চট্টগ্রাম সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

ইফতেখারুল ইসলাম

নগরীতে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে

চলতি বছর সবচেয়ে বেশি বস্তুকণা নগরীর বাতাসে উড়ছে

চট্টগ্রাম শহরের বায়ু দূষণের মাত্রা প্রতিবছর বাড়ছে। গত পাঁচ বছরের বায়ুর মানমাত্রা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে চলতি বছর সবচেয়ে বেশি বস্তুকণা বন্দর নগরীর বাতাসে উড়ছে।

এমনিতেই ফিটনেসবিহীন যানবাহন, কলকারখানা এবং পরিবেশবিধ্বংসী ইটভাটার কারণে চট্টগ্রাম শহরের দূষণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি। যেকারণে নাক-মুখে মাস্ক পড়েও রক্ষা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। দূষণে আক্রান্ত হয়ে নানা রোগে ভুগছে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

সচেতন মহলের অভিমত, শুষ্ক মৌসুম মানেই ধূলার মৌসুম। তার উপর যদি একাধিক সংস্থা একসাথে নগরীর রাস্তা-ঘাট, খাল-নালা এবং ফুটপাত একসাথে খোঁড়াখুঁড়ি করে তাহলে কি ভয়াবহ ধূলি দূষণের সৃষ্টি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। তার উপর চলছে নিয়ন্ত্রণহীন অবৈধ ইটভাটা আর ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দূষণ। দূষণের মাত্রা যাতে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়, সেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও সেবা সংস্থাসমূহের আগে থেকেই চিন্তা করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোন ধরনের চিন্তাই করেনি।
নগরীর আন্দরকিল্লা কদম মোবারক এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, বহুতল ভবনের উপরের ফ্ল্যাটে থেকেও ধূলা দূষণ থেকে রক্ষা পাচ্ছি না। দরজা-জানালা খোলা রাখলে কাপড় এবং আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধূলার আস্তরণ পড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালনাধীন কন্টিনিউস এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং স্টেশন’র ডাটা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় চট্টগ্রামের বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকনা-১০ (চগ১০) এর পরিমাণ বছরের শুরুতে প্রথম তিন মাস জানুয়ারি, ফেব্রয়ারি, মার্চ এবং বছরের শেষের দুই মাস নভেম্বর, ও ডিসেম্বর মাসে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ এর আদর্শমান ১৫০ ক্রম/স৩ অপেক্ষা বেশি । ২০১৮ সালে চগ১০ এর সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল জানুযারি মাসে ২৭৮ ক্রম/স৩। এবং ২০১৫ সাল থেকে চগ-১০ এর পরিমাণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় প্রত্যেক বছর চগ-১০ এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫ সালে ছিল ২০২ ক্রম/স৩ ২০১৬ সালে ছিল ২১৬ ক্রম/স৩ ২০১৭ সালে ছিল ২৩২ ক্রম/স৩ এবং ২০১৮ সালে ছিল ২৭৮ ক্রম/স৩ এবং ২০১৯ সালে নভেম্বরে ছিল ৩০৯.২৪ ক্রম/স৩ । একইভাবে চট্টগ্রামের বাতাসে অতি ক্ষুদ্র বস্তুকনা-২.৫ (চগ২.৫) এর পরিমাণ বছরের শুরুতে প্রথম তিন মাস জানুয়ারি, ফেব্রয়ারি, মার্চ এবং বছরের শেষের দুই মাস নভেম্বর, ও ডিসেম্বর মাসে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ এর আদর্শমান ৬৫ ক্রম/স৩ অপেক্ষা বেশি। এবং প্রতিবছর তারা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।

বর্তমানে নগরীর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ধূলার কারণে বিবর্ণ হয়ে পড়ছে রাস্তার পাশের সব গাছপালা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। একারণে নানা রকম রোগ-জীবাণুতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শ্বাসকষ্টজনিতসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ প্রাইভেট চিকিৎসক অথবা হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

একাধিক চিকিৎসকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, বায়ু দূষণের কারণে মানুষের শরীরের উপর ও ক্ষতিজনক যেসব রোগ হতে পারে তা হল, এলার্জি, এজমা, ব্রংকাইটিস, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পুলমানারি ডিজিজসহ (সিওপিডি) বিভিন্ন রোগ। এছাড়া আরো নানা ধরনের রোগ ঝুঁকিতে আছে মানসিক স্বাস্থ্য, এছাড়া বাড়বে বিষণœতা। এর সাথে নড়তে হলে আমাদের অনেক প্রতিকারমূলক ব্যাবস্থা নিতে হবে এবং বাইরে কম বেরুতে হবে।

The Post Viewed By: 181 People

সম্পর্কিত পোস্ট