চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৫:২১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই ভবন নির্মাণ

১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া

কোন ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই বাকলিয়ায় ভবন নির্মাণ করছে। নির্মাণসামগ্রী পড়ে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা স্থানীয়দের।
দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠছে বহুতল ভবন। নির্মাণাধীন এসব ভবনে নেই নিরাপত্তাবেষ্টনী। নিরাপত্তা জাল, টিন ছাড়াই চলছে ভবন নির্মাণকাজ।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন আগে রসুলবাগ আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে কংক্রিট পড়ে আঘাত পান এক ব্যক্তি। এসময় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষায় পায় একাধিক স্কুল ছাত্রী।

ভবন নির্মাণের সময় নিরাপত্তার জন্য জাল দিয়ে ঢেকে ও নিরাপত্তা-মাচান তৈরি করে বহুতল ভবন নির্মাণের বিধান রয়েছে। তবে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের মালিকপক্ষ কোন ধরনের আইন বা নিয়ম মানছে না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনগুলো পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী জানায়, নির্মাণাধীন ভবনের উপর থেকে প্রায়ই ইটের টুকরো, কাঠ, কংক্রিট নিচে পড়ছে। এছাড়াও উপরে রড, বাঁশ, পাইপ ও নির্মাণসাগ্রী তোলার সময় রাস্তায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে কয়েকটি ভবনে দেখা যায, কেউ মাচান দিলেও জাল দেয়নি, আবার জাল দিলেও মাচান দেয়নি।

বাংলাদেশ জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিএনবিসি) অনুসারে, নির্মাণাধীন ভবনের চারপাশ নাইলনের জাল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। নির্মাণসামগ্রী যেন না পড়ে, সেজন্য দেয়ালেও নিরাপত্তা মাচান দিতে হবে। ভবন মালিককে এসব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
দেখা যায়, বাকলিয়ার রসুলবাগ আবাসিক এলাকা, ডিসি রোড, চানমিয়া মুন্সি লেন, আবদুল লতিফ সড়ক, সবুজবাগ আবাসিক এলাকা, শান্তিনগর, সৈয়দশাহ রোড, শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটি, চান্দা পুকুর পাড় এলাকায় বেশিরভাগ নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই।

ডিসি রোড চান মিয়া মুন্সি লেন মহল্লা কমিটির সভাপতি এমদাদুল হক বাদশা বলেন, ভবনগুলোতে মাচান ব্যবহার করা হচ্ছে না। এতে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে নির্মাণাধীন ভবনের নিচ দিয়ে চলাচলকারীদের আতঙ্কে থাকতে হয়। তিনি আরও বলেন, কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। সামান্য টিন বা নেট দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আনিস ওয়ারেচী বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের কাছে আসলে ওপরের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হয়। ওপর থেকে কখন কংক্রিট, ইটের টুকরো পড়ছে, সেই ভয় নিয়ে ভবন পার হতে হয়। এতে সিডিএ’র কোনো তদারকি না থাকায় আইন মানছে না ভবন নির্মাণকারীরা।

বাকলিয়া ওয়ার্ড হচ্ছে ঘনবসতি এলাকা। রাস্তাঘাট ও অলি-গলিও সরু। অধিকাংশ নির্মাণধীন ভবনে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
সৈয়দ শাহ রোড মহল্লা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মঈনুল হোসেন লিপু বলেন, ভবন নির্মাণে নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। অধিকাংশ ভবন নিরাপত্তাবান্ধব নয়। নির্মাণ শ্রমিকদের সেফটি হেলমেট, কোমরে সেফটি বেল্ট ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করার নিয়ম রয়েছে। কোথাও তা মানা হচ্ছে না।

The Post Viewed By: 70 People

সম্পর্কিত পোস্ট