চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৫ মে, ২০১৯ | ২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইফতারিতে রোজাদারের মুখের স্বাদ বাড়ায় ফিরনি

ফিরনি একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারিতে ফিরনি খেতে কম বেশি সবারই পছন্দ। এটি মুখের স্বাদ বাড়ায় ও পুষ্টিকর খাবারও। খাদ্য রসিকদের কাছে ফিরনি অতি পরিচিত নাম। বিরিয়ানির মত সহজলভ্য না হলেও রমজান মাসে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ভিড় জমে এই খাবারটির জন্য। ফিরনি রান্না করে মাটির পাত্র বা প্লাস্টিকের পাত্রে করে রেফ্রিজারেটর বা ঠা-া স্থানে সংরক্ষণ করার হয়। ইফতারিতে সেই ফিরনির মজাই আলাদা। বিভিন্ন প্রকার ঝাল নাস্তার সাথে মিষ্টি জাতীয় খাবারটি মুখে স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। ফিরনি মূলত উত্তর ভারতের অতি জনপ্রিয় মিষ্টি খাবার। প্রতিটি উৎসবেই এটি বানানো হয়। এটি চালের গুঁড়ো, দুধ, চিনি, কিসমিস, বাদাম ও সাগু দিয়ে তৈরি করা হয়। বাজারে দুই ধরনের ফিরনি আছে। ফ্রুট ফিরনি ও সাধারণ ফিরনি। ফিরনি অনেকটাই চালের ক্ষীর বা পায়েসের মতো। যদিও এটির আকার একেবারেই ভিন্ন। আর ফিরনি বানানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় চালের গুঁড়ো। সেই সঙ্গে থাকে এলাচ গুঁড়ো এবং গোলাপ জল যা ফিরনির স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও শুকনো ফলও ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু রমজানের

ইফতারিতে খাওয়া হয় তা না। যে কোনও অনুষ্ঠানেই ফিরনির অনেক কদর।
গতকাল নগরীর কাজীর দেউড়ির মিষ্টির দোকান সিজলে দেখা যায়, থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ফিরনির বাটি। বিকেল চারটার দিকেই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় হয় ফিরনির জন্য, বললেন সিজলের বিক্রেতা। এখানে প্রতি কেজি ফিরনি ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা। গাউসিয়া, দেওয়ানহাট আরমান ক্যাফে, বনফুল, ওয়েল ফুড, ফুলকলি, মিঠাই, রয়েল সুইটস, হাইওয়ে সুইটস, হল টোয়েন্টি ফোর, ওয়েলপার্ক ও বারকোডে ফিরনি বিক্রি করা হয়। নগরীর এসব দোকানগুলোতে প্রতি কেজি ফিরনির বাটি ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০, ৩৫০ ও ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
দেওয়ানহাট আরমান ক্যাফের ফিরনি মোটামুটি সবার কাছেই প্রিয়। এ ফিরনি নগরীর বিভিন্ন দোকানিরা এখান থেকে পাইকারি দামে কিনে নিয়ে বিক্রি করে। ক্যাফে আরমানের স্বত্বাধিকারী মো. আরমান হোসেন বলেন, শুধু রমজান মাসে আমরা ফিরনি বিক্রি করি। সারা বছর বিশেষ কোনো অর্ডার পেলে আমি ফিরনি তৈরি করি। শুরু থেকে এই একটি পদ আমি নিজের হাতে রান্না করি। আরমান ক্যাফের এক কেজি ফিরনির দাম ২৪০ টাকা, আধা কেজি ১২০, ছোট কাপ বিক্রি হয় ২৫ টাকা ও মাটির বাটির দাম ২০ টাকা।
এছাড়া ফিরনি পাওয়া যায় কাজীর দেউড়ি, লালখানবাজারের দমফুঁক, পিটস্টপ, মেরিডিয়ানে, রেডচিলি, সাকুরা, বীরচট্টলা, বহদ্দারহাটের কাশবন ও চকবাজারের ক্যাফে সবুজ ও জামানে। জিইসি মোড়ে মিঠাই থেকে ফিরনি কিনতে আসেন নাছিমা বেগম। তিনি বলেন, ইফতারিতে ঠা-া ফিরনি খেতে খুব ভালো লাগে। সারাদিন রোজা রেখে ঠা-া জাতীয় মিষ্টি খাবার আমার খুব পছন্দ। এখানে ছোট কাপ ২৫ টাকা, আধা কেজি ১৫০ টাকা বিক্রি করছে। হাইওয়ে সুইটস এক কেজি পরিমাণের ফিরনির বাটি বিক্রি করছে ২৫০ টাকায়, গাউছিয়া ৩০০ টাকা, ওয়েলফুড ২৮০ টাকায় বিক্রি করছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট