চট্টগ্রাম বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

এসএম মোরশেদ মুন্না, নাজিরহাট

নবান্নের উৎসব কৃষক পরিবারে

ফটিকছড়িতে আমনের বাম্পার ফলন

উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে এবার। আমনের সোনালি ধানে ভরে গেছে কৃষকের আঙ্গিনা। ফলে ফটিকছড়ির প্রতিটি কৃষক পরিবারের চলছে নবান্নের উৎসব।

এদিকে উপজেলা খাদ্য বিভাগ হতে প্রথমবারের মতো উপজেলার প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে আমন ধান ক্রয় করা হচ্ছে। গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ধান ক্রয় শুরু করা হয়েছে। ধানের ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে কেজি প্রতি ২৬ টাকা। ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২২২৭ মেট্রিক টন। জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের বিআর ১০, ১১, ২২, ২৫, ৩১, ৩২, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৯ কান্তা ইরি, পায়জম, দিনাজপুরি পায়জম, দিনাজপুরি সাদা পায়জম এবং স্থানীয় জাতের মধ্যে বিন্নি, কালিজিরা ও গিউচ রোপণ করেছে। উৎপাদনের দিক দিয়ে ব্রি৪৯ জাতের ধান দেখার মত ফলন হয়েছে। কৃষকদের মতে, সময়মত বৃষ্টিপাত, সারের নায্যমূল্য, ভাল ও সঠিক পরামর্শ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলে আমনের আশাতীত ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছর ফটিকছড়ি উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার ৩ শত হেক্টর জমি। অর্জন হয়েছে ২১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমি। উচ্চ ফলনশীল জাতের হেক্টর প্রতি চাউলের উৎপাদন ধরা হয়েছে ২.৭৮ মেট্রিক টন, স্থানীয় জাতের ১.৫০ মেট্রিক টন। উচ্চ ফলনশীল জাতের চাউলের উৎপাদন হেক্টর প্রতি ২.৯০ মেট্রিক টন এবং স্থানীয় জাতের ১.৭মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, চলতি আমন মৌসুমে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ২শ জন কৃষককে বিনামূল্যে সার ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। নাজিরহাটের দৌলতপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, ফলন আমার অনেক ভাল হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম সার্থক হলো। পাইন্দং ইউনিয়নের ছমদ আলী জানান, আমার খানি প্রতি ৮০ আড়ির মত উৎপাদন হয়েছে। এর আগে এত ভাল উৎপাদন হয়নি। নানুপুরের মো. সরোয়ার জানান, গত বোরো মৌসুমে বন্যার ফলে আমার ফলন ভাল হয়নি। ফলে চলতি আমন মৌসুমে আমি খুব বেশী মনোযোগী ছিলাম চাষের প্রতি। তাই ফলনও ভাল হয়েছে। শুভনছড়ির নাছির উদ্দীন জানান, আমার এলাকার মানুষের প্রধান চাষাবাদ হচ্ছে ধান চাষ। ফলে শুভনছড়ির বিস্তীর্ণ একর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়। কঠোর পরিশ্রম আর আবহাওয়া অনুকূলে ছিল বলে ভাল ফলন পেয়েছি। এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার লিটন দেবনাথ জানান, সারের দাম কম, অনূকুল আবহাওয়া সর্বোপরি আমাদের তদারকি ও সঠিক পরামর্শের কারণে উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।

The Post Viewed By: 33 People

সম্পর্কিত পোস্ট