চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

১৮ মে, ২০১৯ | ২:২৩ পূর্বাহ্ণ

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ

ধোপাছড়ি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

চিকিৎসকের অভাব, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত এলাকাবাসী

চন্দনাইশ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে ঔষধও পাওয়া যাচ্ছে না।
ধোপাছড়ির সাথে অদ্যাবধি সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় ইউনিয়নে যাতায়াত করতে হয় নদীপথে। সড়কপথে এ ইউনিয়নে যেতে হলে কমপক্ষে ২ বার শঙ্খনদী পাড়ি দিতে হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এ ইউনিয়নের জনসাধারণ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকের দেয়া প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি সময় ধরে ধোপাছড়ি পাহাড়ি এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে এ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। ধোপাছড়ি ইউনিয়নে একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থাকলেও বর্তমানে চিকিৎসকসহ অন্য পদগুলি খালি রয়েছে। ১ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার থাকলেও তিনি প্রতিদিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ইউনিয়নে ২০ হাজারের অধিক জনগোষ্ঠী বসবাস করেন। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবার জন্য রয়েছে একমাত্র এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আ.লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে এ পর্যন্ত ১৪ হাজারেরও অধিক কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। অথচ দীর্ঘ ২ যুগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ধোপাছড়িতে একটিও কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অন্য ইউনিয়নের ন্যায় ধোপাছড়ি ইউনিয়নের জন্যও ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের বরাদ্দ রয়েছে বলে জানা যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আলম বলেছেন, চন্দনাইশের ৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় বর্তমানে ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। ধোপাছড়ি ইউনিয়নের জনসাধারণ এ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকায় ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণাধীন রয়েছে। এলাকার মানুষ জায়গা দিলে এ ইউনিয়নে আরো কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ১ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুটি ইউনিট হচ্ছে একটা স্বাস্থ্য বিভাগ ও অপরটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। ধোপাছড়িতে যে স্থাপনাটি আছে সেটি হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের। অথচ ডাক্তার পোস্টিং দেয়া হয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে। এ জন্যই মূলত ধোপাছড়ির জন্য কোন ডাক্তারের পোস্টিং বর্তমানে নেই। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর পরামর্শক্রমে এ ইউনিয়নের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে প্রতি বৃহস্পতিবার চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে ১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গিয়ে ধোপাছড়িতে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এখানে একজন ভিজিটর ছিলেন, যিনি গত বছর অবসরে যাওয়ার ১ মাস আগে কর্মরত অবস্থায় মারা গেছেন বলে তিনি জানান। এ পদটিও বর্তমানে খালি রয়েছে ও এই ব্যাপারে চাহিদাপত্র ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া ধোপাছড়িতে ৩ জন স্বাস্থ্য সহকারীর পদও খালি রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। গত ৬ এপ্রিল স্থানীয় সাংসদ আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য সেবা কমিটির সভায় ধোপাছড়ির চিকিৎসা সেবার ব্যাপারটি উঠে আসে। ইতিমধ্যে সাংসদের ডিও’র মাধ্যমে ধোপাছড়িতে একজন মেডিকেল অফিসারের চাহিদাসহ অন্য বিষয়ে চাহিদাপত্র গত ৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এদের মধ্যে ২ জন স্বাস্থ্য সহকারী অবসরে গেছেন। অপরজন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকা পটিয়াতে বদলি হয়ে যাওয়ায় পদ ৩টি খালি হয়ে যায়। এ খালি পদগুলোর ব্যাপারেও ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ির মানুষ আধুনিকতার অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ইউনিয়নে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান বাহক মোটর সাইকেল, টমটম, অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিকশা। এ অবস্থায় দূরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা পেতে তাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধোপাছড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসক ও ওষুধ কোনটাই পাওয়া যায়না। অথচ ওই কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ১ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ১ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা থাকার কথা। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে এখানকার রোগীদের হাতুড়ে ডাক্তার ও ওঝাঁর শরণাপন্ন হতে হয়। অন্যথায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দোহাজারী অথবা ২৫/২৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে হয়। এ অবস্থায় কোন মুমূর্ষু রোগী বা অন্তঃসত্ত্বা মহিলার দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 242 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট