চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৯ মে, ২০১৯ | ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অভিজাত পোশাকের জন্য মিমি সুপারের জুড়ি নেই

শাড়িতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করেন বাঙালি নারীরা। তার সঙ্গে যদি হয় ঈদ উৎসব, তাহলে তো জুড়ি নেই। চাই জমকালো, আধুনিক ও আকর্ষণী শাড়ি-পোশাক-পরিচ্ছদ। সাথে মিশেল দিয়ে গয়না-গাটি। হোক স্বর্ণ বা ইমিটেশন। আকর্ষণীয় পোশাকের জন্য অভিজাত নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে মিমি সুপার মার্কেট। ভারতীয় পোশাকের একক আধিপত্য রয়েছে এই মার্কেটে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের জন্য প্রথম পছন্দ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মিমি সুপার মার্কেট। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, কারুকাজের জমকালো ও চোখ ধাঁধানো থ্রি-পিসের বিপুল সম্ভার রয়েছে। শাড়িতে রয়েছে বৈচিত্র্যময়। ভারতীয় পোশাকের একক আধিক্য। আমাদের দেশে এসব পোশাকে যেমন কাটতি রয়েছে, তেমন দামও। দুই হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা দামের শাড়ি রয়েছে এ মার্কেটে। পছন্দের শাড়ি, পোশাক ও গহনার টানেই অভিজাত শ্রেণির ক্রেতারা ছুটেন মিমি সুপার মার্কেটে। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মার্কেটে বেচাকেনা জমে ওঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও মেয়েদের থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা বিকিকিনি বেশি হচ্ছে। নারীদের শাড়ি দোকানগুলো জমজমাট হয়ে ওঠেছে। পোশাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জুতা, গয়না কেনাকাটাও শুরু হয়েছে। প্রতিটি দোকানে ঈদ উপলক্ষে নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাক শোভা পাচ্ছে। শুধু মহিলা, শিশুদের পোশাক নয়, তরুণ ও হালফ্যাশনের শার্ট-প্যান্ট, পাঞ্জাবিসহ রুশিশীল-

অভিজাত শ্রেণির পুরুষদের পোশাকের সম্ভারও রয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র প্রবর্তক মোড়ে অবস্থিত হওয়ায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের যাতায়াতে সুবিধা রয়েছে। অভিজাত শ্রেণির মার্কেট হিসেবে মিমি সুপারের খ্যাতি রয়েছে। মার্কেটের প্রবেশমুখের অবস্থা দেখেই তা অনুমেয় হয়। পাকিং স্পসে রয়েছে নামি-দামি প্রাইভেট কার ও গাড়ির বাহার।
কাপড় ব্যবসায়ী কাঁকনের পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন সবুজ বলেন, রোজার শুরুতে শিশু ও তরুণীদের পোশাক বেশি বিক্রি হয়। ১০ রোজার পর মহিলাদের শাড়ি কেনা শুরু হয়েছে। মিমি প্রতিটি দোকানে পোশাক-পরিচ্ছদে আলাদা বৈচিত্র্য রয়েছে। অভিজাত পোশাকের জন্য ক্রেতাদের ভরসা হচ্ছে মিমি সুপার মার্কেট।
ভারতীয় পোশাকের আধিপত্য থাকলেও দেশি পোশাকও রয়েছে এই মার্কেটে। দেশীয় শাড়ি সুতি, সিল্ক, টাঙ্গাইল শাড়ি শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। তবে জামদানির পাশাপাশি ভারতীয় গাদোয়ান, টিস্যু এবং নেট কাপড়ের ওপর পাথরের কাজ করা শাড়ি নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানায়, গাড়ি পার্কিং ও বেচাকেনা পরিবেশ ভালো থাকায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে মিমি সুপার। এক মার্কেট থেকে সব ধরনের পোশাক স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করা যায়। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা জমজমাট হয়ে ওঠেছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানায়, বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় পোশাকের জন্য সারা বছর ভালো ব্যবসা-বাণিজ্য হয়।
এবার ঈদে ভারত থেকে আমাদানি করা শাড়ি জুট কাতান, জর্জেট, গাদোয়াল, সিল্ক, বেনারসী কাতান, বোম্বে কাতান, নিলী কাতান, কাড্ডি শিপন, নেট, হাফ নেট, হাফ কাতান, ইতালিয়ান ক্র্যাপ, চুন্ডি, তসর, বালুচুরি, মারডালা, ব্রাসো, কোটা, বারিজ, কাঞ্চিভরনের এক্সক্লুসিভ পোশাকের জন্য মিমির জুড়ি নেই। রুচিশীল ক্রেতারা এখানে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। অত্যাধুনিক ডিজাইনে পাথর, পুঁতি, চুমকি দিয়ে কাজ করা ভারতীয় শাড়ির দাম পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা দামের শাড়ি রয়েছে। একইভাবে দামী থ্রি-পিসের চাহিদাও আছে। চাহিদা অনুযায়ী নারীদের পোশাকের জন্য মিমির আলাদা খ্যাতি রয়েছে।
দেখা যায়, মহিলা, শিশু ও তরুণীদের আকর্ষণে ভারতীয় মডেলদের নামে পোশাকের বাহারি নামকরণে নজর কাড়া প্রদর্শনী শোভা পাচ্ছে। ছেলেদের গেঞ্জি, টি-শার্ট ও জুতোর বাজার ভারতের পাশাপাশি দখল করেছে চীনও।
মিমির নিচতলায় কাঁকন, সুন্দরী, বধূয়া, পিন্ধন, নিউ রূপসী, ওম্যানস ওয়ার্ল্ড, লগন, আঁচল, মানসী, শাওন ভাদো ও জ্যোতিতে মেয়েদের শাড়ি, থ্রি-পিস কেনাকেনা করতে দেখা যায়। তবে দোকানগুলোতে ভিড় ছিল না। এসব দোকান নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও থ্রি-পিসে ভর্তি। দোকানিরা জানান, এবার জরি ও পাথরের কাজ করা জুট কাতান, বেঙ্গালুরুর কাতান, বেনারস কাতান, ফেন্সি কোটা শাড়ি, জর্জেট থ্রি-পিসে লং প্যাটার্নের কাজ, সুতা ও নেটের জারদৌসি কাজ করা পোশাকের প্রতি নারীদের চাহিদা বেশি। মার্কেটের দোতলায় রয়েছে জুয়েলারি ও শিশুদের পোশাকের দোকান। জুয়েলারি দোকানগুলোও সেজেছে অন্যরকম সাজে। তৃতীয় তলা শিশু, তরুণীদের পোশাক ও জুতার দোকান রয়েছে। রঙ-বেঙয়ের বর্ণিল আলোক সজ্জায় কাপড়ের দোকানগুলোকেও যেন হার মানিয়েছে জুয়েলারি দোকানগুলো। ব্যতিক্রমী সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। পছন্দের শাড়ি, থ্রি-পিস ও পোশাকের সাথে মিল রেখে জুয়েলারি সামগ্রীও কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন ক্রেতারা।
জুয়েলারি দোকানের বিক্রেতারা জানান, ৫শ টাকা থেকে শুরু করে ২০-২৫ হাজার টাকা দামে ইমেটেশনের গয়না রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী জুয়েলারিসামগ্রী রাখা হয়েছে।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মার্কেট ঐতিহ্য ও মান বজায় রেখে আভিজাত্য অবস্থান ধরে রেখেছে। উচ্চ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মন কাড়তে রুচিশীল ও দৃষ্টিনন্দন পোশাকের বিশাল সম্ভার রয়েছে।
মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন বলেন, মিমিতে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের সংখ্যা বেশি। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দের পছন্দনীয় পোশাকের জন্য মিমির আলাদা খ্যাতি রয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবার ক্রেতাদের সুবিধার জন্য যানজটমুক্ত রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে নিরাপত্তাকর্মী কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, পোশাকের দাম অতিরিক্ত না রাখার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যদি কোন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট