চট্টগ্রাম সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ | ৬:১৩ পূর্বাহ্ন

ইমরান বিন ছবুর

চট্টগ্রামে ৯৯৬টি শিক্ষক পদ শূন্য

চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে শিক্ষক সংকটে ভুগছে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জেলার ১৪ উপজেলায় শিক্ষকের সংখ্যা ১২ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা হচ্ছে ৯৪০টি। মোট ৯১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষক সংখ্যা ১৬ হাজার ৩০০ জন। যার বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে ৯৯৬টি। শিক্ষক সংকটের ফলে শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। উপজেলাগুলোতে শিক্ষকদের নিয়োগ হলে পরে পছন্দমত শহর ও আশপাশের উপজেলাতে চলে আসেন। ফলে শিক্ষক সংকটে ভোগে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

জেলা ও শিক্ষা অফিসে খোঁজ নিয়ে যায়, নগরীতে ৩ হাজার ৫২০ জন শিক্ষকের বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে ৫৬টি। তবে ১৪ উপজেলার ১২ হাজার ৭৮০ জন শিক্ষকের বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা ৯৪০টি। এছাড়া, শহর ঘেষে গড়ে উঠা কর্ণফুলী উপজেলায় ৫১৪ জন শিক্ষকের বিপরীতে একটিও শূন্য পদ নেই। সীতাকু- উপজেলায় ৭৪৫ জন শিক্ষক রয়েছে। সেখানে শূন্য পদের সংখ্যা মাত্র ৫টি এবং পটিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৫৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে মাত্র ৯টি।

এ শূন্য পদের কারণ জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজীম শরীফ জানান, যথাসময়ে নিয়োগ না হওয়া ও অবসরে যাওয়ার কারণে এসব শূন্য পদের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অনেকে ভালো চাকুরি পেয়ে চলে যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কলেজ ও ব্যাংক জয়েন্ট করেছে। ফলে তাদের পদগুলো শূন্য হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, আমাদের নিয়োগে বেশ কিছুদিন ধরে সমস্যা ছিল। এখন মামলা জটিলতা কেটে গেছে। আমরা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরটিএ) তে শূন্য পদের তালিকা পাঠিয়েছি। আগামী জানুয়ারির মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, নগরীতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২০ জন। এরমধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৫৬টি। বাঁশখালী উপজেলার ৭৪০টি পদের মধ্যে ৭৬টি শূন্য পদ রয়েছে। আনোয়ারা উপজেলায় ৫৬১টি পদের মধ্যে শূন্য পদ ৫৩টি। বোয়ালখালী উপজেলায় ৬১৭টি পদের মধ্যে ৩৭টি শূন্য পদ রয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলায় ৭২২টি পদের মধ্যে ২৬টি শূন্য পদ রয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলায় ১ হাজার ১৫২টি পদের বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা ১২৭টি। হাটহাজারী উপজেলায় ৫৭টি শূন্য পদ রয়েছে। যেখানে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ১ হাজার ২০৫টি। তবে কর্ণফুলী উপজেলায় ৫১৪টি পদের মধ্যে একটিও শূন্য পদ নেই।

এছাড়া, সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে মিরসরাই উপজেলায়। সেখানে ১ হাজার ৫৯ পদের বিপরীতে ১৪৭টি শূন্য পদের সৃষ্টি হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলায় ৭২৬টি পদের মধ্যে ৭১টি শূন্য পদ রয়েছে। পটিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৫৫টি পদের বিপরীতে শূন্য পদ রয়েছে মাত্র ৯টি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মোট শিক্ষকের সংখ্যা ১ হাজার ৫ জন। এরমধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৮১টি। রাউজান উপজেলায় ১ হাজার ১৮২টি পদের মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে ৪০টি। সন্দ্বীপ উপজেলায় ৪৮২ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭০টি শূন্য পদ রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় ১ হাজার ১৫ জন শিক্ষক রয়েছে। সেখানে শূন্য পদের সংখ্যা হচ্ছে ১৪১টি এবং সীতাকু- উপজেলায় ৭৪৫ জন শিক্ষক রয়েছে। সেখানে শূন্য পদের সংখ্যা মাত্র ৫টি।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জসিম উদ্দিন আগামী জানুয়ারীর মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে উল্লেখ বলে বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই শূন্য পদগুলো পূরণ হবে এবং আগামী জানুয়ারীর মধ্যে নিয়োগ পক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

The Post Viewed By: 77 People

সম্পর্কিত পোস্ট