চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৪:২৩ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব সংবাদাতা হ রাউজান

১০০ কোটি টাকার প্রকল্প বদলে দেবে চুয়েটকে

‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ স্থাপন প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এ সর্বপ্রথম ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ স্থাপন প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, এমপি গতকাল রবিবার চুয়েট ক্যাম্পাসে এ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি ও চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী চুয়েট রোবটিকস ল্যাব এবং মোবাইল গেইম্স এন্ড এপ্স ডেভেলেপমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধন করেন। সবশেষে তিনি চুয়েট কাউন্সিল কক্ষে আইসিটি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্প আয়োজিত চলমান ‘সোশ্যাল মিডিয়া প্যারেড’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী, এমপি ফজলে করিম, ভিসি ছাড়াও উপস্থিত

ছিলেন, ইনকিউবেটর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) সৈয়দ জহুরুল ইসলাম। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও ইনকিউবেটরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এটিএম শাহজাহান। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সকলকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী শপথ বাক্য পাঠ করান। তিনটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে জুনাইদ আহ্মেদ পলক এমপি বলেন ‘তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন-নতুন সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমাদেরকে প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়ার কাজে মনযোগী হতে হবে। সেক্ষেত্রে চুয়েটের এই মেগা-প্রজেক্ট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরো সমৃদ্ধ করবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফজলে করিম এমপি বলেন ‘চুয়েট হচ্ছে মানুষের ভবিষ্যৎ তৈরির কারিগর। চুয়েটে নির্মিতব্য আইটি ইনকিউবেটর তরুণদের জন্য একটা বড় প্লাটফর্ম। এই ইনকিউবেটরের জন্য আমি মাটি কাটতেও রাজি। এ সময় তিনি ফেসবুকে মানহানি ও অবমাননাকর ঘটনা বন্ধে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন। চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর দেশবাসীর জন্য একটা ড্রিম প্রজেক্ট। এর মাধ্যমে দেশের আইটি সেক্টরের প্রত্যেকে উপকৃত হবেন। আইটি খাতে উদ্যোক্তা তৈরি ও বিভিন্ন সৃজনশীল আইডিয়াকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে এই ইনকিউবেটর একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় চুয়েট ক্যাম্পাসে ১০ তলা ভবনের ৭ তলা পর্যন্ত ইনকিউবেশন ভবন তৈরি হবে। ৭ তলা ভবনটির প্রতি ফ্লোরে ৫ হাজার বর্গফুট করে মোট ৩৫ হাজার বর্গফুট স্পেস থাকবে। এছাড়া ৬ তলা ভিত্তিসহ ৪ তলা পর্যন্ত ২ টি ডরমেটরি ভবন যার প্রতি ফ্লোরে ৫ হাজার করে দুটি ভবনে মোট ৪০ হাজার বর্গফুট এবং ৮ তলা ভিত্তির ৬ তলা পর্যন্ত মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবন যার প্রতি ফ্লোরে ৬ হাজার বর্গফুট করে মোট ৩৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষে চুয়েটে ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ স্থাপন করা হচ্ছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়েট ক্যাম্পাসে ৫ একর জমির উপর ১০ তলা ভবন বিশিষ্ট ইনকিউবেটরটি নির্মিত হচ্ছে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে মধ্যে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

The Post Viewed By: 124 People

সম্পর্কিত পোস্ট