চট্টগ্রাম বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আহত ৩ জনকে ঢাকায় প্রেরণ

সল্টগোলায় কারখানায় বিস্ফোরণ ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি

ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই। তবুও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। জাহাজের প্লেট কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করলেও এর আড়ালে রয়েছে ট্রেনিং সেন্টারের ব্যবসা। যাতে জাহাজের প্লেট কাটা কিংবা ওয়েল্ডিংয়ের কাজ হাতে কলমে শিখানো হয়। তবে দীর্ঘদিন থেকে এসব ঝুঁকির কাজ এখানে করে আসলেও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছে, এতদিন তাদের নজরে ছিল না। বৃহস্পতিবার রাতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর তারা এসব তথ্য জানতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ভবনের নিচ তলায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হলেও, দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন থেকেই ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ট্রেনিং নিতে আসা শ্রমিকদের হাতে-কলমে শিখানোর জন্যই নিচতলার এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করে থাকেন বলেও জানায় ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে, এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দীর্ঘদিন থেকে এখানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে আসলেও ফায়ার সার্ভিস থেকে কোন ছাড়পত্রই নেওয়া হয়নি। এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে’।

অন্যদিকে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া একজন শঙ্কামুক্ত হওয়ায় তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে চিকিৎসক। বাকি তিনজন বর্তমানে চমেক হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ পূর্বকোণকে বলেন, ‘ওসমান গণি, রাজিব দাশ ও এনায়েতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সকালেই তাদের ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের শরীরে প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বাকিদের মধ্যে রিফাজুল ইসলাম শঙ্কামুক্ত থাকায় তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। অন্যরা চিকিৎসাধীন রয়েছে’।

প্রসঙ্গত ঃ বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টায় নগরীর ইপিজেড থানাধীন সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় ওয়েস্টার্ন মেরিন সার্ভিসেস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাতজন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

The Post Viewed By: 38 People

সম্পর্কিত পোস্ট