চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০

সর্বশেষ:

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৪:২৭ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আটটি দোকানের সেই মার্কেট এখন ৮’শ দোকান নিয়ে মহীরুহ

হকার নেই জহুর হকার মার্কেটে

নামে হকার মার্কেট হলেও হকারদের কোন দোকান নেই নগরীর জহুর হকার মার্কেটে। আটশো দোকান নিয়ে যাত্রা এ মার্কেটে বর্তমানে দোকান রয়েছে ৮’শ ৭৪টি। হকারদের এ মার্কেট কালের বিবর্তনে উচ্চ বিত্তদের মার্কেটে পরিণত হয়েছে। ব্যবসার ধরনের পরিবর্তন এলেও এখনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত জহুর হকার মার্কেট। এরমধ্যে ৭৪টি দোকান সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী নিয়ন্ত্রণে। এসব দোকান থেকে সিটি কর্পোরেশন কোন রাজস্ব পায় না।

একসময় দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী শীতবস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতো বিদেশ থেকে আমদানি করা পুরনো কাপড়। এসব শীতবস্ত্র বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ ছিল নগরীর জহুর মার্কেট। পুরনো শীতের কাপড় কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জহুর মার্কেটে ভিড় জমাতেন। জহুর মার্কেটের সহস্রাধিক দোকানে এসব কাপড় বিক্রি হতো। তবে এখন জহুর হকার মার্কেটে পুরনো শীতবস্ত্রের আগের সেই অবস্থা নেই। মার্কেটের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে গুটিকয়েক দোকানে সীমিত আকারে আমদানি করা পুরনো কাপড় বিক্রি হয়ে থাকে। এসব কাপড়ের চাহিদাও কমে গেছে। জহুর হকার মার্কেট থেকে পুরাতন কাপড় নিয়ে জেলার বিপুল জনসমাগমপূর্ণ বাজারগুলোতে বিক্রি করতেন খুচরা বিক্রেতা ও পাইকাররা। ব্যবসায়ীরা জানান, এখন আগের মতো মাসের পর মাস শীতের আমেজ থাকে না। তাই শীতবস্ত্রের চাহিদাও কমে গেছে। আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, পুরাতন কাপড় আমদানি ব্যবসা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অনেকেই এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। পৌরজহুর হকার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন বাবুল জানান, আটটি দোকান দিয়ে যাত্রা শুরু করা জহুর হকার মার্কেটে বর্তমানে দোকানের সংখ্যা ৮২৪টি। বঙ্গবন্ধু সরকারের শ্রমমন্ত্রী প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরীর নামে নামকরণ করা জহুর হকার মার্কেটের যাত্রা শুরু মাত্র ৮টি দোকান নিয়ে। ১৯৭৩ সালে উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বাসন করতে হকার মার্কেট প্রতিষ্ঠা করা হয়। হকারদের মানবিক দিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের খাস জমির উপর মার্কেটটি নির্মিত হয়। ১৯৭৭ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে উচ্ছেদকৃত হকার সমিতি নামে একটি সমিতি নিবন্ধিত হয়। ১৯৮৮ সালে সাবেক মেয়ার মহিউদ্দিন চৌধুরী পৌর জহুর হকার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি নামে নতুন একটি সমিতি নিবন্ধিত হয়। আটটি দোকানের সেই মার্কেট ৮’শ দোকান নিয়ে এক প্রকাশ মহীরুহ। শুরু থেকে গত ৭/৮ বছর আগেও এ মার্কেট ছিল নি¤œবিত্তদের মার্কেট। কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই অবস্থা পাল্টে জহুর হকার মার্কেট এখন মধ্যবিত্তদের ছাপিয়ে গেছে। উচ্চবিত্তরাও এখানে সমানতালে আসছেন কেনাকাটা করতে। কারণ হকার মার্কেটের আগের সেই পরিবেশ এখন নেই। এখানকার দোকানপাটগুলোর আগেকার জীর্ণশীর্ণ সেই দশা নেই। লাখ লাখ টাকা খরচ করে অধিকাংশ দোকানকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয় ওইসব দোকানে জামা কাপড়েরও কমতি নেই।

দোকানের সাজগোজ যেহেতু বদলানো হয়েছে সেকারণে দামও আগের অবস্থায় নেই। এককালের গরীবের মার্কেটে বিক্রেতাদের দাম হাঁকানি দেখলে মনে হয় এটা ধনীদেরই মার্কেট। দামের দিক দিয়ে অন্যান্য মার্কেটের কাপড়চোপড়ের দামের তুলনায় উনিশ বিশ অবস্থা এখানকার। তবে এখানে পাওয়া যায় সবকিছু। যেমন বড়দের শার্ট, নরমাল প্যান্ট, জিন্সের প্যান্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবী, পায়জামা, লুঙ্গি। ছোটদের শার্ট, গেঞ্জি, প্যান্ট, পাঞ্জাবী, পায়জামা ও বেল্টসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র। মেয়েদের সেলোয়ার, কামিজ, থ্রি পিসসহ প্রয়োজনীয় পোশাকআশাক রয়েছে। এ মার্কেটে বাচ্চাদের বাহারি পোশাকের সমাহার চোখে পড়ার মতো। অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় জহুর মার্কেটে বাচ্চাদের কাপড়ের দাম অনেকটাই সহনীয়। এ মার্কেটে পুরো একটা বড় গলি জুড়ে রয়েছে শতাধিক প্যান্ট শার্ট সেলাই এর দোকান। এখানে বিভিন্ন মানের কাপড়ের সমাহার আছে।

The Post Viewed By: 224 People

সম্পর্কিত পোস্ট