চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০

সর্বশেষ:

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৫:২৭ পূর্বাহ্ন

জমে উঠেছে বিজয় মেলা

আউটার স্টেডিয়াম গভীর রাত পর্যন্ত বিকিকিনি

দেখতে দেখতে জমে উঠেছে আউটার স্টেডিয়ামের বিজয় মেলা। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিকিকিনি। কম দামি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজনের আনাগোনা বেশি এ মেলায়। সরেজমিন দেখা গেছে, মেলার মূল আকর্ষণ মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, ফুলদানি, শোপিস, মেয়েদের আকর্ষণীয় গহনা, শীতের শাল, ব্লেজার, সোয়েটার, জামদানি শাড়ি, থ্রিপিস, শিশুদের খেলনা, মুখরোচক খাবার, খেজুরের গুড়, রকমারি আচারের দোকানগুলোতে বিক্রেতাদের দম ফেলারও ফুরসত মিলছে না। একটি স্টলের নাম ‘ভাবির সুখের সংসার’। যেখানে এলুমিনিয়ামের কড়াই, পাতিল, কলসি, দা, বটি, পিঁড়ি, কাঠ, লোহা, ননস্টিক ও স্টিলের অত্যাবশ্যকীয় গৃহস্থালি পণ্য মিলছে। স্বাভাবিকভাবেই নারীদের ভিড় বেশি এ স্টলে।-বাংলানিউজ

মেলায় কেনাকাটা করতে আসেন গৃহিণী ফেরদৌস আরা। তিনি বলেন, বৈশাখে লালদীঘিতে জব্বারের বলীখেলা, পলোগ্রাউন্ডে চট্টগ্রাম চেম্বারের বাণিজ্য মেলার পর আউটার স্টেডিয়ামের বিজয়মেলার জন্য অপেক্ষায় থাকেন চট্টগ্রামের মানুষ। এখানে ঢুকতে কোনো টিকিট লাগে না। সবার জন্য উন্মুক্ত আর ভেরাইটি পণ্য থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন সবাই। তবে দর কষাকষি করতে না জানলে ঠকার আশঙ্কা আছে। মেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে কুমিল্লা খাদি কালেকশন, সৌরভ খাদি ভা-ারে মিলছে সুন্দর সুন্দর থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্টসহ আকর্ষণীয় সব পোশাক। পূর্ব গেট দিয়ে

ঢুকতেই চায়না গিফট কর্নার। যেখানে খেলনা, কুশন, শোপিস, পুতুল, পাপোশ, গৃহস্থালি সামগ্রীর প্রতিটি পণ্য ১৩০ টাকা। প্রিয়া টেক্সটাইলে মিলছে থ্রিপিস। একটি ৩৫০ টাকা। ৩টি ১ হাজার টাকা। রং-বেরঙ টেক্সটাইলেও ৩ সেট থ্রিপিস ৯৯৯ টাকা। এ ছাড়া দামি থ্রিপিসে দেওয়া হচ্ছে মূল্যহ্রাস। নির্জনা বস্ত্র বিতানেও ৩ সেট ৯৯৯ টাকা।
কাশ্মীরি শালঘরের মো. নাসিম জানান, মেয়েদের চীনা শাল ২০০-১৫০০ টাকা। ইন্ডিয়ান লেডিস শাল ৫০০-৫২০০ টাকা, জেন্টস শাল ১৩০০-৭০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতের প্রকোপ বাড়ায় বিক্রিও হচ্ছে আশানুরূপ।

রনো ফ্যাশন ও চিসতিয়া গার্মেন্টসে তৈরি পোশাক, সেভিল র, তানভীর ফ্যাশন, আশিক ফ্যাশন এবং আলামিন ফ্যাশনের স্টলে ছোট-বড় সবার ব্লেজার, এমএস উইভিং ফ্যাক্টরির স্টলে রকমারি সোয়েটার, শার্ট, কামিজ, শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
মেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে চাঁদপুর মৃৎশিল্পের স্টলে মাটি, বেত, বাঁশের জিনিস মিলছে। ভাঁপা পিঠার পেয়ালা, ফুলদানি, শোপিস বিক্রি হচ্ছে বেশি। পাশের মিস কুঠি শিল্পেও (আবদুল কাদের মোল্লা স্টোর) মিলছে মাটির তৈরি সামগ্রী।
আলিফ এন্টারপ্রাইজ, রাসেল সুজে বিভিন্ন ধরনের জুতো-স্যান্ডেল বিক্রি হচ্ছে ২০০-৬০০ টাকায়। দুবাই বোরকা হাউসে বোরকা মিলছে ৫২, ৫৪, ৫৬ সাইজের ৮০০-২৫০০ টাকা।

উত্তর প্রান্তে নৌসিন জামদানি উইভিং ফ্যাক্টরির স্টলে তুহিন মিয়া জানান, সোনারগাঁয়ে নিজস্ব তাঁতে তৈরি জামদানি শাড়ি মিলছে ৩-৬ হাজার টাকার মধ্যে। টাঙ্গাইলের সুতি ৩ পিস ১ হাজার, ১ হাজার ৫০০ টাকা। ১ পিস ৮৫০ টাকা।

পূর্ব প্রান্তে তিশা জামদানির স্টলে ১ পিস থ্রিপিস ৩০০- ৫০০, ২ পিস ৫০০-৯০০, ৩ পিস ১২০০ টাকায় মিলছে। ৭৫০, ১০৫০, ১৩৫০ টাকার শাড়িতে ১০০ টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ঢাকাই জামদানি শাড়ি প্রতিটি ৩-৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দক্ষিণ পূর্বপ্রান্তে রয়েছে দেশবন্ধু ফ্যান্টাসি পার্কের নৌকা, রাইড, বেলুন শুটিং, দোলনা, ৩০ টাকায় এসএম সারোয়ারের পরিচালনায় গেম অব ডেঞ্জার কার ও মোটর সাইকেল প্রদর্শনী।

The Post Viewed By: 115 People

সম্পর্কিত পোস্ট