চট্টগ্রাম রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০

১৫ জানুয়ারী, ২০২০ | ৩:৩২ পূর্বাহ্ন

আদালত প্রতিবেদক

শিগগিরই রায় চাঞ্চল্যকর চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলার

সাক্ষ্য সমাপ্ত, ১৯ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক

বত্রিশ বছরের মাথায় চাঞ্চল্যকর চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলার রায় হতে যাচ্ছে। গতকাল চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী এডভোকেট শম্ভুনাথ নন্দীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি সাক্ষ্য সমাপ্ত করার আবেদন জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাক্ষ্য সমাপ্ত করে অভিযুক্তরা সাফাই সাক্ষ্য (আত্মপক্ষ সমর্থন করে সাক্ষ্য) দেবেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত অভিযুক্তরা সাফাই সাক্ষ্য দেবেন না বলে জানান। এরপর অভিযুক্তদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হয়। ১৯ জানুয়ারি এ মামলা যুক্তিতর্কের জন্য ধার্য করেছে আদালত।

এসময় আদালতে উপস্থি ৪ অভিযুক্ত হলেন প্রদীপ বড়–য়া, কনস্টেবল মমতাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শাহ আবদুল্লাহ। মামলার পলাতক আসামি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল ওরফে জিসি মন্ডল। চার্জশিটভুক্ত পুলিশ সদস্য বশির উদ্দিন ও আবদুল ছালাম মামলা চলাকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, মামলার প্রধান আসামি তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা মৃত্যুবরণ করেছেন বলে পুলিশ কমিশনারের দপ্তর থেকে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। পিপি আরো বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্য সমাপ্ত করে আদালত ১৯ জানুয়ারি যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন। যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হলে শিগগির আদালত রায় ঘোষণা করবে বলে আশা করছি।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় নির্বিচারে গুলি করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ২৪ নেতাকর্মী হত্যা করা হয়। তৎকালীন এরশাদ সরকার এ ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যুর ঘোষণা দিলেও বহু লাশ গুম করার অভিযোগ তৎকালীন বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলগুলোর। এ ঘটনায় আরো বেশি খুন হওয়ার জনশ্রুতি রয়েছে। এরশাদ পতনের পর ১৯৯২ সালে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এডভোকেট শহুদুল হক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাকা-কালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দেশে-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ মামলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও আওয়ামী লীগ নেত্রী সাজেদা চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ ১৬৮ জনকে সাক্ষীর তালিকায় রাখা হয়। এডভোকেট শম্ভুনাথসহ গতকাল পর্যন্ত ৫৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
১৯৯৬ সালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কর্মকর্তা কাদের খান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করার পর ২০০০ সালের মে মাসে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) করা হয়।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি গণহত্যাকা-ে নিহতরা হলেন সীতাকু- থানা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন শামীম, ছাত্রলীগনেতা বদরুল মো. শামীম, হাসান, জাতীয় ছাত্রলীগ নেতা এথেলবার্ট গোমেজ, স্বপন বিশ্বাস, স্বপন চৌধুরী, ক্ষেতমজুর নেতা রমেশ বৈদ্য, হোটেল শ্রমিক জিকে চৌধুরী, ছাত্রলীগনেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবদুল মান্নান, কাশেম, সমর দত্ত, পলাশ, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, শাহাদাত হোসেন, হাছান, চান মিয়া, ডিকে দাশ, কুদ্দুস, পঙ্কজ বৈদ্য, গোবিন্দ দাশ, বাহার উদ্দিন ও অজিত সরকার।

The Post Viewed By: 106 People

সম্পর্কিত পোস্ট