চট্টগ্রাম সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৪:২৩ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা হ পটিয়া

গৈড়লার টেক সম্মুখযুদ্ধের ঐতিহাসিক দিন আজ

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর এই দিন স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার গৈড়লার টেক এলাকায় রাজাকার, আর্মড পুলিশ আলবদর ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দিন-দুপুরে সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে প্রায় ৪ জন রাজাকার-আলবদর নিহতসহ প্রায় শতাধিক রাইফেল ও বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ অপারেশনের নেতৃত্বে দেন ন্যাপ গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম

সদস্য কমরেড শাহ আলম ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহসিন খান গ্রুপের নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে ওই দিন সাতকানিয়া, চকরিয়া, দোহাজারী এলাকা থেকে বেশ কিছু রাজাকার, আর্মড পুলিশ, মুজাহিদ বাহিনী পটিয়া হয়ে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা বাহিনী গৈড়লার টেক এলাকায় দুই দিক থেকে আক্রমণ করে। এতে উত্তর দিক থেকে নেতৃত্ব দেন কমান্ডার কমরেড শাহ আলম। তার সাথে ছিলেন ডেপুটি কমান্ডার উদয়ন নাগ, সুরজিত বড়–য়া, সামশুজ্জামান হিরা (চাকসু ভিপি) ফজল আহমদ (ব্যাংক কর্মকর্তা) (তেকোটা), পুলক দাশ, কাজী আনোয়ার (সরফ ভাটা), মোয়াজ্জম হোসেন (খুলনা), কামরুজ্জামান (মিরসরাই), আবুল কাশেম (মিরসরাই) সুজিত বড়–য়া (তেকোটা) প্রিয়তোষ বড়–য়া (টেগরপুনি), সুশীল চক্রবর্তী (শাকপুরা), মিয়া মোহাম্মদ জাফর (বাকলিয়া), শেখর দস্তিদার (ধলঘাট, চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ), ভুপাল দত্ত (আনোয়ারা), দেওয়ান মোহাম্মদ আলী (রেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি (ফরিদপুর), অসীত দাশ (রহমতগঞ্জ), তপন দস্তিদার (ধলঘাট), শেখ মানিক (বন্দর), নুরুল ইসলাম (দক্ষিণ রাউজান), হারাধন দাশ (করলডেঙ্গা), বদন দাশ, তরুণ দাশ, কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ (উত্তর ভূর্ষি, পটিয়া), আহমদ নবী (উত্তর ভূর্ষি, পটিয়া), সিরাজুল ইসলাম (রতনপুর), সজল দাশ (ধলঘাট), ছগীর মোহাম্মদ (নাইখাইন), তপন দত্ত (ধলঘাট), আবদুস ছালাম মাস্টার (পাইরোল), তাজুর মুল্লুক (সাবেক চেয়ারম্যান ধলঘাট), যুগল সরকার (গৈড়লা), কৃষক নেতা সোলাইমান (পাইরোল), ছাত্রনেতা আবুল হাশেম (লড়িহরা), আবু বক্কর (নাইখাইন), দয়াল হরি দে প্রমুখ। অন্যদিকে দক্ষিণ দিক থেকে কমান্ডার ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মহসিন খানের নেতৃত্বে মোহাম্মদ ইলিয়াছ (সাবেক চেয়ারম্যান বড়লিয়া), মোহাম্মদ ইসহাক (গৈড়লা), আবদুস ছবুর (ব্যাংক কর্মকর্তা, নাইখাইন), আবু তাহের (জঙ্গলখাইন), কামরুল (পেরলা), হাফেজ আহমদ চৌধুরী (জঙ্গলখাইন) এবং আরো ১৫/২০ জনের একটি দল অংশগ্রহণ করে। রাজাকার বাহিনী কাঠবডি বাস নিয়ে অস্ত্রসস্ত্রসহ পালিয়ে যাওয়ার সময় গৈড়লার টেকে পৌঁছলে উভয় দিক থেকে আক্রমণের ফলে ৪/৫ জন রাজাকার মুজাহিদ বাহিনী নিহত হয়। শতাধিক রাইফেল ও আরো প্রায় ১৫ বাক্স গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এ সময় আজিজ কোম্পানির একটি সিগারেটের গাড়ি গুলিতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে যায়। গাড়ি থেকে প্রচুর তামাক সিগারেট এলাকার লোকজন লুট করে নিয়ে যায়। এ অপারেশনের পর এলাকার চারিদিক থেকে শত শত লোকজন এসে রাইফেল, গোলাবারুদ, কাঁধে বহন করে নাইখাইন প্রাইমারি স্কুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পাঞ্জাবী বাহিনী আক্রমণ চালানোর ভয়ে গোলাবারুদসহ করলডেঙ্গা পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। করলডেঙ্গা পাহাড়ে ব্রজহরি মহাজনের বাড়িতে কমরেড শাহ আলম গ্রুপের ক্যাম্প ছিল। এমনিভাবে এসময় আরো বেশ কয়েকজন রাজাকার বাহিনী ধৃত করে করলডেঙ্গা পাহাড়ে নিয়ে যায়। এই যুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে গত ১০-১১ অর্থবছরে একটি বিজয় মিনার নির্মাণ করে এবং পরবর্তীতে স্থানীয় এমপি সামশুল হক চৌধুরীর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ থেকে একটি স্মৃতি মিনার নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় তিন লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এবং এমপি সামশুল হক চৌধুরীর নিজ অর্থায়নে সেখানে আরো টাকা ব্যয় করা হয় বলে তিনি জানান। এ যুদ্ধের স্মৃতিচারণে প্রতিবছর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করে।

The Post Viewed By: 48 People

সম্পর্কিত পোস্ট