চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

মাছ-শুঁটকির তাজা ঘ্রাণেও ভেজাল!

কর্ণফুলীর তীরে কারখানা হ ব্যবহার করা মাছের উচ্ছিষ্টাংশ থেকে তৈরি নোংরা তেল

নগরীর বাকলিয়া শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন পরিত্যক্ত ইটভাটার ভেতরে মাছের খাদ্য তৈরির নামে চলছে ভয়ংকর ভেজাল। মাছের উচ্ছিষ্টাংশ থেকে তৈরি করা হচ্ছে মাছের তেল ও মাছের খাদ্য তৈরির উপাদান। নোংরা পরিবেশে বানানো তেল ব্যবহৃত হচ্ছে হিমাগারের মাছ ও শুঁটকিতে।

দেখা যায়, বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর তীরে পরিত্যক্ত ইটভাটার ভেতরে বানানো হচ্ছে মাছের তেল। নগরীর বিভিন্ন বাজার থেকে মাছের নাড়ি-ভুঁড়ি, আঁশ ও অন্যান্য উচ্ছিষ্টাংশ বড় কড়াইয়ে (ড্রাম কাটা দিয়ে তৈরি) সিদ্ধ করা হচ্ছে। উচ্ছিষ্টাংশ থেকে বের হওয়া তেল ড্রাম-ভর্তি করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা প্যাসিফিক মেরিন সার্ভিস অটো গ্রিন ব্রিকস্ নামের ইটভাটা ২০১৪ সালে তৎকালীন ভূমি প্রতিমন্ত্রী (বর্তমানে ভূমিমন্ত্রী) সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বন্ধ করে দেন। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই ইটভাটার একপাশে চলছে এই ভেজাল কারখানা।
মহেশখালী উপজেলার আলম ও পটিয়ার ভেল্লাপাড়া এলাকার আমান নামে দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই ভেজাল কারখানা চালিয়ে আসছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
দেখা যায়, কেউ মাছের উচ্ছিষ্টাংশ পরিষ্কার করছে, কেউবা নাড়ি-ভুঁড়ি ও অন্যান্য অংশ আলাদা করছে। বিদঘুটে গন্ধে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠেছে। শিশু, নারী-পুরুষ মিলে ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করছে। দূষিত পরিবেশে প্রাপ্ত বয়ষ্কদের সঙ্গে কোলের শিশুরাও সেখানে রয়েছে।
শ্রমিকরা জানায়, নগরীর বিভিন্ন বাজার থেকে মাছের উচ্ছিষ্টাংশ সংগ্রহ করে ছোট জারভর্তি করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। বাজারে মাছ কাটা শ্রমিকদের কাছ থেকে ড্রাম হিসাবে তা কেনা হয়।

এলাকাবাসী জানা যায়, মাছের উচ্ছিষ্টাংশ থেকে তৈরি তেল শুঁটকি ও হিমাগারে সংরক্ষিত মাছে ব্যবহার করা হয়। তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হিমাগারে সংরক্ষণের কারণে মাছের গন্ধ ¤্রয়িমান হয়ে যায়। হিমাগারের মাছে এসব তেল ছিটিয়ে দিলে তরতাজা মাছের মতো ঘ্রাণ আসে। বেশিরভাগ হিমাগারে এসব ভেজাল তেল ব্যবহার করা হয়। একইভাবে শুঁটকিতেও ব্যবহৃত হয় এসব তেল। শুঁটকিতে মিশানো হলে শুঁটকিতে শুঁটকির ঘ্রাণ আসে।

জানা যায়, নোংরা-উচ্ছিষ্ট থেকে বানানো মাছের গুঁড়ি ফের মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দ্রুত বর্ধনের জন্য মূলত পাঙ্গাস, তেলাপিয়া মাছে বেশি ব্যবহার করা হয়।
মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, বছর দুয়েক আগে বিজিবি অভিযান চালিয়ে বাকলিয়া এলাকা থেকে ৫ টন তেল জব্দ করেছিল। কক্সবাজারেও এই ধরনের তেল তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তেল কোথায় কীভাবে ব্যবহার করা হয় তা জানা নেই।
গম, ভুট্টা, ভূষি, সয়াবিন, খৈল মিলিং করে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরি করা হয়। মনে হয় ওইসব খাদ্যের সঙ্গে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। মাছের খাদ্য প্রস্তুতকারীরা সস্তার জন্য তা ব্যবহার করছে।

অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে তৈরি মাছের উচ্ছিষ্টাংশের গুঁড়ি মাছ ও মুরগির খাদ্যের সঙ্গে মিশানো হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। বিদেশ থেকে আমদানি করা খাদ্যের সাথে নামে-বেনামে মিশানো হচ্ছে এসব গুঁড়ি যা মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর।

The Post Viewed By: 243 People

সম্পর্কিত পোস্ট