চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

১৭ মে, ২০১৯ | ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

জব্দ হতে যাচ্ছে খেলাপিদের সম্পদ

জব্দ হতে যাচ্ছে খেলাপিদের সম্পদ। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে খেলাপিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে। খেলাপি ঋণের আদায় বাড়াতে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বেঁধে দেয়া হচ্ছে সময়সীমা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তিতে আদালতকে সহায়তা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

তাছাড়া মামলার শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য তিন বারের বেশি আবেদন করতে পারবে না। নতুন বিধি-বিধান যুক্ত করে খেলাপি ঋণ আদায়ের আইন আরও কঠোর করা হচ্ছে।

এসব বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে। পরিস্থিতির কারণে যারা খেলাপি হবেন তাদের খেলাপির দুর্নাম ঘুচিয়ে বের হয়ে আসার সুযোগও রাখা হবে আইনি কাঠামোতে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আদালতের অধীনে একটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সংস্থাটি কাজ করবে। অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করে নতুন বিধিবিধান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আইন সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এমন সুপারিশ করেছেন ব্যাংকার ও আইনবিদরা।

এ সুপারিশের আলোকে অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি করে কমিটি কাজ করছে। দুই কমিটি প্রচলিত আইনে সংশোধনী আনার সুপারিশ করবে। এ দুই কমিটির সুপারিশগুলো সমন্বয় করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে দেশের প্রচলিত আইন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশে আইন প্রয়োগে কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো সমাধানের জন্যও সুপারিশ করা হবে। আইন প্রয়োগের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর ক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। যাতে ঋণখেলাপিদের কাছে একটি বার্তা যায় যে, ব্যাংক থেকে জনগণের আমানত নিয়ে ফেরত না দিয়ে বহাল তবিয়তে থাকা যাবে না।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ার একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মামলা জট। এক্ষেত্রে আইনি জটিলতা যেমন আছে, তেমনি আছে ঋণখেলাপি ও ব্যাংকারদের অসহযোগিতা। ঋণখেলাপিদের সঙ্গে আঁতাত করে তারা মামলা ঠিকমতো পরিচালনা করেন না। ফলে মামলা নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু আইন করলে হবে না, আইন প্রয়োগ করতে হবে। এজন্য সরকারের দিক থেকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। তাহলে ব্যাংকারররা আইন প্রয়োগ করতে পারবেন। ব্যাংকাররা যদি ঋণখেলাপিদের ভয় পান তাহলে কিছুই হবে না। ঋণখেলাপিরাই যাতে রাষ্ট্রের আইন ও সমাজকে ভয় পায় সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এ আইন প্রয়োগে ব্যাংকারদের সক্ষতাও বাড়াতে হবে।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ওই আইনে বড় ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে। ঋণখেলাপির সম্পদ জব্দ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ক্ষমতা প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে আলোচ্য আইনের আওতায় আদালতে মামলা করতে হবে। মামলায় গ্রাহক আইনি লড়াই চালাতে অসহযোগিতা করলে আদালতকে জানিয়ে ব্যাংক তার (গ্রাহকের) সব ধরনের বন্ধকী সম্পত্তি জব্দ করতে পারবে। বন্ধকী সম্পত্তিতে কোনো জটিলতা থাকলে বা এ সম্পত্তি দিয়ে ঋণের অর্থ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে গ্রাহকের অন্য সম্পত্তিও জব্দ করতে পারবে ব্যাংক। প্রচলিত আইনে খেলাপি ঋণ পরিশোধে তিন দফা নোটিশ দিয়েই ব্যাংক কোনো মামলা ছাড়াই বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তুলতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় ঋণের অর্থ আদায় না হলে ব্যাংক যদি গ্রাহকের অন্য কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পায় সেগুলো ক্রোক করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করতে পারে। আদালত আদেশ দিলে ব্যাংক ওইসব সম্পদ ক্রোক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতে পারে। যেহেতু আদালতের আদেশ আছে সে কারণে এটি মানতে প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য। ভারতসহ অনেক দেশের আইনে ঋণখেলাপিকে আটক করে জেলে পাঠানোর ক্ষমতা ব্যাংকের হাতে রয়েছে। বাংলাদেশেও এমনটি করা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

খেলাপি ঋণ আদায়ে মামলার পাশাপাশি খেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করার বিধান করার বিষয়টি থাকছে সুপারিশে। এতে খেলাপির ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে এসব তথ্য প্রকাশ করার কোনো বিধান নেই।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 318 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট