চট্টগ্রাম রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ | ৬:০৫ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক হ

হাসি ঠাট্টা ও উল্লাসে মেতে ওঠেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

চবি’র প্রথম পুনর্মিলনী ষ পুরোনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে সবার চোখমুখ উচ্ছ্বাস-উল্লাসে টইটম্বুর ষ বর্তমান উপাচার্য ও সাবেক চার উপাচার্যকে সম্মাননা প্রদান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরকলরোলে মুখর নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারের ভেতরে ও বাইরে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে দল পাকিয়ে হাসি ঠাট্টা ও উল্লাসে মেতেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। প্রথম দেখায় বোঝার বালাই নেই এটি বিশ-বাইশ বছরের তরুণ-তরুণী নাকি পঞ্চাশোর্ধ বয়সীদের আড্ডা। পুরোনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে সবার চোখেমুখ উচ্ছ্বাস ও উল্লাসে টইটম্বুর। সবাই ফিরে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পুরোনো দিনে। অনেক দিনের জমানো কথা বলার সুযোগ পেয়ে পুরোনো বন্ধুদের সাথে আড্ডা ছাড়া আর কিছুই বুঝতে চাইছেন না কেউ। হৈ হুল্লোড়, চিৎকার আর চেঁচামেচিতে মত্ত সবাই। কত হাসি-কান্না আর কত তিক্ত-মধুর স্মৃতি প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসকে ঘিরে। জমানো সেই কথা বলে ফেলার যেন সুবর্ণ সুযোগ এই মিলনমেলা।

তাইতো মেতে ওঠেন উল্লাসে। গতকাল (শুক্রবার) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের দুই দিনব্যাপী প্রথম পুনর্মিলনী উৎসবের শেষ দিনে এমন চিত্র দেখা গেছে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে। উৎসবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ওড়ানো ও হাজারো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। সকাল ১০টায় এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। এসময় উপস্থিত ছিলেন এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম, প্রথম পুনর্মিলনীর আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, সদস্য সচিব মো. গিয়াস উদ্দিনসহ এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রায় আট হাজার সদস্য। দুপুরে অনুষ্ঠানের এক পর্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ও সাবেক চার উপাচার্যকে সম্মাননা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই

এসোসিয়েশন। সম্মাননাপ্রাপ্ত উপাচার্যরা হলেন, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক বদিউল আলম, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ, অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। এসময় প্রাক্তন উপাচার্যরা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। ত্ারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমরা গর্বিত। সদ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই এসোসিয়েশনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম, প্রথম পুনর্মিলনীর আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও সদস্য সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন।

এর আগে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন কামরুল হাসান হারুন। নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২ পর্যন্ত চলে আলোচনা ও স্মৃতিচারণ।

এরপর বিকেল ৩টায় নৃ-গোষ্ঠীর সম্মিলিত নৃত্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। পর্যায়ক্রমে ছিল সাবেক শিক্ষার্থীদের নানা পরিবেশনা। সাবেক শিক্ষার্থী শাহ সেলিমের গলায় ‘এই মুখরিত জীবনের’ গানটি সবার মধ্যে তারুণ্য ফিরিয়ে এনেছে। সাবেক শিক্ষার্থীরা সমস্বরে গেয়েছেন মান্নার ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’। ২৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের তৈরি থিম সং পুরো অনুষ্ঠান মাতিয়ে তোলে। এভাবে একে একে সাবেক শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন গান ও আবৃত্তি। রেনেসাঁ ব্যান্ডের সদস্য নকিব খানের সঙ্গীত পরিবেশনা দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।

এর আগে ‘প্রাণের উৎসবে, মাতি উল্লাসে’ স্লোগানে পুনর্মিলনী উৎসবের প্রথম পর্ব শুরু হয় বৃহস্পতিবার। ওইদিন বিকেলে চারুকলা ইনস্টিটিউট চত্বর থেকে র‌্যালি বের করে সংগঠনটির সদস্যরা। র‌্যালি শেষ হয় সিআরবি’র শিরীষ তলায়। পরে শিরীষ তলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুবর্ণ জয়ন্তীর পর এই আনন্দ শোভাযাত্রায় প্রত্যেকটি ব্যাচ ও প্রত্যেকটি বিভাগ অনুযায়ী আলাদাভাবে ব্যানার, ফেস্টুন, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে হরেক রকমের টি-শার্ট পরে নেচে গেয়ে আনন্দ করেছেন সবাই। শোভাযাত্রায় চবির সেই ঐতিহ্যবাহী শাটল ট্রেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছিল পুরো চারুকলা ক্যাম্পাস। শুধু ক্যাম্পাসই নয়, উৎসবের আমেজে সেজেছে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মোড়। পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়ায় আনন্দের জোয়ারে ভাসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনরা।

The Post Viewed By: 61 People

সম্পর্কিত পোস্ট