চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

২১ জানুয়ারি, ২০২০ | ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

আবুল কালাম আজাদ, কাপ্তাই

জব্দ সাড়ে ২২ লাখ টাকার

অভিনব উপায়ে কাঠ-লাকড়ি পাচার

রুট কর্ণফুলী গত এক মাসে কাপ্তাই থেকে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ পাচার হয়েছে।

কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে কর্ণফুলী নদী দিয়ে প্রতি রাতে মূল্যবান কাঠ পাচার করছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া পাশের উপজেলাগুলোর শতাধিক অবৈধ ব্রিক ফিল্ডের লাকড়িও নদী পথ দিয়ে পাচার করা হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, গত এক মাসে কাপ্তাই’র চন্দ্রঘোনা, ডলুছড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্ণফুলী নদী পথে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ সেগুন ও গামারী কাঠ পাচার হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্ণফুলী নদী পথের রাম পাহাড় বিট, চন্দ্রঘোনা ফরেস্ট চেক স্টেশন ও রাঙ্গুনিয়া চিরিঙ্গা চেক স্টেশনের কতিপয় বনকর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজস রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

সূত্র জানায়, নদীর জোয়ারের ¯্রােতের সঙ্গে চন্দ্রঘোনা, কাপ্তাই ও ডলুছড়ি থেকে প্রতিটি চালানের কাঠ পাচারে কর্ণফুলী নদীর রাম পাহাড় বিট, চন্দ্রঘোনা ফরেস্ট চেক স্টেশন ও রাঙ্গুনিয়া চিরিঙ্গা চেক স্টেশনের বনকর্মীদের মোটা অংকের উৎকোচ প্রদান করে পাচারকারীরা। উৎকোচ নিয়ে বন কর্মীরা রাতে নৌ-টহল শিথিল করলে কাঠ পাচারকারীরা ইঞ্জিন বোটে করে নির্বিঘেœ কর্ণফুলী পাড়ি দেয়। কাপ্তাই থেকে এসব কাঠ চন্দ্রঘোনা-রাঙ্গুনিয়া হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাচার হয়ে যায়। এছাড়া রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার শতাধিক অবৈধ ব্রিক ফিল্ডের লাকড়ির যোগানও এসব অবৈধ কাঠ থেকে দেয়া হয়। গত এক মাসে কাপ্তাই থেকে কর্ণফুলী নদী পথে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কাঠ পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, গত শনিবার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত ৪১ বিজিবি চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার ফেরি ঘাটে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সেগুন কাঠ জব্দ করেছে বিজিবি। জব্দকৃত সেগুন কাঠগুলো প্রথমে বিজিবি ওয়াগগাছড়া জোন এলাকায় নিজস্ব হেফাজতে রাখা হয়। পরে কাঠগুলো বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ দল বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে সেগুন কাঠ কেটে আনছে। এর ফলে বনাঞ্চল বৃক্ষ শূণ্য হয়ে পড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঠ চোরের দল নির্বিঘেœ কাঠ কেটে আনলেও পূর্বে কখনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েনি। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ এসব কাঠ চোরের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করারও সাহস দেখায়নি।

এ ব্যাপারে কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ পূর্বকোণকে জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষা বিজিবির দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকে আমরা কাঠ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছি। এখানে কে প্রভাবশালী অথবা কোন দলের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য বিষয় নয়। তিনি বলেন শুধু কাঠ নয়, কাঠের তৈরি ফার্নিচার, পাথর, বালু, মদসহ যেকোন দ্রব্য অবৈধ পাচারের খবর পেলেই বিজিবি তা রুখে দিবে। তিনি বলেন, অবৈধ পাচার ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কোন অপরাধী পার পাবেনা। কাঠ পাচার ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ পাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহ পূর্বকোণকে বলেন, যদি কোন রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা কাঠ পাচারের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

The Post Viewed By: 66 People

সম্পর্কিত পোস্ট