চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৫ মে, ২০১৯ | ২:২৬ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

শহরে কড়া, গ্রামে দায়সারা

গত রবিবার। বোয়ালখালী উপজেলা সদরে একটি ইফতার মাহফিলের জন্য অভিজাত একটি রেস্তোরাঁ থেকে ইফতারির অর্ডার দেওয়া হয়। ওই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত ইউএনও, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ অনেকেই। ইফতারি আইটেমে পেঁয়াজু, বেগুনির মান ছিল নি¤œমানের। আর দই ছিল বাসি-নষ্ট। একেবারে মুখেই দেওয়া যায়নি। এভাবে বোয়ালখালী সদর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে নি¤œমানের ইফতারি ও পচা-বাসি খাবার। ভেজাল বিরোধী অভিযান না থাকায় অতি লোভী ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। তবে দেরিতে হলেও শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও’র। গত সোমবার অভিযান চালিয়ে পচা-বাসি ও নি¤œমানের ইফতারসামগ্রী বিক্রির অপরাধে বিভিন্ন দোকানিদের ৮১ হাজার টাকার জরিমানা করেছেন ইউএনও। শুধু বোয়ালখালীতে নয়, জেলার ১৩ উপজেলায় ভেজাল বিরোধী অভিযান চলছে ঢিমেতালে। এসব উপজেলায় পচা-বাসি ও খাবারে ভেজালের মাত্রা বেড়ে গেছে বহুগুণ। তবে ভেজাল বিরোধী অভিযানে হাটহাজারী হচ্ছে ব্যতিক্রম। সবাইকে চাপিয়ে তাক লাগানো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বাজার, মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করছে ভেজাল পণ্য। বিশেষ করে ভেজাল ঘি তৈরি কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঘি ধ্বংস করেছে। গতকাল মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে নকল চা পাতা জব্দ করেছে। জেলার ১৫ উপজেলার মধ্যে ভেজালবিরোধী অভিযানে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন। প্রতি বছরের ন্যায় এবার রমজান মাসে মাঠপর্যায়ে বাজার তদারকি জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার তদারকির জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন নগরীতে বাজার মনিটরিং করার জন্য সাতটি টিম গঠন করেছেন। জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এসব টিম নগরীর নামীদামী হোটেল-রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও পচাবাসি-নি¤œমানের খাবার ধ্বংস এবং জরিমানা করে চলেছেন। ভোগ্যপণ্য ও কাঁচা বাজারেও সমানতালে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
নগরীতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলেও গ্রামাঞ্চলে তার চাপ পড়েনি। অনেকটা দায়সারা ভাব নিয়ে চলছে বাজার মনিটরিং। বাজার মনিটরিং জোরদার করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হলেও ভালোভাবে আমলে নেয়নি

অনেকেই। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাজার নিয়ন্ত্রণের সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভেজাল পণ্য ও মজুদদারির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে আলাদা টিম বাজার মনিটরিং করছে।
রমজানে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পণ্যবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি বন্ধেরও নির্দেশনা রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে বলা হলেও গ্রামাঞ্চলে তার প্রভাব তেমন পড়েনি বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। ক্যাব জানায়, নগরীর বাজারগুলোতে কড়া মনিটরিং করা হলেও উপজেলা পর্যায়ে সেই উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। প্রশাসন বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালালেও ভেজাল ও পণ্যদামের উপর প্রভাব ফেলতে পারছে না।
তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে হাটহাজারী উপজেলা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছেন। ভেজাল ঘি তৈরির বিরুদ্ধে বড় কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন পূর্বকোণকে বলেন, ‘চাকরি তো আছেই। তারপরও মানুষের ভালবাসা, সরকারের প্রতি বিশ্বাস-আস্থা ফিরিয়ে আনা ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে নিজ উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, হাটহাজারীর মানুষ যেন ভালো ও উন্নতমানের খাবার খেতে পারেন, সেই বিশ্বাস নিয়ে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নগরীতে ভালোভাবে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রশাসন নির্দেশনা দিলেও সঠিকভাবে তদারকির অভাব রয়েছে। প্রশাসন জনবান্ধব নীতি থেকে বিচ্যুত হলে প্রশাসনিক কর্মকা- স্তিমিত হয়ে পড়বে, সেটা স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, ঢাকার দুই মেয়র প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করছেন। কিন্তু চট্টগ্রামের মেয়রকে দেখা যায়নি। ঢাকার মেয়রদের চট্টগ্রাম মেয়রও সেই উদ্যোগ নিতে পারেন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট