ভেঙে যাবে। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মৌলভীপুকুর পাড় এলাকায় কিছু অংশে কার্পেটিং করা হচ্ছে। সেখানে কার্পেটিংয়ের আগে একদম পাতলা করে বিটুমিন দেয়া হচ্ছে। এই বিটুমিন দেয়ার সময় সড়কটি ভালভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে না। রয়ে যাচ্ছে অনেক ময়লা আবর্জনা। অপরপাশে যেখানে নতুন ম্যাকাডম করে সড়ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইটের খোয়া। এছাড়া কিছু অংশে সিমেন্ট মিশ্রিত পুরনো ইটের খোয়াও দেখা গেছে।

সচেতন মহলের অভিমত, সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে যে কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু কাজের গুনগত মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন তদারক করছে বলে মনে হয় না। না হয়, যেনতেন ইট দিয়ে এভাবে সড়ক নির্মাণ করার সাহস পেত না ঠিকাদার।

আলাপকালে একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা অন্তত দেড় দশক ধরে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। চট্টগ্রাম ওয়াসা পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করতে গিয়ে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে তা নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন এই সড়কের কাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার একপাশ বন্ধ করে রেখেছে। এই রাস্তার বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে ওই রাস্তার সাথে লাগানো যত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল সবার স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে গেছে। কাপ্তাই রাস্তার মাথা হতে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কটি ধূলির সড়কে পরিণত হয়েছে। এখানে অনেকের মুখে শোনা যায়, জরাজীর্ণ রাস্তার কারণে বিনা পাম্পিংয়ে সেন্স ফিরে এসেছে অর্ধমৃত হার্ট এটাকের এক রোগীর। আবার কেউ কেউ হাসপাতালে পৌঁরুতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, যারা মানুষের দৈনন্দিন চলাচল সচল রেখে কাজ করার মত অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি এমন ঠিকাদারের কাছ থেকে কিভাবে টেকসই উন্নত কাজের আশা করা যায়।

নিম্নমানের কাজের কারণে যখন রাস্তা ভেঙে যাবে, তখন সব দোষ বৃষ্টির উপর চাপানো হবে। বাস্তবে যে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খবর নেই।
একদিকে চলছে নিম্নমানের কাজ। অপরদিকে প্রচ- ধূলিদূষণ। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ননএসি গাড়িতে করে যে একবার এই সড়ক দিয়ে যায়, তাকে বাসায় গিয়ে গোসল করতে হয়। মাথা, কাপড়-চোপড় সবকিছুতে ধূলার আস্তরণ পড়ে। সড়কের দুইপাশের বাসিন্দারা সেই চার বছর আগে বাসার জানালা বন্ধ করেছে। কেউ আর তা খুলতে সাহস করছে না। তবুও নানা ফাঁক-ফোকর দিয়ে বাসায় ধূলি ঢুকে বাসার আসবাবপত্র এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়। অথচ ধূলি দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনাও মানছে না।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালেহ পূর্বকোণকে বলেন, পাতলা করে যে বিটুমিন দেয়া হচ্ছে সেটি টাইপ-১ এর কাজ। এটি দেয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কার্পেটিং এর কাজ করা হয়। তাই প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ টাইপ-১ এর বিটুমিন দেয়ার সময় কিছু ছোটখাটো ময়লা থাকলেও তেমন কোন অসুবিধা নেই। তবে পরের স্তরের কার্পেটিংয়ের সময় কোন ময়লা থাকে না। পুরনো ইটের খোয়া ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, এই সড়কে যেসব পুরানো ইট ছিল তাও সেখানে কাজে লাগানো হচ্ছে। ঠিকাদারকে এসব ইট ব্যবহারের অনুমতি দেয়া আছে। তবে এই ইটের সংখ্যা খুব বেশি নয়। যেখানে যেটুকু ছিল সেখানে তা ভেঙে খোয়া হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আরাকান সড়কের বহদ্দারহাট-কালুরঘাট পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে বহদ্দারহাট মোড় থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের এক পাশ বন্ধ রয়েছে। ওয়াসার পাইপলাইন ও গ্যাসলাইন বসাতে এতদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সড়কটি। চট্টগ্রাম ওয়াসার শেখ রাসেল (মদুনাঘাট) প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর জন্য ২০১৬ সালের শুরুতে আরাকান সড়কের কাপ্তাই রাস্তার মোড় পর্যন্ত এক পাশের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে খোঁড়াখুড়ি শুরু করে ওয়াসা। এরপর দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর ধরে ব্যস্ত সড়কে পাইপলাইন বসানোর কাজ চলে। এর মধ্যে ফ্লাইওভারের র‌্যাম নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের অক্টোবরে বহদ্দারহাট মোড় থেকে টার্মিনালমুখী সড়কের একপাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাটমুখী যানবাহন বাস টার্মিনাল হয়ে নতুন চান্দগাঁও থানার সামনে দিয়ে চলাচল করে আসছে। ২০১৭ সালে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নবনির্মিত র‌্যাম্পটি খুলে দেওয়া হলে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসে। এদিকে পাইপলাইনের কাজ শেষ করে ২০১৮ সালের মে মাসে সড়কটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। সড়ক সংস্কারের জন্য ক্ষতিপূরণের টাকাও দেওয়া হয়। এরপর সড়কটি চারলেন থেকে ছয়লেনে উন্নীত করতে বড় ধরনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে চসিক। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৭১ কোটি টাকা। সড়কটির কাজ গত ডিসেম্বরে সম্পন্ন করার লক্ষ্য ছিল সিটি কর্পোরেশনের।

 

 

The Post Viewed By: 202 People

সম্পর্কিত পোস্ট