চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৫ মে, ২০১৯ | ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

পাহাড় রক্ষায় কেউ নেই!

পাহাড় ঘেরাও অবৈধ ঘোষণা করা হোক
হ পাহাড় উন্মুক্ত করলে সৌন্দর্য বর্ধিত হবে
হ অবৈধ পাহাড়কাটা বন্ধ হবে
হ ভূমিক্ষয় রোধে জলাবদ্ধতা কমবে
হ পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিল থামবে
হ অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ হবে
বন্দরনগরীকে প্রাচ্যের রাণী বলা হয়। এ নগরের অপরূপ সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান হচ্ছে পাহাড়। অনেক পাহাড় রাতের আঁধারে কেটে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। যতটুকু আছে তাও ঘেরা-বেড়া দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এই শহরের বাসিন্দা কিংবা বাইরে থেকে যারা এখানে আসেন তাদের আর পাহাড় দেখার সুযোগ হয় না। সবাই সবুজ শহরের কথা বলেন। সৌন্দর্যবর্ধনের কথা বলেন। কিন্তু বেড়া দিয়ে ঢেকে রাখা পাহাড়গুলি উন্মুক্ত করে সৌন্দর্যবর্ধনের কথা কেউ বলেন না। পাহাড়গুলি উন্মুক্ত করে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিলে অত্যন্ত কম খরচে শহরের নির্মল পরিবেশ এবং সৌন্দর্য অনেক বেশি বৃদ্ধি করা সম্ভব।
নগরীর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্যমতে নগরীতে যেসব পাহাড় আছে তা হল সিআরবি পাহাড়, টাইগারপাস-লালখান বাজার রোড সংলগ্ন পাহাড়, মোজাফ্ফর নগর পাহাড়, কাট্টলি থেকে সীতাকু- পর্যন্ত পাহাড়, সলিমপুর বাস্তুহারা পাহাড়, প্রবর্তক পাহাড়, গোলপাহাড়, ইস্পাহানী পাহাড়, বন গবেষণাগার ও বন গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন পাহাড়, জয়পাহাড়, চট্টেশ্বরী হিল, মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল সংলগ্ন পাহাড়, রেলওয়ে এমপ্লয়িজ গার্লস স্কুল সংলগ্ন পাহাড়, ফয়’স লেক আবাসিক এলাকা পাহাড়, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়, গরীবুল্লাহ শাহ মাজারের পাশের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়, ডিসি হিল, পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশনের পাহাড়, একে খান এ- কোং এর পাহাড়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন পাহাড়, কৈবল্যধামস্থ বিশ্ব কলোনির পাহাড়, মিয়ার পাহাড়, লালখান বাজার চানমারি রোড সংলগ্ন জামেয়াতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাহাড়, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উত্তর পাশের মীর মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন পাহাড়, ইস্পাহানি পাহাড় সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের হারুন খানের মালিকানাধীন পাহাড়, নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা সংলগ্ন পাহাড়, লেক সিটি আবাসিক এলাকার পাহাড় ও সিডিএ এভিনিউরর পাশে অবস্থিত ব্লুজম গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়।
সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, পাহাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন করে উন্মুক্ত রাখলে তাতে সৌন্দর্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পাহাড়টি নিধন থেকে রক্ষা পায়। চট্টগ্রামের পাহাড়গুলি বেলেমাটির পাহাড় হওয়ার কারণে কোনো অংশ কাটা হলে তা ধীরে ধীরে ধসে পড়ে। যে কারণে ২০০৭ সালের ১১ জুনের মত ঘটনা ঘটেছে। ওইদিন পাহাড় ধসে এক সাথে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২০০৮ সালে ১৪ জন, ২০১১ সালে ১৭ জন, ২০১২ সালে ২৮ জন, ২০১৩ সালে দুজন মারা যান। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অথচ এসব পাহাড় যদি স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে অথবা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় সৌন্দর্যবর্ধন করতো তাহলে পাহাড় ধসে মৃত্যুর কোনো সুযোগ থাকতো না। কারণ সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে সেখানে বস্তি নির্মাণ করে কেউ জমিদার সেজে ভাড়া দিতে পারবে না।
চট্টগ্রামবাসীর চোখের সামনেই তার বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী উদ্যোগ নিয়ে নগরীর সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিংয়ের (সিআরবি) পাহাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন করেছেন। এখন সিআরবি পাহাড়টি দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সবাই এখানে বেড়াতে যায়। পাহাড়ের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য সকলের চোখ জুড়ায়। এই পাহাড়টি এখন অবৈধ দখলের কোনো ঝুঁকিতে নেই। নেই কোনো ধসের শঙ্কা। সিআরবি পাহাড়ের মত নগরীর অন্যান্য পাহাড়কেও সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনলে নগরীর প্রতিটি পাহাড় বেড়ানোর স্থানে পরিণত হবে। থাকবে অবৈধ দখলমুক্ত। পাহাড় হবে সকলের জন্য নিরাপদ।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট