চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০

সর্বশেষ:

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

সেকান্দর আলম বাবর, বোয়ালখালী

ট্যাক্সি-টেম্পোর যত্রতত্র পার্কিং

যানজটে নাকাল কানুনগোপাড়াবাসী

বোয়ালখালী

ট্যাক্সি-টেম্পোর যত্রতত্র পার্কিং আর ভাসমান ব্যবসায়ীদের রাস্তা দখলের প্রতিযোগিতায় বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়াবাসীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
দেশের প্রাচীনতম মহাবিদ্যালয় কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ ও কানুনগোপাড়া বাজারের ব্যাপ্তি প্রায় এক বর্গকিলোমিটার। দৈনিক হাজার হাজার মানুষের আনাগোনায় বোয়ালখালীর দ্বিতীয় ব্যস্ততম এ এলাকাটি নিয়ন্ত্রণহীন আর অব্যবস্থাপনার শিকার স্বাধীনতাত্তোর সময় থেকেই। সংকীর্ণ সড়কের দুপাশে শতশত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের পসরা সাজাতে গিয়ে দখল করে নিয়েছে ফুটপাত। তারপর রাজত্ব ট্যাক্সি আর টেম্পো স্ট্যান্ডের। দু’ পাশেই যত্রতত্র অসংখ্য ট্যাক্সি-টেম্পো দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। বাজারে ঢুকেই প্রায়শ তাই যানজটে কলেজ যেতে ৫শ মিটার পথ পাড়ি দিতে প্রয়োজনের দশগুণ বেশি সময় লেগে যায় যে কারও। এতে নষ্ট হচ্ছে শ্রমঘণ্টা, ক্লাসবঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না পূর্বাঞ্চলের জনগণ।

গত ৬ ডিসেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, বাজার এলাকায় রাস্তা দখল করে পসরা সাজাচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যায় মিলবে প্রতিদিনের বাজার। শ্রীপুর বুড়া মসজিদে আসা শতশত মোটর সাইকেল ও নানান যন্ত্রচালিত গাড়ির ফেরত যাওয়া, ওয়াসা ভা-ালজুরি প্রকল্পের জন্য পাইপ বোঝাই একের পর এক ট্রাক এবং প্রতিদিনকার চলাচলরত গাড়িগুলোর বেশকিছু বিপরীত দিকে চলায় জ্যামে নাভিশ্বাস উঠেছে স্থানীয়দের। ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় গেল প্রায় একঘণ্টা। মোড়ের যানজটতো পূর্ব থেকেই আছে। মোড়ের ফলের দোকানদার তার পণ্য রাস্তায় নিয়ে এসেছেন, অপরদিকে মন্দিরের দেয়ালের গা ঘেঁষে বসেছেন ক্ষুদ্র অবৈধ দোকানি। সবকিছু মিলিয়ে ঘাড় ফেরানোর সুযোগ যেন নেই ওই মোড়ে। কলেজ আর শহরমুখী রাস্তায় দোকানিরা পসরা সাজিয়ে ফুটপাত দখল আর দু’পাশে লাইন ধরে সিএনজি ট্যাক্সি টেম্পো দাঁড়ানো। ২৪ ফুটের রাস্তায় ১২ ফুট দখল করে একপ্রকার অরাজকতা যে কারও চোখ এড়িয়ে যাবে না। কথা হয় কানুনগোপাড়ার টেইলার্স দোকানদার লিটন ঘোষের সাথে। তিনি বলেন, কারও দরদ নাই। যে যেভাবে পারছে গাড়ি দাঁড় করাচ্ছে আর রাস্তা দখল করে ব্যবসা করছে। পড়ার সময় নষ্ট হচ্ছে কলেজ-স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। লোকজনের দুর্ভোগ নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন চাইলে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব এবং উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম এ ব্যবসা কেন্দ্রকে বাঁচিয়ে রাখতে তা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন, কানুনগোপাড়ার যানজট জনভোগান্তির অন্যতম কারণ। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আছে। তবে এ সমস্যাটি স্থায়ী টেম্পো-ট্যাক্সি স্ট্যান্ড না থাকাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্ট্যান্ড করার জমিও পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া চালকদের অসচেতনতা, অবহেলা ইত্যাদি কারণে এ যানজট হয়ে থাকে।

The Post Viewed By: 47 People

সম্পর্কিত পোস্ট