চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

১৫ মে, ২০১৯ | ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

যেখানে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা

৪০ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড

নগর উন্নয়নে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, আধুনিক পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, রিং রোড ও কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণসহ চলছে নানান উন্নয়নমূলক কর্মকা-। যার বেশিরভাগ কর্মকা-ই চলছে নগরীর পতেঙ্গা এলাকাকে ঘিরে। তবে যে এলাকাকে ঘিরে এতসব উন্নয়ন সে এলাকার মানুষই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উন্নয়নের অভাবে। কেননা পতেঙ্গা মুসলিমাবাদ চরপাড়া এলাকার মানুষ এখনো চলাচলের জন্য ব্যবহার করছে একটি বাঁশের সাঁকো। আর এ চিত্রকে যেন বলা যায় ‘প্রদীপের নীচে অন্ধকার’। আর তাদের এ দুর্দশা দেখারো যেন কেউ নেই। তাই বছরের পর বছর এ দুর্ভোগ সহ্য করছে এখানকার স্থায়ী বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুসলিমাবাদ চরপাড়া এলকার বাসিন্দাদের হাটাচলার এ পথটি বর্ষায় চলাচলের জন্য উপযোগী রাখতে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে স্থানীয়রা। এছাড়া এ বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করেই নামাজ আদায় করতে হয় এখানার শত শত মুসল্লিদের। কেননা বাঁশের সাঁকোটির উল্টো পাশে রয়েছে মুসলিমাবাদ সোলাইমান কন্ট্রাকটার জামে মসজিদ। তাছাড়া এ সাঁকোটি ব্যবহার করে এই এলাকার হাজারো মানুষ। যার কারণ হচ্ছে এ রাস্তাটি ব্যবহার করে ‘গ্লোডেন বিচ’ পর্যন্ত খুব তাড়াতাড়ি যেতে পারে এই এলাকার বাসিন্দারা। তবে প্রয়োজনীয় রাস্তাটির এ বেহাল দশা যেন নজরে আসছে না সংশ্লিষ্টদের। তাইতো নিজ উদ্যোগে এ রাস্তায় বর্ষায় চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায় প্রাায় ৮ হাজার ভোটার রয়েছে অত্র এলাকায়। প্রতি শুক্রবার এ জামে মসজিদটিতে নামাজ আদায় করে প্রায় ৫০০ মুসল্লি। এছাড়া এ সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে পথ চলতে গিয়ে পথচারীদের বিভিন্ন সমস্যায় পরতে হয়। এলাকায় বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন হলেও প্রায় ৭০০ ফুটের সংযোগ সড়কটির উন্নয়ন হয়নি। যার ফলে আসন্ন বর্ষাকালে দুর্ভোগের শিকার হবে এলাকায় বসবাসরত গার্মেন্টসকর্মী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও মুসল্লি থেকে শুরু করে নানান শ্রেণি পেশার জনসাধারণ।
মো. সাত্তার নামে এক স্থানীয় যুবক বলেন, বর্ষার মৌসুমে এ রোডে হাটু পরিমান পানি ডিঙিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। এলাকায় অনেক সড়কের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু এ রোডের কোন পরিবর্তন না হওয়াতে আমরা হতাশ হয়েছি। এসময় বর্ষার আগেই নানা সমস্যায় জর্জরিত সংযোগ সড়কটির উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।
সোলাইমান কন্ট্রাক্টার জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো.আব্দুল হক বলেন, মুসলিমাবাদ দিয়ে চরপাড়ায় যাতায়াতের সড়কটির বেহাল দশা। তাই বর্ষাকালে জনদুর্ভোগের হাত থেকে এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের বাঁচাতে ইতিমধ্যে মসজিদ কমিটির অর্থায়নে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ ও সড়কে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে ৪০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. জয়নাল আবেদিন জানান, ৪০ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে কিছু কিছু কাজ এখনও সমাপ্ত হয়নি। মুসলিমাবাদ দিয়ে চরপাড়ায় যাতায়াতের কানেকটিং রোডটি প্রায় ৭০০ ফুটের। সড়কটির উন্নয়নের জন্য ৫০ লাখ টাকায় ২ বার টেন্ডার ডাকা হয়। কিন্তু কেউ টেন্ডারে অংশ গ্রহণ না করায় সড়কটির উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্ষার আগে এ সড়কের উন্নয়ন সম্ভব না। তবে আগামী এক বছরের মধ্যে এ সড়কটির কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 208 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট