চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০

সর্বশেষ:

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

এম. আনোয়ারুল হক হ আনোয়ারা

মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউছুফ

বরকল ঘাটের অপারেশনে ১৬ পাক দোসরকে হত্যা ১৬ রাইফেল উদ্ধার করা হয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ ইউছুফ। কালো পতাকা উত্তোলনের ফলে পাকবাহিনীর দোসররা তার ঘরে আগুন দেয়। বন্দরে অপারেশনকালে আপন ছোট ভাইকে হারান। আনোয়ারা থানা ও পটিয়ায় বিভিন্ন সম্মুখযুদ্ধ তিনি অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউছুফ এ তথ্য জানান। ১৯৫১ সালে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউছুফ আনোয়ারা উপজেলার গহিরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মো. আবুল কাশেম, মাতার নাম গোলছারা খাতুন। তিনি ১৯৬৫ সালে ডবলমুরিং থানার বারেক মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬৬ সালে ওই স্কুলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার আন্দোলন শুরু হলে ১৯৬৭ সালে ছাত্রনেতা তোহাগাজী ও চৌধুরী আলী রেজার নেতৃত্বে বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে চাইলে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে সপ্তাহখানেক পর মুক্তি পান। ১৯৬৯ সালের বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের পর ৮ মার্চ থেকে জয় বাংলার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে যুক্ত হয়ে ৩৫ জনের সাথে ট্রেনিং করেন বন্দরে। প্রশিক্ষক অবঃ সুবেদার ইসহাকের নেতৃত্বে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ২৪ মার্চ হানাদার বাহিনী বাঙালিদের নিধন করার জন্য জাহাজে করে অস্ত্র আনার খবর পেয়ে এম.এ হান্নানের নেতৃত্বে বন্দর জেটিতে বাধা প্রদানকালে তাঁর আপন ছোট ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব কে হারান তিনি। জুলাই মাসে কাজী আবদুল হকের নেতৃত্বে বরকল শাহ জাহান ইসলামাবাদী ক্যাম্পে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৩ আগস্ট শ্রমিক নেতা সফর আলীসহ বটতলী রুস্তম হাটে কালো পতেকা উত্তোলন করেন তিনি। ১৪ আগস্ট তাঁর নিজ বাড়ি গহিরা এলাকায় কালো পতাকা উত্তোলন করায় ১৫ আগস্ট রাজাকারেরা তাঁর ঘরে আগুন দেয়। ১৬ আগস্ট পুনরায় তিনি বরকল চলে যান। বরকল ঘাটে তার নেতৃত্বে অপারেশনে ১৬টি রাইফেল উদ্ধার, ১৬ জন পাক দোসরকে হত্যা করা হয়। তিনি পটিয়া থানা অপারেশনকালে স্বাধীন বাংলা পতাকা উত্তোলনে পাক বাহিনী চতুর্দিকের আক্রমণের শিকার হয়ে করলডেঙ্গা পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলন। সে পাহাড়ে ডালের উপর একাকী রাত কাটান। তিনি চন্দনাইশ কাঞ্চনা ব্রিজে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধ, বিমানবাহিনীর হাবিবের নেতৃত্বে ২য় বার আনোয়ারা থানা অপারেশন, ১৪ ডিসেম্বর কমান্ডার কাজী ইদ্রিসের নেতৃত্বে মেরিন একাডেমিতে অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। পরে কাজী আবদুল হকের নেতৃত্বে তিনি রেসকোর্স ময়দানে অস্ত্র জমা দেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চট্টগ্রামে মৌলভী সৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে প্রতিরোধে অংশ নেন তিনি। ভারতে মুজিববাহিনীর সাথে এক মাস অবস্থান করে সেখানে সশস্ত্র ট্রেনিং নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে ২৩ ডিসেম্বর প্রচারপত্র বিলি করতে গিয়ে আনোয়ারা সদরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৭ দিন রিমান্ডে ছিলেন। রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায় ডিটেনশন দেয়া হয় তাকে। ১ বছর ৭ মাস জেলকাটার পর জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি। ১৯৮৯ সালে এরশাদ বিরোধী অন্দোলনে গ্রেপ্তার হন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। আনোয়ারা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কারণে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। ১৯৭২ সালে এসএসসি পাস করে। পরে সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ২ ছেলে ১ মেয়ের জনক।

The Post Viewed By: 55 People

সম্পর্কিত পোস্ট