চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৬ মে, ২০১৯ | ৫:৪৬ অপরাহ্ণ

পূর্বকোণ ডেস্ক

ছাত্রীর ইনবক্সে শিক্ষকের নগ্ন ছবি!

ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর ফেসবুক আইডিতে নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অভিভাবকদের মাঝে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর আগেও বিবাহিত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক করে পালিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কাছে শাস্তিমূলক বদলির সুপারিশ করেছে। তবে এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী বা অন্য কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

বিদ্যালয়সূত্র জানায়, গত ১১ মে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ফেসবুকের ইনবক্সে শিক্ষক রেজাউল করিম তার নগ্ন ছবি পাঠান। ঘটনার পর ওই ছাত্রী কয়েকজন শিক্ষকের মেসেঞ্জারে ছবিটি ফরোয়ার্ড করে পাঠায়। এ ঘটনা শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. ফরিদকে জানান। তিনি শরীরচর্চা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তিনি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে জীববিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল করিম গা ঢাকা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষকরা শিক্ষক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে সুপারিশ করেন।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ওই ছবির সাথে শিক্ষক রেজাউল করিমের বাসার দৃশ্যের মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় থেকে বদলির সুপারিশ করেছি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হবার পর বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষকরাও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে সুপারিশ করেন। এছাড়া ওই ছবির সাথে কিছু অশ্লীল ম্যাসেজও পাওয়া গেছে, যা তিনি ছাত্রীর আইডিতে দিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন পরদিন ১২ মে । এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে জানিয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বরাবরে একটি আবেদন করেন। ঘটনা আড়াল করতে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, তিনি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের শিকার। কয়েকজন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন বলেও জানান তিনি ।

কিন্তু বাসার দৃশ্যের সাথে ছবির দৃশ্যের মিল হলো কিভাবে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাকেও তিনি কিছুদিন পূর্বে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে তারা জানান।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. ফরিদ বলেন, আমি শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। তাই উপ-পরিচালকের কাছে এই শিক্ষককে অতি দ্রুত শাস্তিমূলক বদলির সুপারিশ করেছি গত  ১৫ মে।

 

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট