চট্টগ্রাম রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

১৫ মে, ২০১৯ | ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া-পেকুয়া

নিরাপত্তায় তিনস্তরের বলয়, থাকবে ছদ্মবেশে পুরুষ ও মহিলা পুলিশ

চাঙা হয়ে উঠছে চকরিয়ার ঈদ বাজার

কক্সবাজারের চকরিয়ার ঈদ বাজারে দেশি-বিদেশি কাপড় মজুত করেছে ব্যবসায়ীরা। বিগত বছরগুলোর মতো ভারতীয় সিরিজ নাটকের নায়ক-নায়িকাদের নামে কাপড় তেমন তুলেনি ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশি মডেল নায়িকাদের ছবি সহকারে বেশ কিছু কাপড় বিভিন্ন মার্কেটে প্রদর্শিত অবস্থায় রাখলেও এবার এখানকার ক্রেতাদের রুচি ভিন্ন। তারা চাকচিক্যে মুগ্ধ না হয়ে গুনগত মানের কাপড় কিনতে শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে ক্রেতা বাড়লেও ১৫ রোজার পর পুরোধমে বিকিকিনি শুরু হবে বলে ব্যবসায়ীদের অভিমত। ঈদবাজারের নিরাপত্তায় তিনস্তরের বলয় গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে এএসপি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা পৌরশহর ঘিরে মহাসড়কের দুই পাশে বেশিরভাগ বিপণিকেন্দ্র। এখানে আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্স, চকরিয়া সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, হক সুপার মার্কেট, ছিদ্দিক প্লাজা, রুপালী শপিং কমপ্লেক্স, মসজিদ মার্কেট, রুপজাহান প্লাজা, আবদুল মতলব শপিং কমপ্লেক্স, চকরিয়া শপিং কমপ্লেক্স, চকরিয়া সিটি সেন্টার, ওয়েস্টার্ণ প্লাজা, ওসান সিটি মার্কেটসহ অন্তত ৩০টি ছোট-বড় মার্কেট ঈদ কাপড়ের রূপসুধা বাড়িয়েছে।
কথা হয় ওসান সিটি মার্কেটের কারুশৈলীর মালিক মুকুল কান্তি দাশের সাথে। তিনি বলেন, আমি টাঙ্গাইল থেকে শাড়ি, পানাম নগর, ইসলামপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন কারখানা থেকে অর্ডার দিয়ে ও বাছাই করে মানসম্পন্ন ত্রিপিস, ফোর পিস ও ইন্ডিয়ান ওয়ান পিস এনেছি। রোজার শুরু থেকে ক্রেতা আসা শুরু করলেও বিক্রয় আশানুরূপ নয়। ১৪-১৫ রোজা থেকে বিক্রির ধুম পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
অর্পন ফ্যাশনের মালিক রণি দাশ এনেছেন, নানা রঙের পাঞ্জাবি। তিনি বেেলন, গ্রামীণ এলাকার ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পাঞ্জাবি আনা হয়েছে। এখন দুই-একটি করে বিক্রি হচ্ছে। মাঝ রমজান থেকে বেচাকেনা বাড়বে।
নিউ সুপার মার্কেটের সৌদিয়া ক্লথ স্টোরের মালিক ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমার দোকানে ছেলে-মেয়ে সকল বয়সী ক্রেতার সুবিধার্থে কাপড়ের সম্ভার ঘটিয়েছি। রোজার শুরু থেকেই বেচাকেনা হচ্ছে। বিক্রয় আরো বাড়বে ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন শত থেকে সাত হাজার টাকা মূল্য পর্যন্ত শাড়ি ও ত্রিপিস আনা হয়েছে। তবে কোন দোকানেই মূল্য তলিকা দেখা যায়নি। যার কারণে স্বল্প দামের চাকচিক্যে ভরপুর কাপড় কিনে অনেক ক্রেতা ঠকছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ঈদ বাজার মনিটরিং কমিটি হয়েছে। রোজার প্রথম দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবসায়ীদের ক্রেতার সুবিধার্থে নানা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমি অথবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ আরাফাতের নেতৃত্বে একদিন পরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. মতিউল ইসলাম বলেন, আমি কয়েকদিন সিভিল পোশাকে মার্কেট ঘুরেছি। রমজানে সওদা করতে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ১০ রোজার পর থেকে ছদ্মবেশে পুরুষ ও মহিলা পুলিশ মার্কেটের ভেতর টহল দেবে। পাশাপাশি মার্কেটের বাইরে পোশাক পরিহিত স্বশস্ত্র পুলিশ অবস্থান করবে। যেকোন উপায়ে চুরি ছিনতাই ইভটিজিংসহ অপরাধ ঘটতে দেয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 339 People

সম্পর্কিত পোস্ট